ঢালিউডে তোলপাড়: শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ সিনেমার সনদ স্থগিত, দেশজুড়ে প্রদর্শনী নিষিদ্ধ
বিনোদন ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের ভক্তদের জন্য এক বড় দুঃসংবাদ হয়ে এলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সাম্প্রতিক একটি কঠোর সিদ্ধান্ত। শাকিব খান অভিনীত এবং ব্যাপক আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ এর সার্টিফিকেশন সনদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহে এই সিনেমাটি প্রদর্শন করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অধিদপ্তরের এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আইন লঙ্ঘন করে সেন্সরবিহীন দৃশ্য ও গান সংযোজন করার অভিযোগেই মূলত এই কঠোর ব্যবস্থার মুখে পড়েছে সিনেমাটি।
কেন স্থগিত হলো ‘প্রিন্স’ সিনেমার সনদ?
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিনেমাটি যখন বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পায়, তখন তাতে কিছু নির্দিষ্ট দৃশ্য ছিল না। কিন্তু মুক্তির পর অভিযোগ ওঠে যে, সিনেমাটিতে এমন কিছু গান ও বিতর্কিত দৃশ্য সংযোজন করা হয়েছে যা বোর্ড থেকে অনুমোদিত ছিল না। মূলত আইন ফাঁকি দিয়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করতে অতিরিক্ত ভায়োলেন্স ও অশালীন কিছু দৃশ্য যুক্ত করার বিষয়টি বোর্ডের নজরে আসে।
আরও পড়ুন: শাপলা চত্বর হত্যাকান্ড: রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল
বোর্ডের আনা প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
১. অনুমোদনহীন দৃশ্য সংযোজন: সার্টিফিকেশন বোর্ডের দেওয়া কপি পরিবর্তন করে নতুন দৃশ্য ঢোকানো হয়েছে।
২. সতর্কবার্তায় জালিয়াতি: সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত কপিতে থাকা ধূমপান ও মাদক সেবনের সতর্কবার্তা পরিবর্তন করে মুদ্রণযোগ্য ফন্টে (যা পড়তে অসুবিধা হয়) প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৩. নিষিদ্ধ দৃশ্য পুনরায় যুক্ত করা: এর আগে বোর্ড কর্তৃক যেসব দৃশ্য কেটে ফেলার (Censored) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই চাপাতি দিয়ে হাত কর্তন এবং গলার রগ কেটে ফেলার মতো অত্যন্ত সহিংস দৃশ্যগুলো পুনরায় সিনেমায় যুক্ত করা হয়েছে।
তীব্র সহিংসতা ও অশালীনতার অভিযোগ
সিনেমাটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ভারতের একটি মরুভূমিতে রামদা দিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যার দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়েছে, যা বর্তমান চলচ্চিত্র আইনের পরিপন্থী। এছাড়াও ‘তোমাকে ছাড়া’ নামের একটি একক গান সিরিজের অংশ হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে।
নারীদের অশালীন পোশাক এবং কিছু অরুচিকর অঙ্গভঙ্গির দৃশ্যও সিনেমাটিতে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যা আগে বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার সময় মূল কপিতে ছিল না। এই ধরণের বিষয়গুলো দর্শকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: শাকিব বুবলীর আমেরিকা মিশন: অপু বিশ্বাসের বিতর্কিত ভূমিকা ?
শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এর প্রভাব
শাকিব খান বর্তমানে ঢালিউডের সবচেয়ে বড় বাজার দখল করে আছেন। তার সিনেমা মানেই হল মালিকদের আয়ের বড় উৎস। ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এমন আইনি জটিলতায় পড়ে সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রযোজক ও হল মালিকরা। ঢালিউড বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরণের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সিনেমার গুণগত মান ও সুপারস্টারের ভাবমূর্তি উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
সিনেমা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
সিনেমাটির সনদ স্থগিত হওয়ার পর এখনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা পুনরায় আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। যদি তারা বিতর্কিত দৃশ্যগুলো পুরোপুরি বাদ দিয়ে নতুন করে জমা দেন এবং বোর্ড সন্তুষ্ট হয়, তবেই হয়তো ভবিষ্যতে এই সিনেমার নিষেধাজ্ঞার আদেশ তুলে নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন ২০২৪ প্রণয়নের পর থেকেই কঠোর তদারকির মধ্যে রয়েছে সিনেমা শিল্প। বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে যেকোনো দৃশ্য সহজেই যুক্ত বা বাদ দেওয়া সম্ভব। কিন্তু বাণিজ্যিক লাভের আশায় নিয়ম অমান্য করা ঢালিউডের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। গুগল অ্যাডসেন্স এবং সেন্সর বোর্ড—উভয়ই কন্টেন্টের মান ও নীতিমালার প্রতি কঠোর।
একটি সফল সিনেমার জন্য যা প্রয়োজন:
- কন্টেন্ট কোয়ালিটি: ভায়োলেন্স কমিয়ে গল্পের ওপর জোর দেওয়া।
- আইন মান্যতা: রাষ্ট্রের আইন ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখা।
- প্রফেশনালিজম: সেন্সর বোর্ডের নির্দেশনা হুবহু পালন করা।
উপসংহার
‘প্রিন্স’ সিনেমার প্রদর্শন নিষিদ্ধ হওয়া ঢালিউডের সকল নির্মাতা ও প্রযোজকের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আইন ও নীতিমালা মেনে সিনেমা নির্মাণ না করলে তা বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হতে পারে। শাকিব খানের ভক্তরা আশা করছেন, খুব দ্রুতই এই জটিলতার অবসান ঘটবে এবং প্রিয় তারকার সিনেমাটি নিয়ম মেনে আবার বড় পর্দায় ফিরবে।
'দিগন্ত বাংলা নিউজ' সবসময় বিনোদন জগতের সর্বশেষ এবং বস্তুনিষ্ঠ খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরে। পরবর্তী যেকোনো আপডেটের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
তথ্যসূত্র: তথ্য অধিদপ্তর এবং চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।