যেকোনো ষড়যন্ত্র আমরা প্রতিহত করবো: ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যেকোনো ষড়যন্ত্র আমরা প্রতিহত করবো: ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সমৃদ্ধি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা: ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ঘোষণা, 'যেকোনো ষড়যন্ত্র আমরা প্রতিহত করবো'

রাজনৈতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

​বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, টেকসই কৃষি বিপ্লব এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয় নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের মালিকানা ও ভাগ্য পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি যে সাধারণ জনগণের হাতে, সেই চিরন্তন সত্যকে পুনরুল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কতিপয় মহলের কোনো ধরনের জনবিরোধী চক্রান্ত বা জলঘোলা করার অপচেষ্টা এ দেশের সচেতন মানুষ আর সফল হতে দেবে না। দেশের মানুষের স্বার্থ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো মূল্যে সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নসাৎ করা হবে।

​শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় স্থানীয় ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল ও ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব জাগরণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

​ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর সফর: ‘ধরার খাল’ পুনঃখননের অর্থনৈতিক ও কৃষিভিত্তিক গুরুত্ব

​বর্তমান সরকারের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করা এবং "কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ" নীতির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ত্রিশালের এই ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এই খালটি খননের ফলে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশগত ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

┌────────────────────────────────────────────────────────┐

│             'ধরার খাল' পুনঃখনন প্রকল্পের সুফল           │

├────────────────────────────────────────────────────────┤

│ ১. হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা │

│ ২. বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কৃত্রিম বন্যার হাত থেকে রক্ষা │

│ ৩. দেশীয় মাছ চাষের সম্প্রসারণ ও মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থান │

└────────────────────────────────────────────────────────┘

উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কেবল রাজধানী বা বড় বড় শহরের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রকৃত উন্নয়ন হলো গ্রামীণ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো। ধরা খালের পানি ব্যবহার করে স্থানীয় হাজার হাজার পরিবার তাদের ভাগ্য বদলাতে পারবে এবং এটিই বর্তমান উৎপাদনমুখী রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সামনে ইরানের দাবি মানা ছাড়া বিকল্প পথ নেই: তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

ট্রাম্পের সামনে ইরানের দাবি মানা ছাড়া বিকল্প পথ নেই: তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

​"এই দেশের আসল মালিক জনগণ": জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর মূল বক্তব্য

​ত্রিশালের কানহর এলাকার জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে জনগণের সর্বোচ্চ ক্ষমতার বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের একমাত্র এবং আসল মালিক হচ্ছে এ দেশের সাধারণ জনগণ। কোনো নির্দিষ্ট দল বা কতিপয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই দেশের ভাগ্যবিধাতা নয়। বিএনপি সরকার সেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য জনগণকে সাথে নিয়েই প্রতিটি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সফল করতে চায়।”

​তিনি বর্তমান সময়কে দেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একদিকে আমাদের সামনে মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির বড় সুযোগ এসেছে, যা আমাদের সফল করতেই হবে। কিন্তু অন্য দিকে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের গতিকে স্তব্ধ করতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়াচ্ছে। যারা দেশের সঠিক বিচার ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় এবং মানুষের কল্যাণে গৃহীত কর্মসূচিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি নাগরিককে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

​বিভ্রান্তি ও ছদ্মবেশী চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

​বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন:

  • ​কিছু মানুষ বা কতিপয় গোষ্ঠী এসে সমাজে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করতে চাবে, নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবে এবং তারা ভাববে যে তারা সফল হয়ে যাবে—এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।
  • ​বাংলাদেশের মানুষ অতীতে অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ছদ্মবেশী চক্রান্তকারীর পাতা ফাঁদে দেশের মানুষ আর পা দেবে না।

​তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,

​"যারা জনগণের সাথে থাকবে, জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবে এবং দেশের কল্যাণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবে—বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই প্রিয় মাতৃভূমিকে যেকোনো ধরনের দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করবে।"

​দেশ গড়ার কাজে অংশীদারিত্বের তত্ত্ব ও দেশপ্রেমের আহ্বান

​দেশকে একটি আধুনিক ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী এক অভিনব ‘অংশীদারিত্বের তত্ত্ব’ (Theory of Ownership and Partnership) তুলে ধরেন। তিনি উপস্থিত বিশাল জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নিজের ক্ষেত-খামার, নিজের ঘরবাড়ি মানুষ যেভাবে নিজের শ্রম, ঘাম এবং ভালোবাসা দিয়ে একটু একটু করে গড়ে তোলে—ঠিক একইভাবে এই দেশটাও আমাদের সকলের নিজের ঘরের মতো।

​তিনি বলেন, “এখানে আমরা যত মানুষ উপস্থিত আছি, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার যত নাগরিক আছেন, প্রত্যেকেই হচ্ছে এই স্বাধীন রাষ্ট্রের সমান অংশীদার, প্রত্যেকেই হচ্ছে এই দেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই, আমার নিজের ঘর যেভাবে আমাকেই পাহারা দিয়ে দেখতে হয়, ঠিক তেমনি আমাদের প্রিয় দেশটাকেও আমাদের নিজেদেরকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আমাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ আমরা নিজেরাই রক্ষা করবো। এর জন্য আমরা অন্য কারো ওপর ভরসা বা দয়া ভিক্ষা করবো না। যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেবো।”

​আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাধার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

​প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন (Rule of Law)। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

​তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি চক্র দেশে স্বাধীন আইনি প্রক্রিয়া এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথকে জটিল করার জন্য ক্রমাগত জলঘোলা করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন:

১. যারা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে দেয়াল বা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

২. আইন নিজের গতিতে চলবে এবং বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

৩. যারা সাধারণ মানুষকে আইনি বিষয় নিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর ময়মনসিংহের ভাষণ

​দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রিশালের এই বক্তব্যটি কেবল একটি সাধারণ খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা রয়েছে।

  • ​তৃণমূলের সাথে সংযোগ: প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ঢাকার বাইরে গিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খালের উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে তৃণমূলের জনগণের সাথে সরকারের সরাসরি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংযোগের বিষয়টি প্রমাণ করেছেন।
  • ​সার্বভৌমত্বের বার্তা: "যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো"—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক কোনো শক্তির চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সরকারের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
  • ​আইনের শাসন ও নৈতিক অবস্থান: যারা বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে বর্তমান সরকার দেশে একটি জবাবদিহিতামূলক ও সুশাসিত রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে শতভাগ আন্তরিক।

​উপসংহার

​ময়মনসিংহের ত্রিশালের এই বিশাল জনসভা এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া সুনির্দিষ্ট ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেশের আগামী দিনের রাজনীতির দিক নির্দেশ করে। 'ধরার খাল' পুনঃখনন যেমন স্থানীয় কৃষির জন্য আশীর্বাদ, তেমনি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দেশপ্রেম ও সতর্কতার ডাক দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বুস্টার। জনগণকে রাষ্ট্রের প্রকৃত অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এবং তাদের সাথে নিয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার এই রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার দেশকে এক নতুন ও সমৃদ্ধশালী দিগন্তের দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন দেশের সচেতন মহল।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন