বিশ্বকাপে খেলা দেখলেই পাবেন ৬১ লাখ টাকা! অবিশ্বাস্য চাকরির সুযোগ

বিশ্বকাপে খেলা দেখলেই পাবেন ৬১ লাখ টাকা! অবিশ্বাস্য চাকরির সুযোগ

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বপ্নের অফার: ২০২৬ বিশ্বকাপের সব ম্যাচ দেখলেই মিলবে ৬১ লাখ টাকা!

​খেলাধুলা ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ

​বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই উন্মাদনা, গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলের জন্য চিৎকার আর মাঠের লড়াইয়ে মেতে ওঠা। সাধারণত ফুটবল বিশ্বকাপ গ্যালারিতে বসে দেখতে গেলে ভক্তদের পকেট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। ভ্রমণ, হোটেল বুকিং, যাতায়াত এবং আকাশচুম্বী মূল্যের টিকিট—সব মিলিয়ে একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি কেবল স্বপ্নই থেকে যায়। কিন্তু কেমন হতো যদি এই বিশ্বকাপ দেখার জন্য আপনাকে এক টাকাও খরচ করতে না হতো? বরং উল্টো আপনাকে প্রতিটি ম্যাচ দেখার বিনিময়ে কয়েক ডজন লাখ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো?

​শুনতে সিনেমার গল্পের মতো মনে হলেও, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ঠিক এমন এক অবিশ্বাস্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে চলতি বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং আলোচিত 'গ্রীষ্মকালীন চাকরি' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এটি। যেখানে স্রেফ ১০৪টি ম্যাচ দেখার বিনিময়ে একজন ভাগ্যবান ফুটবলপ্রেমী পাবেন ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ লাখ টাকা।

​চাকরির ধরণ: ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচার’

​আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকার জনপ্রিয় স্পোর্টস চ্যানেল 'ফক্স স্পোর্টস' এবং চাকরিবিষয়ক প্রখ্যাত ওয়েবসাইট ‘ইনডিড’ (Indeed) যৌথভাবে এই অদ্ভুত কিন্তু রোমাঞ্চকর চাকরির ঘোষণা দিয়েছে। এই পদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচার’ বা ‘বিশ্বকাপের প্রধান দর্শক’।

​একজন পাগলাটে ফুটবল ভক্তকে খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, যিনি ফুটবলের প্রতি তীব্র আবেগ রাখেন এবং কোনো বিরতি ছাড়াই টানা সব ম্যাচ উপভোগ করার সক্ষমতা রাখেন। নির্বাচিত ব্যক্তি কেবল খেলা দেখবেন না, বরং তিনি হবেন ২০২৬ বিশ্বকাপের একজন অন্যতম প্রচারক।


আরও পড়ুন: মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের মিসাইল হামলা: রণক্ষেত্র হরমুজ। 

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের মিসাইল হামলা: রণক্ষেত্র হরমুজ।

কর্মস্থল ও দায়িত্ব: টাইম স্কয়ারের সেই কাচঘেরা ঘর

রা ঘর​এই চাকরির কর্মস্থলটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং বিখ্যাত এলাকাগুলোর অন্যতম—নিউইয়র্ক সিটির 'টাইমস স্কয়ার'। সেখানে টাইমস স্কয়ারের ঠিক মাঝখানে বিশেষভাবে একটি বড় কাচঘেরা ঘর বা ‘গ্লাস কিউব’ তৈরি করা হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিকে সেই কিউবের ভেতরে বসে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ লাইভ উপভোগ করতে হবে।

​নির্বাচিত ব্যক্তির প্রধান দায়িত্বগুলো হবে:

১. সবগুলো ম্যাচ দেখা: বিশ্বকাপের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোট ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটি সেকেন্ড তাকে দেখতে হবে।

২. সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট: খেলা দেখার সময় তার অনুভূতি, উত্তেজনা এবং খেলার বিশ্লেষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে হবে। তাকে নিয়মিত রিলস, ভিডিও এবং পোস্ট তৈরি করতে হবে যাতে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তার মাধ্যমে বিশ্বকাপের আমেজ অনুভব করতে পারে।

৩. লাইভ ওয়াচ পার্টি: টাইমস স্কয়ার দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ও পথচারী চলাচল করেন। কাচঘেরা ঘরে বসে থাকা ওই দর্শকের উত্তেজনা দেখে পথচারীরাও যেন বিশ্বকাপের উন্মাদনায় সামিল হতে পারেন, অর্থাৎ পুরো পরিবেশটিকে একটি ‘লাইভ ওয়াচ পার্টিতে’ রূপান্তর করা হবে তার কাজ।

​যোগ্যতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

​ফক্স স্পোর্টসের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তারা এমন একজনকে খুঁজছেন যার জীবনের ধ্যান-জ্ঞান ফুটবল। তাকে হতে হবে অত্যন্ত উদ্যমী এবং ক্যামেরা-ফ্রেন্ডলি, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

​আগ্রহী ফুটবল ভক্তরা ‘ইনডিড’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই সুযোগ পাবেন কেবল একজন। হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করা হবে তার ফুটবলের প্রতি জ্ঞান এবং প্রেজেন্টেশন স্কিলের ওপর ভিত্তি করে। আগামী ৬ জুন ফক্স চ্যানেলে একটি বেসবল ম্যাচ চলাকালীন আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন: মরা ছাগলের মাংস বিক্রি: গাজীপুরে ২ যুবকের জেল।

মরা ছাগলের মাংস বিক্রি: গাজীপুরে ২ যুবকের জেল।

​২০২৬ বিশ্বকাপ: ইতিহাসের বৃহত্তম আসর

​২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। এবারই প্রথম ৪৮টি দেশ শিরোপার লড়াইয়ে নামবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করবে যৌথভাবে তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। ১৬টি ভেন্যুতে আয়োজিত এই আসরে ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪টিতে। আর এই ১০৪টি ম্যাচ দেখার জন্যই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান এই দর্শককে।

​আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই 'চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচার'-এর দায়িত্ব শুরু হবে। ফক্স স্পোর্টস মনে করছে, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বকাপের প্রচার আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।


এই ধরণের উদ্যোগ মূলত ‘এক্সপেরিয়েন্সিয়াল মার্কেটিং’ বা অভিজ্ঞতামূলক বিপণনের একটি অংশ। বর্তমান ডিজিটাল যুগে মানুষ কেবল খেলা দেখতে চায় না, বরং সেই খেলার সাথে আবেগীয়ভাবে যুক্ত হতে চায়। ফক্স স্পোর্টস এবং ইনডিড-এর এই ক্যাম্পেইনটি কর্মসংস্থান এবং বিনোদনের এক চমৎকার সংমিশ্রণ।

​কেন এই চাকরিটি গুরুত্বপূর্ণ?

  • ​চাকরির বাজারের নতুন দিগন্ত: আমরা সাধারণত করপোরেট চাকরির কথা ভাবি। কিন্তু শখের কাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার যে সংস্কৃতি পাশ্চাত্যে বাড়ছে, এটি তার একটি বড় উদাহরণ।
  • মানসিক সক্ষমতার পরীক্ষা: টানা ১০৪টি ম্যাচ দেখা এবং সাথে সাথে কনটেন্ট তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ নয়। এটি যেমন আনন্দের, তেমনি শারীরিক ও মানসিক ধৈর্যেরও পরীক্ষা।
  • ​ব্র্যান্ডিং: নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে এই ধরণের ইভেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে ফুটবলের অন্যতম প্রধান বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।

​উপসংহার

​বিশ্বকাপের সব ম্যাচ দেখার বিনিময়ে ৬১ লাখ টাকা উপার্জনের এই সুযোগ সত্যিই স্বপ্নের মতো। এটি কেবল অর্থের বিষয় নয়, বরং একজন ফুটবল ভক্তের জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যে উন্মাদনা শুরু হয়েছে, এই ঘোষণা তাকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

​আপনি যদি একজন ফুটবল প্রেমী হন, তবে নিজেকে এই পদের যোগ্য মনে করতেই পারেন। হয়তো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে নিউইয়র্কের সেই গ্লাস কিউবে আপনাকেও দেখা যেতে পারে! 'দিগন্ত বাংলা নিউজ' সবসময় দেশ ও বিদেশের এমন চাঞ্চল্যকর এবং অনুপ্রেরণামূলক খবর আপনাদের সামনে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

​তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ফক্স স্পোর্টস অফিশিয়াল নিউজ।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন