চীনের এআই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত ঝুঁকি: স্কট বেসেন্ট

চীনের এআই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত ঝুঁকি: স্কট বেসেন্ট

বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

## ওয়াশিংটন বনাম বেইজিংয়ের নতুন প্রযুক্তি যুদ্ধ: চীনের দ্রুত এআই উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত ঝুঁকি, নিউ ইয়র্কের ইকোনমিক ক্লাবে হুঁশিয়ারি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বর্তমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির পরিমণ্ডলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) কেবল একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোর টিকে থাকা এবং বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখার প্রধানতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের অভাবনীয় ও দ্রুত অগ্রগতির প্রক্রিয়াটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ও প্রধান কৌশলগত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নবনিযুক্ত মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)। তাঁর মতে, এআই প্রযুক্তির কারণে সাধারণ মানুষের চাকরি হারানো কিংবা অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রচলিত উদ্বেগের চেয়েও এই প্রযুক্তির বিশ্ববাজারে বেইজিংয়ের এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের জন্য অনেক বেশি গভীর ও সুদূরপ্রসারী চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক রূপরেখার তথ্য বিশদভাবে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ইকোনমিক ক্লাবে (Economic Club of New York) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সেমিনারে অত্যন্ত সুচিন্তিত ও নীতি-নির্ধারণী বক্তব্য দিতে গিয়ে স্কট বেসেন্ট বিশ্বমঞ্চে চীনের এই প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন যে, এআই প্রযুক্তির এই অসম প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে সামান্যতম ভুল বা অলসতা প্রদর্শন করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে আমেরিকার একচ্ছত্র একনায়কত্ব বা নেতৃত্ব চিরতরে ধুলোয় মিশে যেতে পারে।

## আলোচনার টেবিলে বেইজিং: আমেরিকার প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই এখন একমাত্র প্রধান ঢাল

নিউ ইয়র্কের ইকোনমিক ক্লাবে উপস্থিত বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ, বড় বড় টেক জায়ান্টের প্রধান নির্বাহী এবং সরকারি নীতি-নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক দীর্ঘ ও প্রামাণ্য বক্তৃতায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থান ও সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, বর্তমানে ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে এআই প্রযুক্তির আধুনিকতম সংস্করণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো পর্যন্ত চীনের চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। আর ঠিক এই একটিমাত্র কারণেই বা এই প্রযুক্তিগত ব্যবধানের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই চীন শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিলে বসতে এবং বিভিন্ন শর্তে সম্মত হতে বাধ্য হয়েছে।

আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনা আমাকে চিরদিনের জন্য ভালোবাসায় আটকে রেখেছে’ : চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা

স্কট বেসেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার মূল কৌশলগত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরও জোর দিয়ে বলেন:

"আমাদের খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে যে, এআই খাতের এই ক্ষণস্থায়ী ব্যবধান বা প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখাটা এখন আর কেবল কোনো বাণিজ্যিক বা বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা নয়; এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যদি কোনো কারণে বেইজিং আমাদের এই প্রযুক্তির গতিকে ওভারটেক বা অতিক্রম করতে পারে, তবে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক চালচিত্র সম্পূর্ণ উল্টে যাবে। তাই মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে একযোগে কাজ করে চীনের ওপর এই প্রযুক্তিগত আধিপত্যের দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।"

## ট্রাম্প-শি জিনপিং ঐতিহাসিক বৈঠক এবং এআই গভর্নেন্স নিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক দড়িটানাটানি

প্রযুক্তি খাতের এই তীব্র উত্তেজনার পেছনের কূটনৈতিক পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত মে মাসে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এক ঐতিহাসিক ও বহুপ্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। দুই পরাশক্তি দেশের শীর্ষ রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যকার সেই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পর বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধ এবং এআই গভর্নেন্স (AI Governance) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ, নৈতিক ব্যবহার ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশ একসাথে একটি নীতিমালার আওতায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছিল।

সেই সময় এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী প্রধান মুখপাত্র গুও জিয়াকুন (Guo Jiakun) এক বিশেষ আন্তর্জাতিক বিবৃতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেছিলেন, বর্তমান বিশ্বের দুই প্রধান ও সর্ববৃহৎ এআই চালিত পরাশক্তি দেশ হিসেবে মানব সভ্যতার সার্বিক টেকসই উন্নয়ন, বিজ্ঞান চর্চা এবং বৈশ্বিক সাধারণ কল্যাণের স্বার্থে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সম্পূর্ণ যৌথভাবে ও দায়িত্বশীল উপায়ে কাজ করা উচিত। তবে বেইজিং মুখে বিশ্ব কল্যাণের এই চমৎকার বুলি আওড়ালেও, পর্দার আড়ালে তারা গোপনে নিজেদের সামরিক রোবোটিকস এবং সাইবার যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে এআই-এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার মিশন চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

## অভ্যন্তরীণ সংকট বনাম জাতীয় নিরাপত্তা: চীনের ওপর চিপ রপ্তানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ও এর অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আমেরিকার পরিবেশবাদী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন যে, বিশালাকার এআই ডেটা সেন্টার (Data Center) পরিচালনার জন্য প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত জলবিদ্যুৎ এবং পানির অপচয় ও ব্যবহার হচ্ছে, তা দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সাথে এআই চ্যাটবট ও অটোমেশনের কারণে দেশের শ্রমবাজারে যে বিশাল কর্মসংস্থান সংকটের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ঘরের অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

তবে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের এই ধরণের তীব্র উদ্বেগ ও পরিবেশগত বৈরি প্রভাব থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এআই অবকাঠামো ও সুপারকম্পিউটার নির্মাণকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম অবিচ্ছেদ্য ও অলঙ্ঘনীয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। আর ঠিক এই কারণেই এআই প্রযুক্তিতে চীনের অগ্রযাত্রার গতিকে যেকোনো মূল্যে ধীর বা স্তব্ধ করে দিতে বেইজিংয়ের ওপর এনভিডিয়া (Nvidia) বা এএমডির (AMD) মতো মার্কিন কোম্পানির তৈরি অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক এআই চিপ (AI Chip) এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর ওয়াশিংটন অত্যন্ত কঠোর ও অভূতপূর্ব বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।

## বেইজিংয়ের পাল্টা আঘাত: ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত ও বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরণের একতরফা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত ব্লকেডের বিরুদ্ধে চুপ করে বসে থাকেনি শি জিনপিংয়ের চীন প্রশাসনও। মার্কিন চিপ নিষেধাজ্ঞার তীব্র পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও অর্থনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে সম্প্রতি চীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি প্রতিরক্ষা খাত, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং প্রযুক্তি খাতের সাথে ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪৬টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের বিশেষ কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) ঘোষণা করেছে। এর ফলে এই কোম্পানিগুলো চীনের বিশাল বাজার ও সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করতে পারবে না।

আরও পড়ুন: পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে আইএইএ-কে অনুমতি দেবে না ইরান, ট্রাম্পের পাল্টা দাবি

একই সাথে চীন আরও একটি মারাত্মক চাল চালার মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি বিশ্বকে বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টেক জায়ান্ট এমপি মেটেরিয়ালস (MP Materials) এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থ (USA Rare Earth) সহ অন্তত ১০টি শীর্ষ মার্কিন কোম্পানির কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ও কৌশলগত বিরল খনিজ উপাদান বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements) রপ্তানির ওপর সম্পূর্ণ বেআইনি বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বের অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), রোবোটিকস শিল্প, আধুনিক ফাইটার জেট এবং উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত অত্যন্ত স্পর্শকাতর ১৭টি অতি প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের বৈশ্বিক বাজারের প্রায় একচেটিয়া ৮০ শতাংশেরও বেশি প্রভাব ও খনি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বেইজিংয়ের হাতের মুঠোয় রয়েছে। এই খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে চীন মূলত মার্কিন প্রযুক্তির চাকা থামিয়ে দেওয়ার মোক্ষম চাল চালল।

## একনজরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রযুক্তিগত ও এআই কোল্ড ওয়ারের খতিয়ান

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং বিশ্ব অর্থনীতি কাঁপানো এই আমেরিকা ও চীনের এআই ও খনিজ যুদ্ধের সার্বিক বিবরণ একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:

পরাশক্তি দেশের নাম ও প্রধান খাতসমূহশীর্ষ নেতার নাম ও প্রশাসনিক পদবীএআই ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন নিয়ে অফিশিয়াল অবস্থান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন)

স্কট বেসেন্ট


(মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি)

* চীনের এআই উত্থান মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত ঝুঁকি।


* প্রযুক্তিগত আধিপত্য ধরে রাখতেই চীনের ওপর উন্নত এআই চিপ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা।

চীন (বেইজিং প্রশাসন)

গুও জিয়াকুন


(পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র)

* বিশ্ব কল্যাণের স্বার্থে দুই প্রধান এআই শক্তির যৌথভাবে কাজ করা উচিত।


* পাল্টা আঘাত হিসেবে ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত ও খনিজ বন্ধ।

কৌশলগত প্রধান প্রযুক্তি খাতসমূহএআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং* সুপারকম্পিউটার, অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ এবং রোবোটিকস শিল্প।
চীনের হাতে থাকা প্রধান ট্রাম্প কার্ড১৭টি রেয়ার আর্থ খনিজ সম্পদ* বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সামরিক যুদ্ধাস্ত্রের কাঁচামালের ওপর বেইজিংয়ের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ।

## সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টা রুখে দেওয়ার প্রত্যয়

নিউ ইয়র্কের ইকোনমিক ক্লাবের সেমিনারের শেষভাগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সরাসরি কোনো দেশের নাম মুখে উল্লেখ না করে বেইজিংয়ের এই খনিজ ব্ল্যাকমেইলিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেন এবং চীনকে এক কড়া সতর্কবার্তা প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ও আলটিমেটামমূলক ভাষায় বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বা গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনকে (Supply Chain) যারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করছে কিংবা সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি ও ডেটা চুরির যেকোনো নোংরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর, উপযুক্ত ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, আধুনিক রণতরী ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের মতো কৌশলগত খাতসমূহে মার্কিন নেতৃত্ব ও একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর ভাষায়, ভবিষ্যতে চীনের সাথে সম্ভাব্য যেকোনো ধরণের বড় সংকট, চরম বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বা যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবিলার জন্য বাইরের দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি সম্পূর্ণ শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য এবং স্বাধীন ‘সাপ্লাই চেইন’ গড়ে তোলা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় জাতীয় জরুরি কর্তব্য। কারণ বর্তমান আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে যে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা যত বেশি স্বাধীন ও শক্তিশালী, সেই দেশের রাষ্ট্রীয় শক্তি এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বও তত বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও অজেয় হয়ে ওঠে।

নিউজ সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন