জামায়াতকে এ দেশের মানুষ কখনো ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল

জামায়াতকে এ দেশের মানুষ কখনো ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের হুঙ্কার: জামায়াতে ইসলামীকে এ দেশের জনগণ কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আনবে না, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনড় বিএনপি

​নিজস্ব প্রতিবেদক (দিগন্ত বাংলা নিউজ): 

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর মন্তব্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সচেতন ও দেশপ্রেমিক জনগণ কোনো দিনও জামায়াতে ইসলামীকে এই দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি ও মিথ্যাচারের দিন শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সত্যের পথে আসার আহ্বান জানান।

​বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনা ও স্বাগত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং আগামী দিনের নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আমাদের বিশেষ নিউজ পোর্টাল 'দিগন্ত বাংলা নিউজ'-এর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মির্জা ফখরুলের দেওয়া বক্তব্যের বিস্তারিত রূপরেখা।

​সংস্কারের পক্ষে বিএনপি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন

​সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, বিএনপি কখনোই দেশের রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়। বরং বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেসব সংস্কার জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবে, তার প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক "জুলাই সনদ" বাস্তবায়নে বিএনপিই শুরু থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন: বিদায়ঘণ্টা বাজছে নেতানিয়াহুর: ইসরাইলের সংসদ বিলুপ্তির বিল পাস,

বিদায়ঘণ্টা বাজছে নেতানিয়াহুর: ইসরাইলের সংসদ বিলুপ্তির বিল পাস,


​তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে, তার মূল স্পিরিট বা চেতনা ধরে রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো একক গোষ্ঠী যেন এই গণ-অভ্যুত্থানের ফসল নিজেদের ঘরে তুলতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

​ধর্মের নামে রাজনীতি ও মিথ্যাচারের তীব্র সমালোচনা

​রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

​ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের বিশেষ উক্তি

​"ধর্মের নামে মিথ্যাচার করে, সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আর যাই হোক—টিকসই রাজনীতি করা যাবে না। জনগণের সত্যিকারের ভোট, ভালোবাসা ও মর্যাদা পেতে হলে রাজপথে সত্য কথা বলতে হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না এবং তারা কখনো তাদের ভোট দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনবে না।"

​জামায়াতের অতীত ভূমিকা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

​জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জামায়াত এ দেশের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে, এ দেশের মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত ছিল।

​তিনি উল্লেখ করেন, এ দেশের জনগণ অত্যন্ত ইতিহাস সচেতন। যারা বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতা করেছে, তাদের হাতে এ দেশের মানুষ কখনো রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ও সার্বভৌমত্ব তুলে দেবে না। জনগণের এই অনীহা ও প্রত্যাখ্যানের কারণেই জামায়াত কখনো এ দেশে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে তিনি দাবি করেন।

​তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ

​অনুষ্ঠানে দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। তিনি বলেন, তারেক রহমানের সুদক্ষ ও আধুনিক গাইডলাইনের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ আজ এক নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের দিকে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

​তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখাই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির এই সংগ্রাম জারি থাকবে।

​দুই বছরের মধ্যে চালু হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর

​ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বপ্নের বিমানবন্দর নিয়ে এক বড় সুখবর দেন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি পরিদর্শন শেষে তিনি ঘোষণা করেন, "আগামী দুই বছরের মধ্যে এই বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণ সচল ও চালু করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।"

​তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট হবেই। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দোরগোড়ায়। হয়তো আমরা সাধারণ মানুষ সবাই নিয়মিত বিমানে যাতায়াত করতে পারবো না, কিন্তু এই বিমানবন্দরটি হবে আমাদের সমগ্র ঠাকুরগাঁও তথা উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়। আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারবো, আমাদের নিজেদের একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর আছে।" এই ঘোষণার পর উপস্থিত হাজারো জনতার মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।

​উপসংহার ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

​পরিশেষে বলা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য আগামী দিনের নির্বাচনী সমীকরণ এবং রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। জামায়াতের প্রতি তাঁর এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, আগামী দিনে নির্বাচনী জোটে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি নিজস্ব একক শক্তির ওপরই বেশি ভরসা রাখছে। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর ঘোষণা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় রাজনীতির এই টানাপোড়েন এবং প্রতিটি ব্রেকিং খবরের লাইভ আপডেট সবার আগে পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন 'দিগন্ত বাংলা নিউজ'।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন