ইউরোপ ধ্বংসের হুমকি রাশিয়ার: জার্মানির শিল্প ও সভ্যতা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা

ইউরোপ ধ্বংসের হুমকি রাশিয়ার: জার্মানির শিল্প ও সভ্যতা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা

‘ইউরোপীয় সভ্যতার সমাপ্তি ঘটবে’: জার্মানি ও ইইউ-কে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিলেন মেদভেদেভ

​আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ

​বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার সরাসরি ইউরোপ মহাদেশ ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, যদি রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে কোনো সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে তার ফলাফল হবে প্রলয়ংকরী। এই যুদ্ধে জার্মানির বিশ্বখ্যাত শিল্পখাত পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে এবং এর ফলে সমগ্র ইউরোপীয় সভ্যতার অস্তিত্বই চিরতরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

​বিজয় দিবসের প্রাক্কালে রাশিয়ার রণহুঙ্কার

​গত বুধবার (০৬ মে, ২০২৬), নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরটি-তে (RT) প্রকাশিত এক নিবন্ধে মেদভেদেভ এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তার এই নিবন্ধটি মূলত জার্মানির সাম্প্রতিক সামরিকীকরণ এবং রাশিয়ার প্রতি ইউরোপের বৈরী আচরণের প্রতিক্রিয়ায় লেখা হয়েছে।

​মেদভেদেভ তার লেখায় উল্লেখ করেন, “জার্মান নেতৃত্বের প্রতি আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। যদি পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ বা চরম আকার ধারণ করে, তবে পারস্পরিক ধ্বংস নিশ্চিত। এতে ইউরোপীয় সভ্যতার হাজার বছরের ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটতে পারে। যদিও রাশিয়া তার নিজস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবে, কিন্তু ইউরোপের জন্য তা হবে শেষ অধ্যায়।”

আরও পড়ুন: ইসরায়েলকে হুমকি দিলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে: কঠোর হুশিয়ারি নেতানিয়াহুর।

ইসরায়েলকে হুমকি দিলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে: কঠোর হুশিয়ারি নেতানিয়াহুর।

​জার্মান অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার হুমকি

​জার্মানিকে লক্ষ্য করে মেদভেদেভ বলেন, দেশটির গর্বের শিল্পখাত এবং শক্তিশালী অর্থনীতি রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু হবে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের ফলে জার্মানির অর্থনীতি এমনভাবে ভেঙে পড়বে যে সেখান থেকে আর কোনোদিন ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, তখন জার্মানির দক্ষ ও মেধাবী লোকজন প্রাণ বাঁচাতে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন অথবা এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।

​তার মতে, এই ভয়াবহ পরিণতির কথা এখনই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ এর মাধ্যমে নাৎসিদের উত্তরসূরি এবং তাদের বর্তমান মিত্রদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানো সম্ভব হতে পারে, যা ভবিষ্যতে লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে।

​ইউরোপের সামরিকীকরণ ও ‘অপারেশন বারবারোসা ২.০’

​মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেপরোয়া সামরিকীকরণের সমালোচনা করে আসছে। রাশিয়ার অভিযোগ, পশ্চিমা দেশগুলো অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে জনগনের মনোযোগ সরাতে রাশিয়াকে একটি ‘আদর্শ শত্রু’ হিসেবে চিত্রিত করছে।

​মেদভেদেভ জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎজের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে চ্যান্সেলর জার্মান সেনাবাহিনীকে ‘ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের মধ্যে ৪ লাখ ৬০ হাজার যুদ্ধপ্রস্তুত সেনা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০৩৯ সাল হবে অ্যাডলফ হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের ১০০ বছর পূর্তি, যা রাশিয়ার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

​মেদভেদেভ এই সামরিক প্রস্তুতিকে ‘অপারেশন বারবারোসা ২.০’ (নাৎসিদের রাশিয়া আক্রমণের কোড নেম) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র আলোচনা বা সদিচ্ছা দিয়ে গণহত্যা ঠেকানো যায় না। একমাত্র পথ হলো জার্মানি এবং ঐক্যবদ্ধ ইউরোপকে এটি বুঝিয়ে দেওয়া যে, তারা যদি রাশিয়ার দিকে হাত বাড়ায়, তবে তাদের ভয়াবহ এবং অগ্রহণযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।”

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে রক্তক্ষয়ী নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা: ৪ জনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার শতাধিক।

পশ্চিমবঙ্গে রক্তক্ষয়ী নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা: ৪ জনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার শতাধিক।

রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যকার এই বাকযুদ্ধ কেবল কথার লড়াই নয়, বরং এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিচ্ছে। নিউজ পোর্টাল হিসেবে আমাদের এই সংবাদের গভীরতা বুঝতে হবে।

​কেন এই সংবাদটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল?

১. সভ্যতার ঝুঁকি: একটি উন্নত মহাদেশের সভ্যতা ধ্বংসের কথা যখন কোনো পরমাণু শক্তিধর দেশের শীর্ষ নেতা বলেন, তখন তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বড় ধরণের কম্পন সৃষ্টি করে।

২. অর্থনৈতিক প্রভাব: জার্মানি ইউরোপের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন। তাদের শিল্প ধ্বংসের হুমকি মানে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার আগাম বার্তা।

৩. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকীতে এই ধরণের মন্তব্য ঐতিহাসিক ক্ষোভ ও জাতীয়তাবাদের বহিঃপ্রকাশ।

​উপসংহার

​দিমিত্রি মেদভেদেভের এই কঠোর মন্তব্য প্রমাণ করে যে, মস্কো ও বার্লিনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন আর কেবল কূটনৈতিক শীতলতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি হুমকির পর্যায়ে চলে গেছে। ইউরোপের সাধারণ মানুষ এখন শঙ্কিত যে, ক্ষমতার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কত বড় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনে।

​'দিগন্ত বাংলা নিউজ' সর্বদা বিশ্ব রাজনীতির এসব গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ খবর আপনাদের সামনে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক নেতাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।

 'দিগন্ত বাংলা নিউজ' সর্বদা বিশ্ব রাজনীতির এসব গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ খবর আপনাদের সামনে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক নেতাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।

​তথ্যসূত্র: আরটি (RT) নিউজ এবং রাশিয়ান নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন