সাভারে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন: শেখ হাসিনার বুকে সাহস থাকলে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করুক, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা
সাভার প্রতিনিধি (দিগন্ত বাংলা নিউজ):
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিগত সরকারের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এক অত্যন্ত কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বুকে যদি সত্যি কোনো সাহস থেকে থাকে, তবে তিনি যেন অবিলম্বে দেশে ফিরে এসে আদালতের মুখোমুখি হন এবং আত্মসমর্পণ করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকও চায় যে তিনি বুক ফুলিয়ে দেশে ফিরে আসুক এবং তাঁর কত সাহস তা দেশের মানুষ দেখুক।
বুধবার (২০ মে) সকালে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পশ্চিম ব্যাংক টাউন এলাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তিদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন এবং প্রকল্প পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আমাদের বিশেষ নিউজ পোর্টাল 'দিগন্ত বাংলা নিউজ'-এর সাভার প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় সেখানে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়, যখন এক অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে সভাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
৫ আগস্টের প্রসঙ্গ ও আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "বিগত ৫ আগস্টে দেশের সাধারণ মানুষের তীব্র আন্দোলনের মুখে ওনার (শেখ হাসিনা) কতটুকু সাহস ছিল, তা পুরো বিশ্ব দেখেছে। উনি যেভাবে আকস্মিকভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, এরপর তিনি কোন মুখে এবং কীভাবে দেশে ফিরবেন, তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে।"
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন:
সাভারে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর বিশেষ উক্তি
"আমরাও তো চাই উনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরে আসুক। উনি দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ফেস করুক, ফেস করে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করার চেষ্টা করুক। দেশের স্বাধীন আদালত যদি বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ওনাকে সমস্ত মামলা থেকে খালাস দেয়, তবে তিনি মুক্ত হয়ে যাবেন। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বুক ফুলিয়ে দেশে আসার মতো সাহস ওনার আছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।"
আরও পড়ুন: আল-আকসার কাছে ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি দখল করছে ইসরাইল: জেরুজালেম 'ইহুদিকরণ'-এর চূড়ান্ত ছক
দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' ও সাভারের নজিরবিহীন ঘটনা
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্মাণাধীন এই মেগা প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি দেখতে এসে বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি ঘোষণা করেছে। দেশের জনগণের টাকার অপচয় বা আত্মসাৎ করে কেউ পার পাবে না, সে যত বড় কর্মকর্তাই হোক না কেন।
ঠিক এই সময়েই প্রকল্প পরিচালক (PD) আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই সাভারের ব্যাংক টাউন প্রকল্প এলাকায় এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মন্ত্রী যখন গণমাধ্যমের সামনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন পর্যালোচনা মিটিংয়ে অংশগ্রহণ না করে বা সাংবাদিকদের কোনো জবাব না দিয়ে, তড়িঘড়ি করে নিজের সরকারি গাড়ি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে দ্রুত পালিয়ে যান।
প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্তের নির্দেশ
অভিযুক্ত কর্মকর্তার এভাবে সভাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপস্থিত সকলের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন যে, পালিয়ে গিয়ে কেউ পার পাবে না। তিনি বলেন, "এই প্রকল্পের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন যদি বিন্দুমাত্র কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
একই সাথে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কোনো একক ব্যক্তির দুর্নীতির দায় সরকার নেবে না। এই আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হেরিটেজ। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ স্বচ্ছতা বজায় রেখে শেষ করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পর্যালোচনা সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
দিগন্ত বাংলা নিউজ জানতে পেরেছে যে, সাভারের পশ্চিম ব্যাংক টাউন এলাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্মাণাধীন এই বৃহৎ ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠ, প্রশাসনিক ভবন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সশরীরে পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে আয়োজিত বিশেষ পর্যালোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের (PWD) উর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নিয়ে প্রকল্পের কারিগরি দিক ও বাজেট নিয়ে আলোচনা করেন।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার বিগত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সাথে সাভারের ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রকল্পের পরিচালকের সভাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সরকারি দপ্তরগুলোতে এখনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের প্রভাব রয়ে গেছে, যাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের প্রতিটি লাইভ ব্রেকিং আপডেট সবার আগে নির্ভুলভাবে জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন 'দিগন্ত বাংলা নিউজ'।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।