সাভারে এনসিপির জনসভায় দুর্বৃত্তদের ককটেল হামলা: আহত একাধিক নেতাকর্মী

সাভারে এনসিপির জনসভায় দুর্বৃত্তদের ককটেল হামলা: আহত একাধিক নেতাকর্মী
ছবি: সংগৃহীত

অপরাধ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সাভার প্রতিনিধি: ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভারে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতামূলক রাজনৈতিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাভারে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী এক বিশাল জনসভায় আকস্মিকভাবে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় একদল দুর্বৃত্ত। এই আকস্মিক ও কাপুরুষোচিত বোমা হামলায় সমাবেশস্থলে উপস্থিত দলটির বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে এনসিপির দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে যখন দলটির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল, ঠিক তখনই এই নজিরবিহীন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: শেষ আটের হাতছানি: মিশরের বাধা টপকালে আর্জেন্টিনার সামনে সুইজারল্যান্ড বা কলম্বিয়া

বক্তব্য চলাকালে বিকট বিস্ফোরণ ও জনমনে চরম আতঙ্ক

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই বিশেষ পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করেছিল। সন্ধ্যার পর থেকেই সাভার ও তার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নেতাকর্মী ব্যানার ও ফেস্টুনসহ থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে সমবেত হতে শুরু করেন। রাত বাড়ার সাথে সাথে সমাবেশের কার্যক্রম গতি পায় এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একে একে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন।

রাত যখন আনুমানিক পৌনে ১০টা, তখন সমাবেশ মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঢাকা জেলা এনসিপির প্রধান আহ্বায়ক প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বক্তব্য রাখছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই সমাবেশস্থলের অন্ধকারাচ্ছন্ন এক কোণ থেকে মঞ্চ লক্ষ্য করে পর পর ককটেল ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। বিকট ও কানফাটানো শব্দে ককটেলটি বিস্ফোরিত হওয়ার সাথে সাথে পুরো ঈদগাহ ময়দান ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আকস্মিক এই হামলায় সমাবেশস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক, হুড়োহুড়ি এবং বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার্থে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন, যার ফলে মাঠের মধ্যে এক চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

এনসিপির সাভার শাখা সূত্রে জানা গেছে, ককটেল বিস্ফোরণের সময় সমাবেশ মঞ্চে দলটির শীর্ষস্থানীয় জাতীয় নীতিনির্ধারক ও কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে আসন অলংকৃত করে বসেছিলেন:

  • জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় প্রধান আহ্বায়ক ও বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

  • দলের কেন্দ্রীয় প্রধান সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

  • জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলীয় জোনের অন্যতম মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

এছাড়াও ঢাকা জেলা ও সাভার উপজেলার স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় ডজনখানেক প্রথম সারির নেতা সেই সময় মঞ্চে অবস্থান করছিলেন। ককটেলটি মঞ্চের খুব কাছাকাছি বিস্ফোরিত হলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের তাৎক্ষণিক মানবঢাল তৈরির কারণে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন কিংবা সারজিস আলমসহ প্রধান অতিথিরা কোনো প্রকার শারীরিক আঘাত পাননি, তাঁরা সবাই সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। তবে মঞ্চের নিচে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মী স্প্লিন্টারের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা: বৈশ্বিক সম্মেলনে কো-হোস্ট বাংলাদেশ

তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও আইনি তদন্তের দাবি

এই জঘন্য ও কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনার পরপরই সাভার থানা পুলিশ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশাল দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ সদস্যরা ঈদগাহ মাঠ ও তার চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন এবং ককটেলের অবশিষ্টাংশসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই একটি নির্দিষ্ট অশুভ চক্র এই নাশকতা ঘটিয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। একই সাথে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই ন্যাক্কারজনক হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং মাঠ পর্যায়ে ককটেল নিক্ষেপকারী দুর্বৃত্তদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে সাভারের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ নাগরিকদের মাঝে চরম থমথমে পরিস্থিতি ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: সাভার থানা পুলিশ ও এনসিপি ঢাকা জেলা শাখা।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন