ইসরায়েলকে হুমকি দিলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে: কঠোর হুশিয়ারি নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলকে হুমকি দিলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে: কঠোর হুশিয়ারি নেতানিয়াহুর

‘কোনো সন্ত্রাসীর দায়মুক্তি নেই’: ইসরায়েলকে হুমকিদাতাদের জীবন ঝুঁকির মুখে বলে জানালেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ

​মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে শত্রুদের উদ্দেশ্যে নতুন করে চরম হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যারা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে হুমকি দেবে বা এর নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাবে, তাদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​নেতানিয়াহুর ভিডিও বার্তা ও চরম হুশিয়ারি

​গত বুধবার এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, "আমি আমাদের শত্রুদের এবং যারা আমাদের ক্ষতি করতে চায়, তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে বা হুমকি দিয়ে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো সন্ত্রাসীর জন্য কোনো দায়মুক্তি (Impunity) নেই। যারা ইসরায়েলকে হুমকি দেবে, তারা মূলত নিজেদের জীবনকেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দেবে।"

​তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সংকল্পের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে রক্তক্ষয়ী নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা: ৪ জনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার শতাধিক।

পশ্চিমবঙ্গে রক্তক্ষয়ী নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা: ৪ জনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার শতাধিক।

​হিজবুল্লাহ কমান্ডারের মৃত্যু ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

​সম্প্রতি লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে এক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর এলিট 'রাদওয়ান ইউনিটের' অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার আহমদ বালুত নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে সরাসরি মন্তব্য করেন।

​নেতানিয়াহু বলেন, "সে (আহমদ বালুত) হয়তো সংবাদমাধ্যমে পড়েছিল যে বৈরুতে তার জন্য বিশেষ দায়মুক্তি আছে এবং সেখানে সে নিরাপদ। কিন্তু এখন পৃথিবী দেখেছে যে আর কারো জন্য এমন কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই।" ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, আহমদ বালুত বৈরুতের গোপন ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত সংলগ্ন বসতিগুলোর ওপর নিয়মিত হামলা পরিচালনা করে আসছিলেন।

​গাজা ও যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ইসরায়েলি অবস্থান

​যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি আলোচনা কার্যকর থাকলেও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনো গাজায় হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। তবে এসব অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে না বলে তিনি অদ্ভুত দাবি করেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্বিমত রয়েছে।

​নেতানিয়াহুর মতে, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে তারা যেকোনো কঠিন পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

আরও পড়ুন: হয় চুক্তি, না হয় বোমা: ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি।

হয় চুক্তি, না হয় বোমা: ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে। নেতানিয়াহুর এই ধরণের আক্রমণাত্মক বক্তব্য বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে।

​কেন এই সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ?

১. নিরাপত্তা ঝুঁকি: নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য হুমকি লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে যুদ্ধের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

২. কূটনৈতিক প্রভাব: ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও এই ধরণের বক্তব্য কূটনৈতিক সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

৩. মানবিক দিক: গাজায় বেসামরিক হতাহতের দাবি নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, যা সংবাদ হিসেবে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

​উপসংহার

​বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই হুশিয়ারি মূলত হিজবুল্লাহ এবং হামাসের প্রতি একটি সরাসরি সংকেত। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইসরায়েল তার সীমানার বাইরে গিয়েও লক্ষ্যবস্তু আঘাত হানতে সক্ষম। তবে এই পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং হামলা শেষ পর্যন্ত কতটুকু মানবিক বিপর্যয় বয়ে আনবে, তা নিয়ে চিন্তিত বিশ্বনেতারা।

​'দিগন্ত বাংলা নিউজ' মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরবর্তী আপডেটের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।

​তথ্যসূত্র: আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন