মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন আটকে চরম সংকট, ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা জমিয়তের

মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন আটকে চরম সংকট, ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা জমিয়তেরদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির ধারক ও বাহক মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন আটকে থাকায় ১ লাখ ৯১ হাজার পরিবারে এখন তীব্র হাহাকার ও চরম মানবেতর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

## প্রায় দুই লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর ঘরে নেই খাবার: মে মাসের বেতন আটকে থাকায় চরম সংকটে মাদরাসা শিক্ষা খাত, গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ দেখছে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

শতকরা ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত এই বাংলাদেশে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মূল কারিগর হলেন দেশের লাখো মাদরাসা শিক্ষক ও সাধারণ কর্মচারীবৃন্দ। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের ভেতর সুমহান ইসলামী চিন্তা ও দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোর পেছনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এদেশের সবচেয়ে অবহেলিত ও উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর তালিকায় বারবার ঘুরেফিরে আসে এই মানুষগুলোর নাম। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শিক্ষার্থীদের কুরআন-হাদিসের আলোয় আলোকিত করলেও মাসের পর মাস তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকে কিংবা তীব্র আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে পড়ে। বিগত দিনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তাদের ভাগ্যের চাকা যেন কিছুতেই ঘুরছে না। এবার মে মাসের নির্ধারিত বেতন-ভাতা সময়মতো ছাড় না হওয়ায় দেশের মাদরাসা শিক্ষা খাতে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় ও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য দপ্তর থেকে সংগৃহীত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের গত মে মাসের মাসিক সরকারি বেতন (এমপিও) এখনো পর্যন্ত ছাড় না হওয়ায় সারা দেশের বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত মাদরাসাগুলোর প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক এবং সাধারণ কর্মচারী এক চরম ও অবর্ণনীয় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে বেতন না পেয়ে তারা নিজেদের মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সম্পূর্ণ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বকেয়া ও পাওনা বেতনটুকু পাওয়ার দাবিতে এই অসহায় শিক্ষকরা তীব্র রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট সুরাহা বা সদুত্তর পাচ্ছেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ এবং মাদরাসা শিক্ষা পরিবারের ভেতর তীব্র ক্ষোভের আগুন দানা বেঁধে উঠছে।

## আমলাতান্ত্রিক চরম গাফিলতি ও উদাসীনতা: ক্ষোভে ফেটে পড়ল বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন

দেশের মাদরাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের একমাত্র বৃহৎ, ঐতিহ্যবাহী ও অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন-এর পক্ষ থেকে এই কৃত্রিম সংকটের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন এবং মহাসচিব প্রিন্সিপাল শাব্বীর আহমদ মোমতাজী আজ এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই নজিরবিহীন জটিলতায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে আইএইএ-কে অনুমতি দেবে না ইরান, ট্রাম্পের পাল্টা দাবি

জমিয়াত নেতৃবৃন্দ তাদের যৌথ বিবৃতিতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন:

"বিগত দিনে এদেশের মাদরাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, আমলাতান্ত্রিক ভোগান্তি এবং নানাবিধ আইনি জটিলতা স্থায়ীভাবে লাঘব করার লক্ষ্য নিয়েই সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বাধীন একটি ‘মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর’ (DME) গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আজ সেই মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরই শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথে এবং তাদের চরম ভোগান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অধিদপ্তরের বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষকের মে মাসের বেতন বন্ধ থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং কোনো সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।"

জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেন, এটি কোনো সাধারণ বা স্বাভাবিক প্রশাসনিক বিলম্ব নয়। বরং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কিছু চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তার ইচ্ছাকৃত গাফিলতি, উদাসীনতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণেই এই নজিরবিহীন ও কৃত্রিম জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

## প্রশাসনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসর ও নাস্তিক সিন্ডিকেট!

মাদরাসা শিক্ষকদের এই বেতন আটকে থাকার বিষয়টিকে সাধারণ কোনো ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ এদেশের শীর্ষ ওলামা সমাজ। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে এই দেশের মাটি থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মাদরাসা শিক্ষা পুরোপুরি ধ্বংস ও বন্ধ করে দেওয়ার জন্য একদল উগ্র নাস্তিক, ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মহল নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। তারা বিদেশী প্রভুদের বিশেষ ও বিতর্কিত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে দেশকে সম্পূর্ণ হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতির ধারায় ঠেলে দিতে চেয়েছিল। ইসলামকে দেশ থেকে চিরতরে উচ্ছেদের এক গভীর মিশনে নেমেছিল তারা। তবে এদেশের কোটি কোটি তাওহীদি জনতা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অত্যন্ত ধৈর্য, সহনশীলতা ও ঈমানী শক্তির মাধ্যমে রাজপথে নেমে তাদের সেই ইসলামবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের শুনানি ১৪ জুলাই

তবে দুঃখের বিষয় হলো, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী হাসিনার পতন হলেও এবং দেশ থেকে সেই অপশক্তি বিতাড়িত হলেও, তাদের দোসররা কিন্তু এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়নি। তারা বর্তমান গণতান্ত্রিক ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এবং মাদরাসা অধিদপ্তরে এখনও অত্যন্ত চতুরতার সাথে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। তারা ভেতরে ভেতরে মাদরাসা শিক্ষাকে স্তব্ধ ও পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সুক্ষ্ম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সময়মতো না দেওয়ার পেছনে এটি তাদের একটি সুদূরপ্রসারী ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের অংশ। কারণ, একজন শিক্ষকের পেটে যদি ক্ষুধা থাকে, তার পরিবার যদি অনাহারে দিন কাটায়, তবে তিনি কখনোই শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে ও মনোযোগ দিয়ে পবিত্র দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করতে পারবেন না। এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মাদরাসা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে দুর্বল করার এক অপচেষ্টা চলছে।

## তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত

স্বৈরাচারের পতনের পর সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ বুক বেঁধেছিল যে, এবার হয়তো মাদরাসা শিক্ষার ওপর থেকে সব ধরণের কালো হাত ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটবে। কারণ, বর্তমান বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধ ও সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দেশের জনপ্রিয় দূরদর্শী নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ধর্মভীরু ও ইনসাফপছন্দ একজন মানুষ। তাঁর সরকার সর্বদাই কওমি ও আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে বদ্ধপরিকর। সঙ্গত কারণেই এই সরকারের আমলে মাদরাসা শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পাবেন এবং তাদের জীবনমানের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে—এটাই ছিল সবার কাম্য।

কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে এই সরকারের সময়ে এসেই ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষকের বেতন বকেয়া পড়েছে এবং আগামী জুন মাসের বেতন পাওয়া নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দ এই সংকটকে কেবল কর্মকর্তাদের উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন না। তারা আশঙ্কা করছেন, এর পেছনে এক গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বিএসএফের ৩৬টি পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

নেতৃবৃন্দের গভীর আশঙ্কার মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি: মাদরাসা শিক্ষার সাথে এদেশের প্রায় কোটি খানেক মানুষের আবেগ ও বিশাল ভোটব্যাংক জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ক্ষিপ্ত করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক জনমত তৈরি করা এই আমলাদের মূল লক্ষ্য।

  • প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করা: ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে একটি বড় ধরণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করার জন্য এই কৃত্রিম সংকট দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।

  • দায় এড়ানোর অপচেষ্টা: মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিজেদের বড় ধরণের ভুল ও দোষ ঢাকতে এখন সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দোষ চাপানোর এক নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন। এমনকি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কার্যালয় থেকেও এই জাতীয় সংকটের কোনো সুষ্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা মিলছে না।

## একনজরে দেশের এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন সংকট ও প্রশাসনিক স্থিতি

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং দেশের মাদরাসা শিক্ষা খাতে চলমান এই বকেয়া বেতন সংকট ও আইনি অগ্রগতির বিবরণ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:

মাদরাসা শিক্ষা ও সংকটের প্রধান প্রধান খাতসমূহসুনির্দিষ্ট তথ্য, পরিসংখ্যান ও দাপ্তরিক খতিয়ান
মোট ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা১ লাখ ৯১ হাজার জন আরোহী ও কর্মচারী
বকেয়া থাকা সুনির্দিষ্ট মাসের বেতনমে মাসের সম্পূর্ণ বেতন (জুন মাসের বেতন নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা)।
প্রধান আন্দোলনকারী পেশাজীবী সংগঠনবাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন (অরাজনৈতিক সংগঠন)।
বর্তমান মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নামড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন
সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ভূমিকাজটিলতা দূর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা।
শিক্ষকদের মূল যৌক্তিক দাবিপ্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন ছাড়করণ।

## "দ্রুতই বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে"—আশ্বাস দিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন

১ লাখ ৯১ হাজার মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীর এই তীব্র দুর্ভোগের খবরটি যখন দেশজুড়ে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে, তখন এই বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দেশের বর্তমান সফল ও জনপ্রিয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, কোনো ষড়যন্ত্র বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কাছে সরকার মাথা নত করবে না।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এই সংকট নিরসনে এক বিশেষ বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন:

"মাদরাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের মে মাসের বেতন সংক্রান্ত যে অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Finance) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। ফান্ডের কোনো সংকট নেই, মূলত প্রশাসনিক কিছু সমন্বয়ের কারণে এই বিলম্ব। আমরা আশা করছি, আগামী অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই টেকনিক্যাল সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে এবং দেশের সবকটি এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একযোগে পরিশোধ করা সম্ভব হবে।"

## স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষাবিদরা: ফ্যামিলি কার্ডের মতো অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাসের বাণী অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হলেও দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ওলামা সমাজ মনে করেন, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের লজ্জাজনক ও কৃত্রিম সমস্যায় মাদরাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর কখনোই পড়তে না হয়, তার একটি স্থায়ী আইনি ও ডিজিটাল সমাধান বের করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বর্তমান সরকার যেভাবে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড, ওএমএস কার্ড কিংবা কৃষিকার্ড ইত্যাদিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ে পৌঁছে দিচ্ছে, ঠিক একইভাবে দেশের ইসলামী শিক্ষা ও সুমহান নৈতিক মূল্যবোধ অটুট রাখার প্রধান কারিগর মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা যাতে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অটোমেটিক উপায়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যায়, সেটাকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একই সাথে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যেসব দায়িত্বশীল আমলা বা কর্মকর্তা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন এবং প্রকারান্তরে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে ইসলামপ্রিয় সাধারণ মানুষের কাছে একটি চরম ভুল ও বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছেন, তাদেরকে অবিলম্বে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যারা ষড়যন্ত্র করে এই কৃত্রিম আর্থিক অচলাবস্থা তৈরি করেছে, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ কঠোর আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নাস্তিক বা স্বৈরাচারের দোসর আমলা এমন দুঃসাহস দেখানোর পুনরাবৃত্তি করার সাহস না পায়। এদেশের কোটি কোটি তাওহীদি জনতা মনে করে, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি কোনো আমলার হাতে না রেখে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি ও ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে নেওয়া উচিত। তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করলেই এদেশের ইসলামী শিক্ষার ভিত আরও মজবুত হবে

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন