ঐতিহ্য, প্রত্নতত্ত্ব ও পর্যটন ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ:
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের আগমন এবং বিকাশ কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। সুদূর মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্ব থেকে আগত পীর, আউলিয়া, এবং সুফি সাধকদের আত্মত্যাগ, মানবিক আদর্শ এবং নিরলস প্রচারণার ফলেই এ দেশের সাধারণ মানুষ সাম্য ও শান্তির এই ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। বাংলার সেই গৌরবোজ্জ্বল এবং সুপ্রাচীন ইসলামিক ইতিহাসের এক জীবন্ত ও অনন্য স্মারক হিসেবে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা ও করতোয়া নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহ.)-এর পবিত্র মাজার শরীফ এবং সংলগ্ন ঐতিহাসিক মখদুমিয়া জামে মসজিদ (যা স্থানীয়ভাবে দরগাহ মসজিদ নামে সুপরিচিত)।
প্রায় আটশো বছরেরও বেশি পুরনো এই ঐতিহাসিক স্থানটি কেবল ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি বাংলার মধ্যযুগীয় স্থাপত্যকলা, অলৌকিক উপাখ্যান, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব এবং প্রাচীন যুদ্ধবিগ্রহের এক রোমাঞ্চকর দলিল। বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষিত এবং প্রটেক্টেড মনুমেন্ট হিসেবে ঘোষিত এই প্রাচীন প্রাঙ্গণটির ঐতিহাসিক পটভূমি, রাজকীয় রাজপুত্রের সুফি সাধক হয়ে ওঠার গল্প এবং ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের অনন্য নির্মাণশৈলী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল গবেষণার উৎস।
ইয়েমেনের সিংহাসন ত্যাগ: রাজপুত্র থেকে সুফি সাধক হয়ে ওঠার গল্প
ইতিহাসের পাতা এবং প্রাচীন ইসলামিক পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে (আনুমানিক ১১৯২ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে) যখন সমগ্র বাংলা অঞ্চল সেন রাজবংশ এবং স্থানীয় বিভিন্ন অমুসলিম সামন্ত রাজাদের শাসনাধীনে ছিল, ঠিক তখনই এই অঞ্চলে ইসলামের আলো নিয়ে কাফেলাসহ আগমন ঘটেছিল হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)-এর। তিনি ছিলেন সুদূর ইয়েমেনের রাজপরিবারের এক প্রদীপ্ত সন্তান এবং পরবর্তী সিংহাসনের বৈধ উত্তরাধিকারী বা রাজপুত্র। কিন্তু জাগতিক ধন-সম্পদ, বিলাসবহুল জীবন এবং রাজকীয় ক্ষমতার চেয়ে স্রষ্টার সান্নিধ্য এবং মানবকল্যাণের আধ্যাত্মিক পথ তাঁকে বেশি আকর্ষণ করেছিল।
ইয়েমেনের তৎকালীন প্রখ্যাত সুফি মুর্শিদ বা আধ্যাত্মিক গুরুর অধীনে দীর্ঘদিন কঠিন সাধনা ও মারফতি জ্ঞান অর্জনের পর, তিনি এক রাতে স্বপ্নযোগে মদিনার মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পক্ষ থেকে হিন্দুস্তানের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত 'বাঙলা' অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের বিশেষ আধ্যাত্মিক নির্দেশ বা 'বাশারাত' লাভ করেন। এই ঐশ্বরিক আদেশ পাওয়ার পর তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে রাজকীয় পোশাক ও সিংহাসনের মোহ চিরতরে ত্যাগ করেন এবং দরবেশের সাধারণ খিলকা পরিধান করে এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডিতে ২৬ জন আটক: শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ‘শপথ’ ও পুলিশের তৎপরতা
ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রা: অলৌকিক বোখারী কবুতর ও 'শাহজাদপুর' নামের উৎপত্তি
হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) যখন ইয়েমেন থেকে বাংলার উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রা শুরু করেন, তখন তাঁর এই আত্মত্যাগের কাফেলায় শামিল হয়েছিলেন প্রধান ১২ জন অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের কামেল আউলিয়া (যাদের মধ্যে শাহ হাবিব, শাহ কামাল, শাহ বদর অন্যতম), তাঁর পরম স্নেহময়ী আপন বোন এবং অত্যন্ত বীর ও বিশ্বস্ত তিন ভাগনেসহ একদল একনিষ্ঠ সহচর। তারা বেশ কয়েকটি বড় কাঠের সামুদ্রিক জাহাজে করে আরব সাগর, ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলার নদীপথে প্রবেশ করেন। তৎকালীন সময়ে নদীপথই ছিল দূরবর্তী কোনো অঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র এবং নিরাপদ মাধ্যম।
সুফি কাফেলার জাহাজগুলো যখন বর্তমান সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলের বুক চিরে বয়ে চলা করতোয়া নদীর মোহনায় পৌঁছায়, তখন এক আকস্মিক ও অলৌকিক ঘটনার সূত্রপাত হয়। হঠাৎ করেই কোনো এক অজ্ঞাত কারণে জাহাজগুলোর গতি স্তব্ধ হয়ে যায় এবং সেগুলো নদীর বুকে জেগে ওঠা এক বিশাল বালুচরে আটকে পড়ে। কোনো মানুষের পক্ষে সেই বিশাল জাহাজগুলোকে চর থেকে মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন এক সংকটের মুখে সুফি সাধক হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাঁর ইয়েমেন থেকে সাথে আনা একটি বিশেষ 'বোখারী কবুতর'-কে আকাশে উড়িয়ে দেন এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যে, এই পাখিটি যেখানে গিয়ে বসবে, সেখানেই তারা ইসলাম প্রচারের স্থায়ী আস্তানা গড়বেন।
কবুতরটি চারপাশের বিস্তীর্ণ জলরাশি ও চরের ওপর দিয়ে দীর্ঘক্ষণ উড্ডয়ন করার পর একটি ঘন গাছপালায় ঘেরা সুন্দর ও নির্জন স্থলভাগ খুঁজে পায় এবং সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে নিজের পায়ে কিছু বালুমাটি মেখে জাহাজে ফিরে আসে। কবুতরের পায়ের সেই বালির সূত্র ধরে আউলিয়াদের কাফেলাটি নদীগর্ভ থেকে জেগে ওঠা এক অপূর্ব উর্বর স্থলভাগের সন্ধান লাভ করেন এবং সেখানেই তাদের স্থায়ী বাসস্থান, খানকাহ এবং ইসলাম প্রচারের মূল কেন্দ্র স্থাপন করেন। ইয়েমেনের রাজপুত্রের (ফার্সি ভাষায় যাকে 'শাহজাদা' বলা হয়) স্থায়ীভাবে আবাসন গড়ে তোলার এই যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক ঘটনার পর থেকেই এই জনপদটির নাম প্রাচীন নথিপত্রে চিরদিনের জন্য পরিবর্তিত হয়ে "শাহজাদপুর" হিসেবে বিশ্ব দরবারে আত্মপ্রকাশ করে।
রাজা বিক্রম কেশরীর সাথে সংঘাত এবং আছরের সিজদায় শাহাদাতবরণ
হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) এবং তাঁর সঙ্গী আউলিয়ারা যখন শাহজাদপুরের স্থানীয় সাধারণ অবহেলিত, শোষিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে ইসলামের সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করতে শুরু করেন, তখন তা তৎকালীন সুরে ও বিহার অঞ্চলের প্রভাবশালী এবং প্রতাপশালী অমুসলিম সামন্ত রাজা বিক্রম কেশরীর দৃষ্টিগোচর হয়। রাজা বিক্রম কেশরী সুফি সাধকদের এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, জনকল্যাণমুখী কাজ এবং সাধারণ মানুষের দলে দলে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টিকে নিজের রাজত্ব, সিংহাসন ও ক্ষমতার ভিত্তির জন্য এক বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ ও হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে তিনি অবিলম্বে সুফি কাফেলাকে শাহজাদপুর ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন এবং তাঁদের ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
কিন্তু সুফি সাধকেরা আল্লাহর বাণী প্রচার থেকে বিন্দুমাত্র পিছিয়ে না যাওয়ায়, অবশেষে সত্য ও মিথ্যার এক অনিবার্য ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। রাজা বিক্রম কেশরীর বিশাল, সুসজ্জিত এবং হাতি-ঘোড়ায় সমৃদ্ধ রাজকীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) তাঁর মাত্র কয়েকজন আউলিয়া এবং সাধারণ সহচরদের নিয়ে বীরত্বের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে একের পর এক বেশ কয়েকটি ছোট-বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। মুসলিম বাহিনী তাদের অসীম ইমানি শক্তি এবং রণকৌশলের জোরে প্রতিটি সম্মুখ যুদ্ধেই অলৌকিকভাবে একের পর এক বিজয় লাভ করে রাজার বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে।
কিন্তু এই গৌরবময় বিজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এক পরম বেদনাদায়ক ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক ট্র্যাজেডি নেমে আসে। এক বিকেলে মখদুমিয়া মসজিদের জন্য নির্ধারিত উন্মুক্ত অস্থায়ী চত্বরে যখন হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে আছরের নামাজে সিজদারত অবস্থায় মহান আল্লাহর দরবারে মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখনই রাজা বিক্রম কেশরীর এক গুপ্তঘাতক ছদ্মবেশে পেছন থেকে অতর্কিতে ধারালো তলোয়ার দিয়ে তাঁর ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালায় এবং সিজদারত অবস্থাতেই তাঁর পবিত্র শিরশ্ছেদ করে। ইসলামের ইতিহাসে এবং বাংলার জমিনে এই মহান সুফি সাধক তাই 'শহীদ ইয়ামেনী' বা ইয়েমেনের শহীদ রাজপুত্র হিসেবে চিরকাল অমর হয়ে আছেন। তাঁর এই মহান শাহাদাতের পর রাজকীয় বাহিনী স্তব্ধ হয়ে যায় এবং সুফিবাদের ধারা এই অঞ্চলে আরও শক্তিশালীভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক দরগাহ মসজিদের অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)-এর এই নির্মম ও ঐতিহাসিক শাহাদাতবরণের পর তাঁর বেঁচে থাকা প্রধান সহচর, অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন আউলিয়ারা এবং স্থানীয় নবদীক্ষিত মুসলিমরা গভীর শোকে ম্যূষড়ে পড়েন। তবে তারা এই শোককে এক প্রবল আত্মিক শক্তিতে রূপান্তর করেন এবং শহীদ আউলিয়ার পবিত্র মরদেহকে যেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছিল, ঠিক তার উত্তর-পশ্চিম পাশেই এক বিশাল, স্থায়ী এবং দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সুলতানি আমলের আদি স্থাপত্যকলা এবং পরবর্তী মুঘলপূর্ব যুগের বিশেষ মিশ্রণে তৈরি এই ঐতিহাসিক মসজিদটিই আজ আমাদের কাছে 'শাহজাদপুর দরগাহ মসজিদ' বা 'মখদুমিয়া জামে মসজিদ' নামে সুপরিচিত।
স্থাপত্যবিদ্যার (Architecture) দিক থেকে এই মসজিদটি অত্যন্ত অনন্য, সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। সম্পূর্ণ লাল পোড়ামাটির বিশেষ ইট এবং চুন-সুরকির মিশ্রণে তৈরি এই প্রাচীন আয়তাকার মসজিদটির ছাদে রয়েছে মোট ১৫টি আকর্ষণীয় ও নিখুঁত অর্ধবৃত্তাকার ছোট-বড় গম্বুজ, যা তিনটি সারিতে ৫টি করে সুবিন্যস্ত উপায়ে স্থাপন করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরের অংশে বিশাল ও ভারী কালো ব্যাসাল্ট পাথরের তৈরি খিলান (Arches) এবং সূক্ষ্ম টেরাকোটা ও পাথরের খোদাই করা স্তম্ভগুলো (Pillars) এর প্রাচীনত্ব, আভিজাত্য ও রাজকীয় স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। মসজিদের দেয়ালগুলো অত্যন্ত পুরু ও চওড়া, যা গ্রীষ্মকালেও মসজিদের ভেতরের পরিবেশকে প্রাকৃতিকভাবে শীতল রাখে।
শত শত বছর ধরে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বড় বড় ভূমিকম্প, বন্যা এবং ঝড়-ঝাপটার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও এই প্রাচীন বহুগম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক কাঠামোটি আজও একবিন্দু ফাটল ছাড়াই সমভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল এবং বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (Department of Archaeology) এই ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মাজার প্রাঙ্গণকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর আদি ঐতিহাসিক রূপ ও প্রাচীন লাল ইটের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভাগীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে এখানে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। শাহজাদপুরের এই মখদুমিয়া মসজিদ ও মাজার কেবল সিরাজগঞ্জেরই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের মুসলিম ঐতিহ্য, সুফি সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সহনশীলতার এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরকাল ইতিহাসের পাতায় ভাস্বর থাকবে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সিরাজগঞ্জ জেলা ইতিহাস গ্রন্থ


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।