জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ঢাকা: দেশের রাষ্ট্রীয় ও সরকারি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে আরও বেশি কার্যকর, আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও অর্থবহ করে তুলতে 'সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি' সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে।
গত রবিবার (৫ জুলাই) সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই নতুন কমিটি তাদের নীতিগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
কমিটির মূল লক্ষ্য ও নতুন কার্যপদ্ধতি
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে পুনর্গঠিত এই কমিটির কাজের পরিধি ও এক্তিয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির মূল কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা এবং মাঠ পর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এই উচ্চপর্যায়ের ফোরাম।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: পল্লি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
বিশেষ করে, দেশের প্রচলিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ), ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ এর আলোকে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আওতাভুক্ত অংশগুলোকে আরও সময়োপযোগী করা হবে। সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা যাতে না ঘটে, সে বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং এগুলোকে আরও বেশি গতিশীল ও স্বচ্ছ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে এই কমিটি। এছাড়া অর্থনৈতিক বিষয় ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও এই কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করবে।
আরও পড়ুন: মানুষকে হত্যা করা গেলেও আদর্শকে নয়: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে গর্জে উঠল ইরান
পুনর্গঠিত কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য তালিকা
আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কমিটিতে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং শীর্ষ আমলাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যরা হলেন:
ইকবাল হাসান মাহমুদ: মন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির: মন্ত্রী, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ: উপদেষ্টা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মো. রাজিব আহসান: প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন এবং সেতু বিভাগ।
মীর শাহে আলম: প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
নাসিমুল গনি: মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার: সচিব, অর্থ বিভাগ।
এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (BPPA)।
অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রশাসনিক গতিশীলতা
প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই কমিটি গঠনের ফলে বিশেষ করে মেগা প্রকল্পগুলোর কেনাকাটা এবং দরপত্র মূল্যায়নের কাজে বড় ধরণের গতি আসবে। পিপিআর ২০২৫-এর নতুন নিয়মাবলী যুক্ত হওয়ায় দেশের সরকারি ক্রয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-জিপির (e-GP) পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের মতো একজন অভিজ্ঞ আইনি ব্যক্তিত্বের হাতে এই কমিটির নেতৃত্ব থাকায়, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরণের আইনি ত্রুটি দূর করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছে সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই নতুন প্রজ্ঞাপন জারির ফলে পূর্বের কমিটির কার্যকাল অবসান ঘটেছে এবং নতুন এই কমিটি অবিলম্বে তাদের পরবর্তী সভার মাধ্যমে কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করবে।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।