অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে ইসি

অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে ইসি
ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতি ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ঢাকা: দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেশি সুসংহত, সুদৃঢ় এবং জবাবদিহিতামূলক করতে এক বড় ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী অক্টোবর মাস থেকেই দেশব্যাপী বহুল প্রতীক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে ধাপে ধাপে শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের অক্টোবর মাসের মধ্যে দেশের সকল স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নানামুখী অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

নির্বাচন কমিশনের মহাপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবমুক্ত রাখতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত বদ্ধপরিকর। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ও সময়োপযোগী নির্বাচনী ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা: বৈশ্বিক সম্মেলনে কো-হোস্ট বাংলাদেশ

তৃণমূলের এই নির্বাচনে যাতে সাধারণ নাগরিকেরা কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোডম্যাপ বা তফসিলের রূপরেখা জাতির সামনে প্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কঠোর অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাম্প্রতিক সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ ‘অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল’ আসার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। গত জুন মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসার ব্যাপারে যে তীব্র ক্ষোভ ও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে, সেটিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান এই বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন:

"বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জুনে কেন এবং কী কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বিল এসেছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর গাফিলতি অথবা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও ডাটাবেজ তৈরি

দেশের সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে দেশে খাদ্য শস্য চাষাবাদ, ফলমূল উৎপাদন থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে তা সংরক্ষণ করার প্রতিটি ধাপে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ মানুষের শরীরে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন মারাত্মক ব্যাধির সৃষ্টি করছে।

এই জনস্বাস্থ্যের হুমকি রুখতে সরকার নিম্নোক্ত যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

  • জাতীয় ডাটাবেজ বা তথ্যভাণ্ডার: দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ পর্যায়ের সকল খাদ্য উৎপাদনকারী ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে একটি কেন্দ্রীয় ‘জাতীয় খাদ্য ব্যবসায়ী তথ্যভাণ্ডার’ তৈরি করা হবে।

  • সচেতনতামূলক কর্মশালা: এই ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সর্বস্তরের মানুষদের খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং রাসায়নিকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • কঠোর আইনি অভিযান: সচেতন করার পাশাপাশি যারা জেনেশুনে আইন অমান্য করে অনিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করবে, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ কঠোর আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হবে।

ককটেল বিস্ফোরণের সুষ্ঠু তদন্ত ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গ

সাভারে এনসিপির জনসভায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটি দেশের ভেতরের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা। এই নাশকতামূলক ও উসকানিমূলক ঘটনার পেছনে যাদের হাত রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর সাথে জড়িত মূল অপরাধী ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

আরও পড়ুন: সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন: সভাপতি আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং শহীদদের ত্যাগ নিয়ে দেশের একটি নির্দিষ্ট মহলের অনাকাঙ্ক্ষিত কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্য করার বিষয়ে গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক, সংবেদনশীল এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননাকর বলে অভিহিত করেন।

আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "বর্তমান প্রচলিত আইনি কাঠামো বা দণ্ডবিধি অনুযায়ী জুলাই বিপ্লব নিয়ে কোনো বিরূপ বা নেতিবাচক মন্তব্য করা সরাসরি কোনো ফৌজদারি অপরাধের (Criminal Offence) পর্যায়ে পড়ে না। তবে মানুষের আবেগ এবং এই বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এই ধরণের কটূক্তি বা অপপ্রচারকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা, তা নিয়ে সরকারের নীতিগত পর্যায়ে এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা বা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।" তিনি সকলকে জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ধারণ করে দেশের উন্নয়নে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিং।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন