ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছি, জার্মানিকেও ছাড় দেব না: হুঁশিয়ারি প্যারাগুয়ে কোচের

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছি, জার্মানিকেও ছাড় দেব না: হুঁশিয়ারি প্যারাগুয়ে কোচের
ছবি: সংগৃহীত

খেলাধুলা ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বোস্টন (যুক্তরাষ্ট্র): আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলের চিরচেনা আগ্রাসী রূপ নিয়ে আবারও হাজির হয়েছে প্যারাগুয়ে। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ দেড় দশক পেরিয়ে এবারই প্রথম বিশ্ব আসরের নকআউট বা শেষ ৩২-এর ঐতিহাসিক লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে লা আলবিরোখাতারা। তবে নকআউট পর্বের শুরুতেই তাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ফুটবলের এক বিশাল পরাশক্তি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ল্যাটিনদের দিতে হবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির কঠিন পরীক্ষা।

তবে প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী কিংবা ঐতিহ্যবাহী হোক না কেন, জার্মানিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ প্যারাগুয়ে। ম্যাচ শুরুর আগে প্যারাগুয়ের ডাগআউটে থাকা মাস্টারমাইন্ড কোচ গুস্তাভো আলফারো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে কীভাবে ফেভারিটদের মাটিতে নামাতে হয় তা তার শিষ্যরা ভালো করেই জানে।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বধের স্মৃতিই প্যারাগুয়ের মূল অস্ত্র

বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরের একটি ঐতিহাসিক ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। জুলিয়ান নাগলসম্যানের রণকৌশলে সাজানো শক্তিশালী জার্মানির মুখোমুখি হওয়ার আগে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর প্যারাগুয়ে বস গুস্তাভো আলফারো কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হচ্ছে দুদকের জাল: এবার ইউনিয়ন স্তরেও ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’

তিনি মূলত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্মৃতিকেই নিজেদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হিসেবে দেখছেন। সংবাদ সম্মেলনে আলফারো তার দলের শক্তিমত্তা ও প্রতিপক্ষ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বলেন:

  • সমমানের প্রতিপক্ষ: আমরা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা দলগুলোর মুখোমুখি হয়েছি এবং তাদের হারিয়েছি। শক্তির বিচারে তারা বর্তমান জার্মানি দলের সমকক্ষ, এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক।

  • শিরোপার দাবিদার: ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল এবং তারা সবসময়ই যেকোনো টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপ জয়ের প্রধান দাবিদার হিসেবে মাঠে নামে।

  • লড়াইয়ের মানসিকতা: সেই দলগুলোর বিপক্ষে আমরা শুধু রক্ষণভাগ সামলানোর ফুটবল খেলিনি, বরং তাদের চোখের চোখ রেখে কঠিন লড়াই করেছি এবং মাঠের পারফরম্যান্সে যোগ্যতা প্রমাণ করেই জয় ছিনিয়ে এনেছি। সুতরাং, জার্মানিকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ আমাদের নেই।

প্যারাগুয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর রোমাঞ্চকর উপাখ্যান

চলতি বিশ্বকাপের মূল আসরে ল্যাটিন আমেরিকার এই দলটির পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শুরুর দিকে টানা ব্যর্থতায় যখন প্যারাগুয়ের ফুটবল ধ্বংসের মুখে, ঠিক তখনই ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন গুস্তাভো আলফারো। তার জাদুকরী ছোঁয়াতেই রাতারাতি বদলে যায় দলটির খেলার ধরন।

তবে চলতি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসরের গ্রুপ পর্বের সমীকরণগুলো বেশ নাটকীয় ছিল, যা নিচে আলাদা আলাদা লাইনে তুলে ধরা হলো:

  • প্রথম ম্যাচের ধাক্কা: বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ও শক্তিশালী দল যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়ে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছিল প্যারাগুয়ে।

  • তুরস্কের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়: দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আলফারোর দল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় প্যারাগুয়ে। তবে সেই প্রতিকূলতা জয় করে তুরস্কের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের এক রূপকথার জয় তুলে নেয় তারা।

  • অস্ট্রেলিয়ার সাথে লড়াই: গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সকারুজ খ্যাত অস্ট্রেলিয়ার সাথে মাঠের লড়াইয়ে শতভাগ রক্ষণাত্মক ও কৌশলী ফুটবল খেলে গোলশূন্য (০-০) ড্র করে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি।

জার্মানি ম্যাচের আগে প্যারাগুয়ে শিবিরের চোট ও নিষেধাজ্ঞার খতিয়ান

নকআউট পর্বের মতো বাঁচা-মরার ম্যাচের আগে প্যারাগুয়ে দলে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু বড় ধাক্কা এবং ইনজুরির দুশ্চিন্তা। দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ঠিক কেমন, তা নিচে বিস্তারিত পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:

আরও পড়ুন: যুদ্ধের খরচ মেটাতে ট্রাম্পের বড় চাল, কংগ্রেসের কাছে ৮৭৬০ কোটি ডলার দাবি

  • মিডফিল্ডে বড় শূন্যতা: গ্রুপ পর্বে টানা দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখার কারণে আজকের হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকছেন দলের মাঝমাঠের প্রধান ভরসা মিডফিল্ডার ডিয়েগো গোমেজ, যা দলের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

  • ডিফেন্সে অনিশ্চয়তা: ইনজুরির কারণে দলের মূল সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ওমর আলদেরেতের শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচের মূল একাদশে তার মাঠে নামা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

  • আলমিরনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: প্যারাগুয়ে শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, দলের সেরা তারকা ও নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড মিগুয়েল আলমিরন এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সরাসরি দলে ফিরছেন। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

  • প্রস্তুতির ঘাটতি: নকআউট পর্বের সূচির গ্যাঁড়াকলে পড়ে জার্মানির মতো দলের বিপক্ষে নামার আগে প্যারাগুয়ে দল মাত্র একটি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন সেশন পার করার সুযোগ পেয়েছে।

কোচ গুস্তাভো আলফারো সংবাদ সম্মেলনের শেষে যোগ করেন, জার্মানির গতিময় ফুটবলের লাগাম টেনে ধরার জন্য তারা একটি সম্পূর্ণ গোপন ও বিশেষ কৌশল (Special Tactics) তৈরি করেছেন। আলমিরন দলে ফেরায় তাদের আক্রমণভাগের ধার অনেক বাড়বে। বোস্টনের দর্শকরা আজ রাতে একটি বিশ্বমানের লড়াকু ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাচ্ছে, যেখানে প্যারাগুয়ে তাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে লড়াই করবে।

নিউজের সূত্র: ফিফা মিডিয়া হাব এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন