সোমবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার বৈঠক

সোমবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইসলামাবাদে ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | দিগন্ত বাংলা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত কয়েক দশকের ভূ-রাজনৈতিক বৈরিতার বরফ গলিয়ে এই আলোচনার টেবিলে বসা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ইসলামাবাদে আলোচনার প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতি

ইরানের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, আলোচনার সুবিধার্থে এবং নিরপেক্ষ স্থল হিসেবে পাকিস্তানকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রবিবারই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এক চূড়ান্ত প্রচেষ্টা।

প্রথম দফার আলোচনার রেশ ও প্রত্যাশা গত শনিবার ইসলামাবাদেই দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে শক্তিশালী নেতৃত্ব দেন দেশটির স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। যদিও সেই প্রথম বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা ‘ব্রেকথ্রু’ অর্জিত হয়নি, তবুও উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে কূটনৈতিক মহল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উভয় দেশ দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পথ পরিহার করে সমাধানের পথে হাঁটতে সম্মত হয়েছে।

রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ও যুদ্ধবিরতির পথচলা

টানা ৪০ দিনের ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সক্ষম হয়। এই যুদ্ধবিরতির পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে ওয়াশিংটনের প্রচণ্ড কূটনৈতিক চাপকে দায়ী করা হচ্ছে। এই চাপের মুখেই ইসরায়েল বাধ্য হয়ে ইরানে তাদের সামরিক হামলা বন্ধ ঘোষণা করে। একই ধারাবাহিকতায় লেবাননের সাথেও ইসরায়েলের ১০ দিনের একটি পৃথক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে, যা গোটা অঞ্চলের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটিয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুর পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে সর্বোচ্চ লুট: চাঞ্চল্য

শাহজাদপুর পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে সর্বোচ্চ লুট: চাঞ্চল্য

দ্বিতীয় দফার বৈঠকের মূল এজেন্ডা

সোমবারের বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে: ১. যুদ্ধবিরতির স্থায়ী রূপরেখা: বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে কীভাবে স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করা যায় তা নির্ধারণ করা। ২. অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা যাতে সৃষ্টি না হয়, তার জন্য অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা। ৩. আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান আস্থার সংকট কাটিয়ে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায় তার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।

বিশ্লেষকদের মতামত: শান্তির পথে কাঁটা কী কী?

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে চলে আসা শত্রুতা রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা—এ বিষয়গুলো আলোচনার মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে ইসলামাবাদ বৈঠক যদি সফল হয়, তবে তা বিশ্বরাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতা এবং দুই পক্ষের নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি শান্তির সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলেছে।

শান্তি কি আদৌ স্থায়ী হবে? বিশ্ববাসীর নজর এখন ইসলামাবাদের বৈঠকের দিকে। যদি সোমবারের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসবে। দিগন্ত বাংলা নিউজের পক্ষ থেকে আমরা এই শান্তি প্রক্রিয়ার সাফল্য কামনা করছি।

1 মন্তব্যসমূহ

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন