ব্রেকিং নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব আত্মসমর্পণের শামিল: সরাসরি নাকচ করে দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব আত্মসমর্পণের শামিল: সরাসরি নাকচ করে দিল ইরান

শান্তি প্রস্তাবে রাজি নয় তেহরান: যুক্তরাষ্ট্রের শর্তকে ‘আত্মসমর্পণ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর অবস্থান ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ

​মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ যখন আরও ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে সপাটে প্রত্যাখ্যান করল তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবটি মূলত ইরানের জন্য ‘আত্মসমর্পণের’ শামিল, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানে তেহরান এখন উল্টো মার্কিন প্রশাসনের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং জব্দ করা যাবতীয় সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় চলা শান্তি প্রক্রিয়া এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

​ইসমাইল বাঘেইর কড়া বার্তা ও ইরানের অবস্থান

​সোমবার (১১ মে, ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে (IRNA) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত 'দায়িত্বশীল ও উদার'। কিন্তু ওয়াশিংটন এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে যা ইরানের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।

​বাঘেই আরও যোগ করেন, "আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো বাড়তি সুবিধা বা ছাড় চাইনি। আমাদের দাবি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ—অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে যে 'সমুদ্রপথে জলদস্যুতা' বা আক্রমণ চালানো হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে।" ইরানের দাবি অনুযায়ী, শান্তি তখনই সম্ভব যখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং অবৈধভাবে জব্দ করা ইরানি অর্থ ফেরত দেবে।

আরও পড়ুন: মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, উন্নত চিকিৎসা চলছে। 

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, উন্নত চিকিৎসা চলছে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা ও কূটনীতি

​ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই ভয়াবহ উত্তেজনার মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। ইসমাইল বাঘেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান প্রধান 'মধ্যস্থতাকারী' (Mediator) হিসেবে কাজ করছে। পাকিস্তান উভয় দেশের কাছে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান করছে।

​বাঘেইর মতে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং ইরানও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়ে বলেন, "ইরান শান্তি চায়, তাই আমরা কূটনীতির পথ খোলা রেখেছি। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরা লড়াই করতেও দ্বিধা করব না।" উল্লেখ্য যে, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ এই প্রক্রিয়ায় মতামত দিচ্ছে, তবে আনুষ্ঠানিক সব যোগাযোগ পাকিস্তানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হচ্ছে।

​সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও হরমুজ সংকটের শুরু

​বর্তমান এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ভেতরে অতর্কিত বিমান হামলা চালায়। এই হামলার জবাবে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তারা ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর, যখন ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ করে দেয়।

​পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিলে বিশ্বের মনে আশার আলো জেগেছিল। কিন্তু তেহরানের বর্তমান প্রত্যাখ্যান সেই আশার ওপর বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

​ইরানের নতুন দাবি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

​ইরান এখন কেবল যুদ্ধবিরতি চায় না, তারা চায় দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। তেহরানের প্রধান দাবিগুলো হলো:

১. ক্ষতিপূরণ: হামলার ফলে ইরানের যে পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

২. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতের ওপর থেকে সব ধরণের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

৩. হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব: এই জলপথের ওপর ইরানের একক ও পূর্ণ আইনি শাসন মেনে নিতে হবে।

​হোয়াইট হাউজ এখন পর্যন্ত ইরানের এই নতুন শর্তগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত ইরানের এই শর্তগুলো মেনে নেবে না, যা পরিস্থিতিকে আবার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হাতে কি এলিয়েনদের গোপন তথ্য? হার্ভার্ড অধ্যাপকের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়।

ট্রাম্পের হাতে কি এলিয়েনদের গোপন তথ্য? হার্ভার্ড অধ্যাপকের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়।

১. ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত মানেই বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা। এই খবরটি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ পাঠকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

২. পাকিস্তানের কূটনীতি: দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে পাকিস্তানের এই শক্তিশালী কূটনৈতিক ভূমিকা আঞ্চলিক পাঠকদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল তৈরি করবে।

৩. ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্ব: একটি দেশ কীভাবে পরাশক্তির চাপ মোকাবিলা করে নিজের স্বার্থ রক্ষা করছে, তা নিয়ে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

​উপসংহার

​ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই লড়াই এখন আর কেবল সামরিক নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে ইরান বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো অসম চুক্তিতে সই করবে না। এখন দেখার বিষয়, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অচলাবস্থা নিরসনে নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করেন কি না।

​'দিগন্ত বাংলা নিউজ' মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রতিটি মুহূর্তের খবর এবং এর প্রভাব নিয়ে আপনাদের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর। বিশ্বশান্তি বা মহাযুদ্ধ—কোন পথে যাচ্ছে পৃথিবী? তা জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

​তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) এবং আল জাজিরা।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন