আন্তর্জাতিক ডেস্ক / দিগন্ত বাংলা নিউজ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাণ শিল্প এক বিশাল অর্জনের মুখোমুখি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ সরবরাহের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বা রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং তুরস্কের পক্ষ থেকে বড় আকারের বিমান ক্রয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বাণিজ্যিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি বিশেষ পোস্ট শেয়ার করে এই দিনটিকে বোয়িং কোম্পানির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে ভাষণের পরই নিউইয়র্ক ছাড়লেন নেতানিয়াহু
যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একচল্লিশতম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ফাঁকে এই যুগান্তকারী চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে সম্পাদিত এই নতুন সম্পূরক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সমৃদ্ধ করার জন্য অতিরিক্ত এক ডজন বা মোট এগারোটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চুক্তি অনুসারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাঁচটি বিশ্বমানের বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি আধুনিক মডেলের বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আরও পড়ুন: কামারখন্দে আধুনিক পদ্ধতিতে বিগবাইট তরমুজ চাষে সফল তরুণ উদ্যোক্তা রিপন
এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিজের অফিশিয়াল ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতি ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্যে বলেন, ‘বোয়িং ও আমেরিকান প্রস্তুতকারক খাতের জন্য বড় দিন! মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সহায়তার পর আজ তুরস্ক ও বাংলাদেশ মোট ১১টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এর সঙ্গে আরও ৫০টি বিমান কেনার বিকল্প সুযোগ রাখা হয়েছে।’ তাঁর এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
মার্কিন উৎপাদকদের উৎসাহিত করার নীতি এবং দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘এই হাজার হাজার কোটি ডলারের বিশাল বিক্রি ও বিপুল পরিমাণ মার্কিন রপ্তানি দেশজুড়ে আমাদের হাজার হাজার মার্কিনির কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে।’ মার্কিন অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও শ্রমশক্তি নির্ভর নীতির প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘বোয়িং এবং আমি যা শুরু থেকেই জানতাম, বাজার এখন সেটাই স্বীকার করছে। আপনি যখন আমেরিকায় তৈরি করবেন, আমেরিকা থেকে রপ্তানি করবেন এবং মার্কিন শ্রমিকদের সমর্থন জানাবেন, তখন আপনার প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বোয়িং ও তাদের অসাধারণ কর্মীদের অভিনন্দন!’
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়নে এই ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প উৎপাদক ও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিতেও এই চুক্তি নতুন গতি সঞ্চার করবে। দুই দেশের মধ্যকার এই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।