শেওড়াপাড়ায় চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত তরুণের মৃত্যু

শেওড়াপাড়ায় চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত তরুণের মৃত্যু

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ায় প্রকাশ্য রাস্তায় চলন্ত মোটরসাইকেল থামিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করার লোমহর্ষক ঘটনার শিকার তরুণ রাফি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।

পূর্ব শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরবাইকে ইটের আঘাতে গুরুতর আহত তরুণের চিরবিদায়: আইসিইউতে নিভে গেল রাফির জীবনপ্রদীপ

রাজধানীর মিরপুর সংলগ্ন পূর্ব শেওড়াপাড়া ও কাফরুল থানা এলাকায় গভীর রাতে সংঘটিত এক লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত হামলার শিকার সেই তরুণ আর বেঁচে নেই। চলন্ত মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে প্রকাশ্য রাস্তায় ইট দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করার ঘটনায় গুরুতরভাবে জখম হওয়া তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) দীর্ঘ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে পরাজয় বরণ করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর জীবনের সব আশা চুকিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গতকাল রোববার (২১ জুন ২০২৬) সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালের আইসিইউ বেডে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তরুণ রাফিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘ প্রায় ১২ দিন ধরে যন্ত্রণার সাথে লড়াই করা এই তরুণের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুমহলে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের মা তানিয়া আক্তার অত্যন্ত আবেগতাড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমের কাছে তাঁর সন্তানের মৃত্যুর নির্মম সত্যটি নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেনও রাফির মৃত্যুর খবরটি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে জানান যে, এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

## ৯ জুনের সেই অভিশপ্ত রাত: যেভাবে পরিকল্পিত হামলার শিকার হন রাফি

হত্যাকাণ্ডের শিকার রাফির পারিবারিক সূত্র এবং কাফরুল থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখ দিবাগত গভীর রাতে। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত আনুমানিক সোয়া ১টা। তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফি নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে চড়ে একাকী কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর ও পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা হয়ে নিজের বাসার উদ্দেশে ফিরছিলেন।

আরও পড়ুন: সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত: ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

তিনি যখন পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নির্জন সড়কটি অতিক্রম করছিলেন, ঠিক তখনই পূর্বশত্রুতা ও গভীর আক্রোশের জেরে ওত পেতে থাকা একদল পেশাদার অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী আকস্মিকভাবে তাঁর চলন্ত মোটরবাইকের পথ আগলে দাঁড়ায়। রাফি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাঁকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁর মাথার ডান পাশে ভারী একটি কংক্রিটের ইট দিয়ে সজোরে আঘাত করে। ইটের সেই তীব্র ও প্রচণ্ড আঘাতে মাথার খুলি ভেঙে মগজে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হলে রাফি সাথে সাথেই মোটরসাইকেলসহ পিচঢালা পাকা রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়েন। গভীর রাতে এমন অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি দীর্ঘ সময় অচেতন হয়ে পড়ে থাকেন।

সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের চাতুরতা: দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা

নৃশংস এই হামলার পরপরই ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা একটি ভবনের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা তথা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে পুলিশ ও গোয়েন্দারা অপরাধীদের এক চরম ধূর্ততা ও চাতুরতার প্রমাণ খুঁজে পান। ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যায়, রাফিকে ইট দিয়ে আঘাত করে অবশ করে ফেলার পর হামলাকারীরা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এক অভিনব নাটকের আশ্রয় নেয়। তারা নিজেরাই আহত ও রক্তাক্ত রাফিকে রাস্তা থেকে টেনে তুলে অত্যন্ত দরদী সেজে একটি চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে দেয়, যাতে স্থানীয় লোকজন বা পথচারীরা তাদের খুনি হিসেবে সন্দেহ করতে না পারে।

শুধু তাই নয়, হামলার মূল হোতারা অত্যন্ত চতুরতার সাথে ওই অটোরিকশা চালক এবং আশেপাশে ছুটে আসা স্থানীয় সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করতে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। তারা উচ্চস্বরে প্রচার করতে থাকে যে, পাশের একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে অসাবধানতাবশত একটি ইট হঠাৎ নিচে পড়ে মোটরবাইক আরোহী এই তরুণের মাথায় লেগেছে এবং এটি একটি সাধারণ দুর্ঘটনা মাত্র। এই মিথ্যা দুর্ঘটনার গল্প সাজিয়ে সুযোগ বুঝে হামলাকারীদের একজন সদস্য ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা রাফির ব্যবহৃত দামী মোটরসাইকেলটি স্টার্ট দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চম্পট দেয়। তবে পুলিশের গভীর ও বৈজ্ঞানিক তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজের প্রতিটি ফ্রেম আলাদা করার পর এটি যে কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না, বরং অত্যন্ত নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল, তা শতভাগ প্রমাণিত হয়।

## ঢাকা ও ময়মনসিংহে ডিবি ও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: তিন খুনি গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নৃশংস অপরাধের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর রাজধানী জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং খুনিদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান শুরু করে। পুলিশের একাধিক চৌকস টিম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা এবং ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহের নতুন এসপি আশিস বিন হাসান: সিরাজগঞ্জের গর্ব

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন:

  • পারভেজ (৩০), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- ঢাকা।

  • আনোয়ার হোসেন বাবু ওরফে বাবু (৩২), সাং- ঢাকা।

কাফরুল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত এই পারভেজ ও বাবুর অপরাধনামা অত্যন্ত দীর্ঘ। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মাদক চোরাচালান, ছিনতাই, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তারা এলাকার চিহ্নিত পেশাদার অপরাধী ও মাদক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অপকর্মের সাথে লিপ্ত ছিল।

কেন এই হত্যাকাণ্ড? মাদক ও পুরোনো পারিবারিক বিরোধের নেপথ্য কাহিনী

তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফিকে কেন এভাবে নির্মমভাবে খুন করা হলো, তার পেছনের আসল মোটিভ ও কারণ উন্মোচন করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার। তিনি সাংবাদিকদের এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড হলো গ্রেপ্তারকৃত অপরাধী পারভেজ। এই পারভেজ একসময় নিহত রাফিদের নিজেদের বহুতল আবাসিক বাসাতেই দীর্ঘ দিন ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। সেই সুবাদে রাফিদের পরিবারের সাথে পারভেজের এক ধরনের পূর্ব পরিচয় ছিল।

ডিসি মোস্তাক সরকার আরও স্পষ্ট করেন:

"পারভেজ যখন ওই বাসায় ভাড়া থাকত, তখন সে গোপনে এলাকায় একটি বড় ধরণের অবৈধ মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। রাফি একজন সচেতন তরুণ হিসেবে তাদের এই অনৈতিক ও সমাজবিধ্বংসী মাদক ব্যবসার তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন এবং পারভেজের মাদক চক্রের বেশ কিছু গোপন তথ্য স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাফির সাথে পারভেজ ও তার অপরাধী সহযোগীদের চরম বিরোধ ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়। মাদক ব্যবসার ক্ষতি হওয়ার কারণে পারভেজ ক্ষিপ্ত হয়ে রাফিকে এর আগে একাধিকবার প্রাণনাশের সরাসরি হুমকিও দিয়েছিল।"

পুলিশের সুনির্দিষ্ট ডায়েরি ও তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন পারভেজ, তার সহযোগী ফয়সাল ওরফে কালু, আনোয়ার হোসেন বাবু এবং তাদের অন্য এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি অন্ধকার গলিতে দেশীয় অস্ত্র ও ইট নিয়ে আগে থেকেই ওত পেতে বসে ছিল। রাফি তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে ওই স্পটে পৌঁছামাত্রই তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এই রক্তক্ষয়ী হামলাটি বাস্তবায়ন করে।

আরও পড়ুন: জবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

একনজরে পূর্ব শেওড়াপাড়ার তরুণ রাফি হত্যাকাণ্ড ও পুলিশের আইনি পদক্ষেপ

পাঠকদের সুবিধার্থে এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্তমান আইনি ও প্রশাসনিক অবস্থা একনজরে সহজে অনুধাবন করার জন্য নিচে একটি বিশেষ তথ্য সারণী প্রদান করা হলো:

ঘটনার প্রধান প্রধান খাতসমূহঘটনার বিবরণ ও বর্তমান আইনি অগ্রগতি
নিহত তরুণের নাম ও বয়সসাজিদ চৌধুরী রাফি (২১)
মূল হামলার তারিখ ও সময়৯ জুন ২০২৬, দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে।
ঘটনাস্থল ও সুনির্দিষ্ট থানাপূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা, কাফরুল থানা, ঢাকা।
মৃত্যুর তারিখ ও স্থান২১ জুন ২০২৬ (রোববার), সকাল ৭টা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (আইসিইউ)।
প্রধান গ্রেপ্তারকৃত আসামিবৃন্দচিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পারভেজ (৩০) এবং আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য মূল কারণরাফিদের বাসার সাবেক ভাড়াটিয়া পারভেজের অবৈধ মাদক ব্যবসার তীব্র প্রতিবাদ করা।

আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে মিরপুরবাসী

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাফির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর লাশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একমাত্র তরুণ সন্তানকে হারিয়ে রাফির মা-বাবা এখন সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ ও প্রায় পাগলপ্রায়। অপরাধীরা রাফিকে হত্যার পর দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা করেছিল, তা উন্মোচিত হওয়ায় স্থানীয় পূর্ব শেওড়াপাড়া ও ইব্রাহিমপুরের সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন।

কাফরুল থানা পুলিশ সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছে, এই ঘটনায় পলাতক থাকা বাকি দুই আসামি ফয়সাল ওরফে কালু এবং আমিনকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রযুক্তিগত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের খাঁচায় বন্দি করা হবে। দেশের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া এমন প্রতিটি স্পর্শকাতর অপরাধ, সামাজিক অবক্ষয়, খুনের মামলার নেপথ্য কাহিনী এবং আইনি অগ্রগতির প্রতি মুহূর্তের নির্ভরযোগ্য খবরাখবর প্রফেশনাল ও শতভাগ ইউনিক উপায়ে আপনাদের সামনে নিয়মিত তুলে ধরতে ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টাল সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন