ফেসবুকে আইফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ডেকে নিয়ে পেশ ইমামকে মারধর ও ছিনতাই

ফেসবুকে আইফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ডেকে নিয়ে পেশ ইমামকে মারধর ও ছিনতাই

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি / নাটোর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতারক চক্র নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার এক নিবেদিতপ্রাণ পেশ ইমাম। নিজের ব্যবহৃত একটি ব্যবহৃত স্মার্টফোন বা আইফোন বিক্রির উদ্দেশ্যে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অপরাধেই তাকে অত্যন্ত সুকৌশলে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। ক্রেতা সেজে আসা দুর্বৃত্তরা ফোন যাচাইয়ের লোভ দেখিয়ে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে মারধর করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। এই রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় এই পরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণ ইমামের নাম সামিউল ইসলাম (২০)। তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার চরগোবিন্দপুর নতুনপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পারিবারিক পরিচয় অনুযায়ী, তিনি বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নের থানাইখাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহাদত হোসেনের সুযোগ্য পুত্র। সম্প্রতি তিনি তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের একটি আইফোন বিক্রির জন্য ফেসবুকে একটি অনলাইন বিজ্ঞাপন পোস্ট করেছিলেন। আর এই বিজ্ঞাপনটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ফেসবুকে দেওয়া ওই আইফোন ১৩ বিক্রির বিজ্ঞাপনটি দেখতে পেয়ে ঈশ্বরদীর হাসান আলী পরিচয়ে এক যুবক তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ওই যুবক তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি বড়াইগ্রামের নগর বাজারে উপস্থিত হন। সেখানে সামিউল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তারা ফোনটি হাতে নিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন এবং দামদর করেন। এরপর অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তারা মালিকানা ও আইএমইআই নম্বর অনলাইনে যাচাই করার কথা বলে সামিউলকে তাদের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন এবং বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাকে নিয়ে রওনা দেন।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা জোনাইল বাজারের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েন-জোনাইল আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। পথিমধ্যে চরগোবিন্দপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার কাছে পৌঁছালে সম্পূর্ণ নির্জন পরিবেশের সুযোগ নেয় তারা। এ সময় তারা সামিউল ইসলামকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং তার কাছে থাকা বহুমূল্যবান আইফোনটি কেড়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় পথচারী ও সচেতন মানুষ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী সামিউল ইসলাম তার ওপর ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত এই হামলার বর্ণনা দিয়ে অত্যন্ত আতঙ্কিত ও দুর্বল কণ্ঠে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ফোনটি যাচাইয়ের কথা বলে ওই দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে আমাকে জোনাইল বাজারের দিকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ফাঁকা বিল এলাকায় গেলে রাস্তার ওপর মোটরসাইকেলটি দাঁড় করিয়ে তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে তারা আমাকে মারধর করে এবং আইফোনটি কেড়ে নিয়ে চলে যায়। পুলিশকে ঘটনাটি জানিয়েছি।”

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে সুনির্দিষ্টভাবে জানান যে, এই ন্যক্কারজনক অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্তকরণ, তাদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জোরদার অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: দেশে আইনের শাসন ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন