প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলা: সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়ের কারাগারে, অপর ৩ আসামির জামিন মঞ্জুর

প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলা: সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়ের কারাগারে, অপর ৩ আসামির জামিন মঞ্জুর
ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণা ও কাগজপত্র জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগে সময় টেলিভিশনের সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ: ঢাকার সিএমএম আদালতে আসামিদের আত্মসমর্পণ, অন্য ৩ কর্মকর্তার জামিন মঞ্জুর, স্ত্রী ও কন্যার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতের অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান সময় টেলিভিশনের অভ্যন্তরীণ মালিকানা দ্বন্দ্ব ও আইনি জটিলতা এবার আদালত প্রাঙ্গণে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলায় সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আদালতে উপস্থিত হওয়া অপর তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হলেও আহমেদ জোবায়েরের ক্ষেত্রে আদালত কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করেননি। এই আদেশের পর দেশের আইনি ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০编制) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা—ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান উভয় পক্ষের দীর্ঘ ও চুলচেরা আইনি শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলায় অভিযুক্ত চার আসামি যথাক্রমে আহমেদ জোবায়ের, আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী আজ সকালে আইনি বাধ্যবাধকতার মুখে স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিনের জন্য আবেদন জানান। তবে বিজ্ঞ আদালত অপরাধের গুরুত্ব ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে মূল অভিযুক্ত আহমেদ জোবায়েরের আবেদন নাকচ করে তাকে বিচারিক হেফাজতে তথা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন এবং বাকি তিন আসামিকে জামিন সুবিধা প্রদান করেন।

## বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের আদেশ: কারাবাস বনাম জামিন

আজকের আদালতের এই আদেশটি মূলত একটি সুদীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার তাত্ক্ষণিক ধারাবাহিকতা। সিএমএম আদালতের এজলাসে আজ সকাল থেকেই উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে উত্তপ্ত ও দীর্ঘ আইনি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। আসামিপক্ষ থেকে জামিনের পক্ষে নানামুখী যুক্তি উপস্থাপন করা হলেও বাদীপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে।

বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মামলার নথিপত্র, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য এবং আসামিদের পূর্ববর্তী আচরণের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের চারজনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে আদেশটি দেন:

  • আহমেদ জোবায়ের (সাবেক এমডি): মামলার প্রধান ও অন্যতম মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন বা স্থায়ী জামিন আবেদনটি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দেন। আদালতের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

  • আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু: এই মামলায় অভিযুক্ত অপর একজন আসামি, যার সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান এবং তদন্তে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত আজ তাঁর জামিন আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

  • শেখ মাহমুদ ইয়াসিন: জামিনপ্রাপ্ত দ্বিতীয় কর্মকর্তা, যিনি শুনানিতে নিজের নিরপরাধী হওয়ার পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন। আদালত শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন।

  • সানি চৌধুরী: আদালতের আদেশে জামিন পাওয়া তৃতীয় ব্যক্তি। তদন্তের স্বার্থে এবং আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার শর্তে বিজ্ঞ বিচারক তাঁর পক্ষেও জামিনের অনুকূলে রায় প্রদান করেন।

## মামলার ইতিহাস ও সময়ানুক্রমিক ঘটনাপঞ্জি

এই করপোরেট ও ফৌজদারি অপরাধের মামলাটির সূত্রপাত আজ থেকে প্রায় এক মাস আগে। সময় মিডিয়া লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ এবং মালিকানা সংক্রান্ত নানামুখী অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে গত ১০ মে আদালতে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন সৈয়দ আসাদুজ্জামান। মামলায় প্রধান অভিযোগ হিসেবে দণ্ডবিধির আওতাধীন প্রতারণা, পারস্পরিক বিশ্বাসভঙ্গ এবং ভুয়া বা জাল কাগজপত্র তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়। আহমেদ জোবায়েরসহ মোট ৬ জনকে এই মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড

পাঠকদের স্পষ্ট ও নিখুঁত ধারণার জন্য এই মামলার সামগ্রিক সময়রেখা ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ নিচে একটি সারণীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

তারিখ ও বারআইনি পদক্ষেপ ও আদালতের কার্যক্রমের বিবরণ
১০ মে (গত মাস)বাদী সৈয়দ আসাদুজ্জামান কর্তৃক আহমেদ জোবায়েরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের।
আদালতের প্রাথমিক নির্দেশবিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের নির্দিষ্ট তারিখে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।
১৭ জুন (বুধবার)আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্ধারিত সর্বশেষ দিন ছিল। কিন্তু আসামিরা নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন।
১৭ জুন (বুধবার বিকেল)আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অ-জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) জারি করেন।
১৮ জুন (আজ বৃহস্পতিবার)গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আইনি ফাঁদ থেকে বাঁচতে ৪ আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন চান।
১৮ জুন (আজকের আদেশ)আদালত সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি ৩ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।

## আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য: "মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক"

আজকের এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা বারের বিশিষ্ট আইনজীবী ফরহাদ হোসেন নিয়ন। আদালত কর্তৃক আহমেদ জোবায়েরের জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন এবং আদালতের এই আদেশের ব্যাপারে তাঁর মক্কেলের আইনি অবস্থান পরিষ্কার করেন। এডভোকেট ফরহাদ হোসেন নিয়ন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন যে, এই মামলাটি কোনো সাধারণ বা বাস্তবিক অপরাধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি, বরং এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশোধ নেওয়ার একটি নোংরা কৌশল।

আইনজীবী ফরহাদ হোসেন নিয়নের মূল বক্তব্য:

"আমার মক্কেল আহমেদ জোবায়ের এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক, ভিত্তিহীন এবং কেবল হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে। মূলত সময় মিডিয়া লিমিটেডের (Somoy Media Limited) অভ্যন্তরীণ মালিকানা, শেয়ার এবং দীর্ঘদিনের পরিচালনা সংক্রান্ত যে তীব্র বিরোধ চলছে, তারই জের ধরে বাদী মোবারক হোসেন সম্পূর্ণ প্রতিশোধমূলক মনোভাব থেকে এই মামলাটি সাজিয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতারণা বা কোনো প্রকার অর্থ আত্মসাতের কোনো সুনির্দিষ্ট, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণ বাদীপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। আমার মক্কেলরা দেশের অত্যন্ত দায়িত্বশীল নাগরিক এবং তারা আগামী দিনেও তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে আদালতকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।"

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান গোপন চুক্তির নথি ফাঁস: ১৪ দফায় যা থাকছে

(উল্লেখ্য, মামলার নথিতে মূল অভিযোগকারী হিসেবে সৈয়দ আসাদুজ্জামানের নাম থাকলেও আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে এই মামলার মূল নেপথ্য চালিকাশক্তি বা বাদী হিসেবে মোবারক হোসেনের নাম উল্লেখ করেন এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন)।

## অভিযুক্ত ও পলাতক আসামিদের বর্তমান আইনি অবস্থা

এই মামলায় মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল, যার মধ্যে আজ চারজন আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন। তবে বাকি দুজন আসামি আজ আদালতে উপস্থিত হননি এবং তারা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছেন। এই দুজন আসামি হলেন সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরের অত্যন্ত নিকটাত্মীয়—তাঁর স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী এবং তাঁর কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

যেহেতু গত ১৭ জুন (বুধবার) নির্ধারিত তারিখে এই পরিবারের সদস্যরা আদালতে হাজির হতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন, তাই বিজ্ঞ আদালত তাদের অবহেলার কারণে এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করার দায়ে বুধবারই তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছেন। আজ বৃহস্পতিবার আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হলেও তাঁর স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী এবং কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতার বিরুদ্ধে জারিকৃত সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি এখনো বহাল রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ প্রশাসন এখন এই পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করতে পারবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

## করপোরেট দ্বন্দ্ব ও জালিয়াতির অভিযোগের গভীর বিশ্লেষণ: একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকট

একটি নামী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার এভাবে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় কারাগারে যাওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের করপোরেট সুশাসনের (Corporate Governance) ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে। মামলার এজাহার ও শুনানির বিবরণী থেকে জানা যায়, সময় মিডিয়া লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ভেতরের কিছু নথিপত্র এবং শেয়ার সংক্রান্ত কাগজপত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ। আইন অনুযায়ী, যেকোনো পাবলিক বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা এমডি হলেন কোম্পানির প্রধান ট্রাস্টি বা বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি। তিনি যদি নিজের পদের অপব্যবহার করে কোনো ভুয়া নথিপত্র তৈরি করেন বা বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের অন্ধকারে রেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) এবং ৪২০ (প্রতারণা) ধারার অধীনে মারাত্মক শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

আসামিপক্ষ যদিও একে কেবলই মালিকানা দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ এবং প্রতিশোধমূলক মামলা বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে আদালতের পক্ষ থেকে আহমেদ জোবায়েরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি ইঙ্গিত করে যে, অভিযোগের পেছনে কিছু অকাট্য দালিলিক প্রমাণ বা ‘প্রাইমা ফেসি’ (Prima Facie) সত্যতা বিজ্ঞ বিচারকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একটি গণমাধ্যমের শীর্ষ পদে থেকে জালিয়াতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়া সামগ্রিকভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ততাকেও ক্ষুণ্ন করে।

## পরবর্তী আইনি পথ ও উচ্চ আদালতের সম্ভাবনা

আজ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আহমেদ জোবায়েরের জামিন নামঞ্জুর করায় এখন তাঁর আইনজীবীদের সামনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত কিংবা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জামিনের জন্য নতুন করে আপিল আবেদন করার পথ উন্মুক্ত রয়েছে। সাধারণত এই ধরনের করপোরেট জালিয়াতির মামলায় নিম্ন আদালত জামিন না দিলে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে যতক্ষণ না উচ্চ আদালত থেকে কোনো প্রকার অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ বা স্থগিতাদেশ আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সময় টিভির সাবেক এই প্রভাবশালী এমডিকে কারাগারেই অন্তরীণ থাকতে হবে। অন্যদিকে, জামিনপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি—আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরীকে মুক্ত অবস্থায় রেখেই এই মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম সমান্তরালভাবে চলবে। এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ওপর এখন সবার নজর থাকবে। দিগন্ত বাংলা নিউজের পক্ষ থেকে আমরা এই মামলার প্রতিটি আইনি মোড় এবং আদালতের খবরাখবর পাঠকদের সামনে অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও প্রফেশনাল উপায়ে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন