রক্তাক্ত নাইজেরিয়া: ব্যস্ত বাজারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত অন্তত ১০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক ভয়াবহ বিমান হামলায় একটি ব্যস্ত বাজারে অন্তত ১০০ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) এই ভয়াবহড় হতাহতের খবর নিশ্চিত করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুত্বর আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার জামফারা রাজ্যের জুরমি জেলার দুর্গম ‘তূমফা’ বাজারে এই নারকীয় হামলা চালানো হয়। সাপ্তাহিক বাজার হওয়ায় ওই সময় সেখানে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরের দিকে একাধিক সামরিক বিমানকে ওই এলাকার আকাশে চক্কর দিতে দেখা যায়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানগুলো পুনরায় ফিরে এসে জনাকীর্ণ বাজারটি লক্ষ্য করে অতর্কিত বোমা বর্ষণ শুরু করে।
মুহূর্তের মধ্যে সাজানো বাজারটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। আহতদের জুরমি এবং নিকটবর্তী শিনকাফি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সামরিক বাহিনীর নীরবতা ও আগের প্রেক্ষাপট
এই নৃশংস হামলার বিষয়ে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এর আগে একই ধরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা দাবি করেছিল যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেবল ‘জঙ্গি আস্তানা’ লক্ষ্য করেই তারা অভিযান চালায়।
উল্লেখ্য যে, এটি এক মাসের ব্যবধানে উত্তর নাইজেরিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর দ্বিতীয় বড় ধরণের প্রাণঘাতী হামলা। এর আগে গত এপ্রিলে জিলি এলাকায় এক সাপ্তাহিক বাজারে একই ধরণের বিমান হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিলেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
নৃশংসতার চরম মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল বর্তমানে বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র দস্যু বাহিনী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা ইসলামি বিদ্রোহ দমনে লড়াই করছে দেশটির সেনাবাহিনী। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে (বিদ্রোহী, দস্যু ও সামরিক বাহিনী) সাধারণ গ্রামবাসীদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
সংস্থাটি এই বিমান হামলাকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এ ধরনের ঘটনা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। গত বছর বড়দিনে নাইজেরিয়ায় ইসলামি উগ্রপন্থীদের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলার পরই ওই অভিযান পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ বিরতি এখন লাইভ সাপোর্টে: ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি
এই সংবাদের গভীরতা কেন জরুরি?
১. মানবাধিকার সংকট: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্বব্যাপী পাঠকদের সংবেদনশীলতাকে নাড়া দেয়, যা নিউজের রিচ বাড়াতে সাহায্য করে।
২. আঞ্চলিক অস্থিরতা: নাইজেরিয়ার এই অস্থিরতা পরোক্ষভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও অভিবাসন সংকটে প্রভাব ফেলে।
৩. বস্তুনিষ্ঠতা: প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা আপনার পোর্টালের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
উপসংহার
যুদ্ধের নামে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরানো কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। নাইজেরিয়ার এই রক্তক্ষয়ী বিমান হামলা বিশ্ব বিবেককে পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একটি জনাকীর্ণ বাজার যেখানে মানুষ তাদের রুটিরুজির জন্য সমবেত হয়, সেখানে এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
'দিগন্ত বাংলা নিউজ' বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের এমন মানবিক সংকটের খবর এবং সত্য ঘটনা আপনাদের সামনে পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। নাইজেরিয়া পরিস্থিতির পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
তথ্যসূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।