দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

দেশের শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘ ১৪ মাসের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অবশেষে আগামী ২৮ জুন দেশজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

## অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে মহাপরিকল্পনা: দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন, ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এক বিশাল ও ইতিবাচক সুখবর এসেছে। তীব্র সরবরাহ সংকট ও নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর দেশব্যাপী আবারও একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন। আগামী ২৮ জুন ২০২৬ (রবিবার) সকাল ৮টা থেকে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে এই বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ক্যাম্পেইনের নির্ধারিত দিনে সারা দেশের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস (৫ বছর) বয়সী প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর এক বিশাল ও চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

আজ বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ‘জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান’ (IPHN)-এর সম্মানিত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসস’কে (BSS) আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা ক্যাম্পেইনের সার্বিক প্রস্তুতি ও তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় দেশের লাখ লাখ শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পুষ্টিহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সফলভাবে দূর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। এবারের ক্যাম্পেইনকে শতভাগ সফল করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান মাঠ পর্যায়ে এক অভূতপূর্ব ও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

## ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার টার্গেট: নীল ও লাল রঙের ক্যাপসুলের সুনির্দিষ্ট খতিয়ান

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত দাপ্তরিক তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এবারের জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমে সর্বমোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার এক নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা (Target) নির্ধারণ করা হয়েছে। শিশুদের বয়সের তারতম্য এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নিয়মানুযায়ী দুই রঙের আলাদা ডোজের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

আরও পড়ুন: চীনের এআই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত ঝুঁকি: স্কট বেসেন্ট

নিচে শিশুদের বয়স ও ক্যাপসুলের রঙের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও খতিয়ান তুলে ধরা হলো:

  • ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু (নীল রঙের ক্যাপসুল): এই বয়সী শিশুদের জন্য তুলনামূলক কম ডোজের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের ক্যাম্পেইনে সারা দেশ থেকে মোট ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে এই নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

  • ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু (লাল রঙের ক্যাপসুল): ১ বছর থেকে শুরু করে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নির্ধারিত রয়েছে। এই বিশাল বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে দেশের মোট ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে এই লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

## দুর্গম অঞ্চলে বিশেষ ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’: বাদ পড়বে না পাহাড় ও চরাঞ্চলের একটি শিশুও

ক্যাম্পেইনের নির্ধারিত দিনে মূল জনপদের শিশুরা সহজে কেন্দ্রে আসতে পারলেও দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের শিশুরা যেন কোনোভাবেই এই জীবনরক্ষাকারী পুষ্টিসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য বিশেষ স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, দেশের মোট ১২টি বিশেষ জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম (যেমন: হাওর, চরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকা), সেখানে মূল ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চারদিন একটানা বিশেষ ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ (Child to Child Searching) বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশু অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সশরীরে দুর্গম এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করবেন।

## ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং ৫০০টি বিশেষ মোবাইল কেন্দ্র প্রস্তুত: লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনেও মিলবে ক্যাপসুল

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে সর্বমোট ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছে। এই কেন্দ্রগুলো মূলত সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) নিয়মিত ও সুপরিচিত কেন্দ্র হিসেবেই ব্যবহৃত হবে, যা প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় অবস্থিত।

স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি যারা ভ্রমণের পথে থাকবেন বা ভাসমান অবস্থায় থাকবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত আধুনিক ও দূরদর্শী একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত পয়েন্টগুলোতে আরও অতিরিক্ত ৫০০টি বিশেষ মোবাইল কেন্দ্র (Mobile Center) স্থাপন করা হয়েছে,

আরও পড়ুন: ইলিয়াস আলী গুমের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউল: ট্রাইব্যুনালে বডিগার্ডের জবানবন্দি

মোবাইল কেন্দ্রগুলোর প্রধান অবস্থানসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

  1. নদী ও নৌপথ: দেশের ব্যস্ততম সবকটি লঞ্চঘাট ও ফেরীঘাট।

  2. রেলপথ: বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রধান প্রধান রেলস্টেশন।

  3. সড়কপথ: দূরপাল্লার বাসটার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ বাসস্টেশনসমূহ।

পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী অত্যন্ত আশ্বস্ত করে বলেন, "এবারের ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত মানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতিমধ্যেই আমাদের কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শতভাগ নিরাপদে পৌঁছে গেছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের সর্বস্তরের সচেতন অভিভাবকদের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, আপনারা আগামী ২৮শে জুন সকাল সকাল আপনাদের কাছাকাছি কেন্দ্রে গিয়ে সন্তানদের এই ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করুন।"

## শাহবাগে উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন: মাঠে থাকবেন সিভিল সার্জনরা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টায় রাজধানী ঢাকার শাহবাগস্থ বিখ্যাত আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক জমকালো ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় এই ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন সরকারের বর্তমান সফল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপরিচিত প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

রাজধানীর বাইরে তৃণমূল পর্যায়ে এই ক্যাম্পেইনকে জনপ্রিয় করতে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সম্মানিত সংসদ সদস্যরা (MP) স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠ পর্যায়ে লাখো নারী স্বাস্থ্যকর্মী ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত শ্রমের মাধ্যমে এই কার্যক্রম সফল করা হবে। মাঠের পুরো তদারকি ও তদারকি ব্যবস্থা কঠোর করতে জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন (Civil Surgeon) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (UH&FPO) তাদের বিশেষ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠ পরিদর্শনে যাবেন বলে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

## দীর্ঘ ১৪ মাস কেন বন্ধ ছিল ক্যাম্পেইন? নেপথ্যের কারণ ও ভিটামিন ‘এ’-এর জাদুকরী উপকারিতা

সাধারণত নিয়ম অনুসারে আমাদের দেশে বছরে দুইবার অর্থাৎ প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে ক্যাপসুলের তীব্র ঘাটতি ও কৃত্রিম সংকটের কারণে গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ মাসের পর থেকে দেশে আর কোনো ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ২৮ জুন আবারও এই সেবা চালু হচ্ছে।

আরও পড়ুন: একটাও সামনে আইবি না, একদম মাই"রা ফেলামু’: গাজীপুরে তোলপাড়

এই বিষয়ে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন:

"দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনটি আমরা বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে আবারও চালু করতে সক্ষম হয়েছি। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক বড় জয়। আমি দেশের সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ইমাম, শিক্ষক ও সমাজসেবকদের এই ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য বিশেষ আহ্বান জানাচ্ছি।"

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্রচার পত্রে ভিটামিন ‘এ’-এর জাদুকরী ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বলা হয়েছে যে, এই ক্যাপসুল কেবল শিশুদের রাতকানা বা অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকেই রক্ষা করে না; বরং এটি শিশুর শরীরে প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বহুগুণ বৃদ্ধি করে, শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাণঘাতী ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়া থেকে সুরক্ষা দেয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমিয়ে আনে।

## একনজরে বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের ঐতিহাসিক বিবর্তন ও বর্তমান চিত্র

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান ২০২৬ সালের ক্যাম্পেইনের সার্বিক খতিয়ান একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ আধুনিক তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:

সাল ও ঐতিহাসিক পর্যায়কর্মসূচির অফিশিয়াল নাম ও ধরনবর্তমান ২০২৬ সালের ক্যাম্পেইনের সর্বশেষ খতিয়ান
১৯৭৩ সাল (শুরু)জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম।ক্যাম্পেইনের চূড়ান্ত তারিখ: ২৮ জুন ২০২৬ (রবিবার)।
১৯৯৫ সাল (যুক্তকরণ)জাতীয় টিকাদান দিবসের (NID) সাথে অন্তর্ভুক্তি।ক্যাম্পেইনের দৈনিক সময়সূচি: সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
২০০৩ সাল (নতুন রূপ)জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন (বর্তমান নাম)।মোট কেন্দ্রের সংখ্যা: ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী ও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র।
২০১১ সাল (স্থায়ী উইং)জাতীয় পুষ্টিসেবা (NNS) কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়।সার্বিক তদারকি ও মনিটরিং: জেলা সিভিল সার্জন ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

## অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ রাষ্ট্রীয় জরুরি নির্দেশনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শিশু বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে দেশের সকল বাবা-মা ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে কিছু জরুরি সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভরা পেটে শিশুকে কেন্দ্রে নিয়ে এসে শান্ত পরিবেশে ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় কোনো শিশুকে জোরপূর্বক ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না, এতে ক্যাপসুলটি শিশুর শ্বাসনালীতে আটকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অসুস্থ কিংবা তীব্র জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে এই ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেশের জনস্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বড় বড় জাতীয় পলিসি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি নির্ভরযোগ্য ও জনকল্যাণমুখী খবরাখবর সবার আগে প্রফেশনাল ও শতভাগ ইউনিক উপায়ে আপনাদের সামনে নিয়মিত তুলে ধরতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজ সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন