ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চায় জামায়াত: বায়তুল মোকাররমে বিশাল বিক্ষোভ

ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চায় জামায়াত: বায়তুল মোকাররমে বিশাল বিক্ষোভ

আইন সংশোধনের দাবি: ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বায়তুল মোকাররমে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ

রাজনৈতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

​রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে নিষ্পাপ শিশু রামিশাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে এবং দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকায় এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশ থেকে দেশের বিদ্যমান আইন সংশোধন করে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি হিসেবে 'প্রত্যাশিত ও দৃষ্টান্তমূলক' হিসেবে "প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড" (Public Execution) ঘোষণার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

​গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটের সামনে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই নীতিগত ও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ না হলে দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

​বায়তুল মোকাররমে জামায়াতের সমাবেশ: মিয়া গোলাম পরওয়ারের মূল বক্তব্য 

​সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আজ স্বাধীন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। ঘরের ভেতরেও আমাদের সন্তানরা আজ নিরাপদ নয়। পল্লবীর অবুঝ শিশু রামিশার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো মানবতা ও আমাদের বাঙালি জাতির জন্য এক চরম লজ্জার বিষয়। এই জঘন্য অপরাধের বিচার কোনো সাধারণ বা দীর্ঘমেয়াদী আদালতে নয়, বরং জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।”

​তিনি আরও যোগ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধীদের মনে আইনের প্রতি কোনো ভয় নেই। তাই অপরাধ প্রবণতা রুখতে হলে রাষ্ট্রকে কঠোরতম সিগন্যাল দিতে হবে। প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে সাধারণ ফাঁসির পরিবর্তে 'প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড' কার্যকর করার বিধান যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

┌────────────────────────────────────────────────────────┐

│             জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের মূল দাবি           │

├────────────────────────────────────────────────────────┤

│ ১. বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত রায়    │

│ ২. আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড  │

│ ৩. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ │

└────────────────────────────────────────────────────────┘

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তোপ

​মিয়া গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের চরম নৈতিক অবক্ষয় ও যৌন লালসার কারণে আজ দেশের লক্ষ লক্ষ নারী ও শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পল্লবীর এই লোমহর্ষক ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে যেমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে ঢিলেমি দেখা গেছে, তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রধান রাজনৈতিক দলটিও তাদের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কোনো দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

​তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,

​"যদি দেশে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি (Culture of Impunity) দিনের পর দিন বজায় থাকে, তবে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। অপরাধীরা যখন দেখে যে অপরাধ করার পরও রাজনৈতিক পরিচয় বা অর্থশক্তির জোরে পার পাওয়া যায়, তখন সমাজ অবক্ষয়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়।"

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও দায় চাপানোর রাজনীতির সমালোচনা

​শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডকে মানবতার ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্টতম ও অসভ্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এই ঘটনায় পুরো দেশের বিবেকবান নাগরিক সমাজ আজ ব্যথিত ও শোকাহত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেবের বক্তব্যে জনগণের এই ব্যথার কোনো প্রতিফলন নেই।

​সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের গ্রাফ প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে কোনো বড় ধরনের ব্যর্থতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন। কিন্তু আমাদের দেশের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন, এখানে মন্ত্রীরা সবসময় নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দল বা অন্যের ওপর দায় চাপানোর সস্তা রাজনীতি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের ‘মব জাস্টিস’ বা অন্যকে বলির পাঁঠা বানানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

আরও পড়ুন: যেকোনো ষড়যন্ত্র আমরা প্রতিহত করবো: ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যেকোনো ষড়যন্ত্র আমরা প্রতিহত করবো: ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

​সভাপতির বক্তব্যে মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি’র জিরো টলারেন্সের আহ্বান

​প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি তাঁর সভাপতির ভাষণে বলেন, বর্তমান নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৩ মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু লোমহর্ষক ও রোমাঞ্চকর অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী ও দৃশ্যমান উন্নতির জন্য কোনো যুগান্তকারী বা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। যার ফলে অপরাধী চক্র ও সিন্ডিকেটগুলো প্রশ্রয় পেয়ে নারী ও শিশুদের ওপর নিপীড়ন প্রতিনিয়ত বাড়িয়েই চলেছে।

​নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন:

  • ​দেশের প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, জমি দখল, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও ফুটপাতে চাঁদাবাজির সঙ্গে ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী মহলের নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেন।
  • ​তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি সত্যিই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে "জিরো টলারেন্স" (Zero Tolerance) নীতি অবলম্বন করতে হবে। নিজের দলের অপরাধী হলেও তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।

​আইনি প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের বর্তমান আইন ও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিতর্ক

​জামায়াতে ইসলামীর ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়ার এই দাবিটি বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থার আলোকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয়। এই বিষয়ে দেশের প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

​১. বাংলাদেশের বর্তমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)

​২০২০ সালে দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’-এর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদণ্ড’ (Death Penalty) যুক্ত করে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের ফলে যদি ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটে, তবে অপরাধীর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর পাশাপাশি অর্থদণ্ড। তবে এই আইনে ‘প্রকাশ্যে’ বা জনসমক্ষে ফাঁসি কার্যকর করার কোনো আইনি ধারা বা বিধান নেই। বাংলাদেশের জেল কোড (Jail Code) অনুযায়ী, ফাঁসি সবসময় কারাগারের ভেতরে চার দেয়ালের মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে কার্যকর করা হয়।

​২. প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড বনাম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন

​বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ ( যেমন- সৌদি আরব, ইরান) এবং কিছু নির্দিষ্ট রাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য জনসমক্ষে বা প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নিয়ম রয়েছে। তবে জাতিসংঘ (UN) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো 'প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড' দেওয়ার বিষয়টিকে "অমানবিক, নিষ্ঠুর এবং মানব মর্যাদার পরিপন্থী" হিসেবে বিবেচনা করে এর তীব্র বিরোধিতা করে থাকে। বাংলাদেশের আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকাশ্যে ফাঁসি দিলে সমাজে অপরাধের ভয় তৈরি হতে পারে ঠিকই, তবে তা শিশুদের মানসিক বিকাশে এবং সমাজের সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে এক ধরনের নেতিবাচক ও সহিংস প্রভাব ফেলতে পারে।

​সমাবেশে অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও ক্ষোভ প্রকাশ

​ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সঞ্চালনা ও পরিচালনায় এই সমাবেশে দলের আরও অনেক কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

  • ​মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (আমির, ঢাকা উত্তর): তিনি বলেন, আমাদের বোনেরা আজ রাস্তায় বের হলে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে কিনা, সেই নিশ্চয়তা রাষ্ট্র দিতে পারছে না। এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
  • ​মোবারক হোসেন (কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য): তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জনগণের সেবক এবং অপরাধ দমনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
  • ​এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন (নায়েবে আমির, ঢাকা দক্ষিণ): একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি বলেন, ধর্ষণের মামলাগুলোর বিচার যেন কোনো টেকনিক্যাল লুপহোল বা কাগজের ভুলের কারণে নষ্ট না হয়, তা প্রসিকিউশন টিমকে নিশ্চিত করতে হবে।

​রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাপ্তি

​বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে বিশাল সমাবেশ শেষ হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর একটি বিশাল ও সুশৃঙ্খল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে স্টেডিয়াম পাড়া, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট এবং পল্টন মোড়ের মতো ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

​মিছিলে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে দেশজুড়ে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। মিছিলকারীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও শিশু হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা কাঁপিয়ে তোলেন। পরবর্তীতে মিছিলটি বিজয়নগর মোড়ে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। মিছিল চলাকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পল্টন ও গুলিস্তান এলাকায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন ছিল।

​উপসংহার ও সামাজিক বার্তা

​পল্লবীর শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ড কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি মূলত আমাদের সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়ের একটি চূড়ান্ত অ্যালার্ম। জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আইন সংশোধন করে ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড’র দাবি মূলত দেশের সাধারণ মানুষের ভেতরের তীব্র ক্ষোভেরই একটি রাজনৈতিক প্রতিফলন। সরকার এই দাবি মেনে আইন সংশোধন করবে কিনা তা ভিন্ন বিষয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের একমাত্র চাওয়া—অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে যেন কোনো রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করে বাঁচানো না হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্ত জঘন্য মামলার বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করাই হবে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার একমাত্র উপায়।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন