তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রদর্শিত ৫ কফিন: খামেনি ও তার পরিবারের মরদেহ নিয়ে তোলপাড়

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রদর্শিত ৫ কফিন: খামেনি ও তার পরিবারের মরদেহ নিয়ে তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও মারাত্মক ভূকম্পন সৃষ্টিকারী ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের ঐতিহ্যবাহী ইমাম খোমেইনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৫টি বিশেষ কফিন সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন অতি নিকটতম সদস্যের নিথর মরদেহ এই গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসার পর সেখানে সমগ্র দেশের সাধারণ মানুষের এক অভূতপূর্ব ও স্বতঃস্ফূর্ত ঢল নেমেছে। হাজার হাজার শোকার্ত ইরানি নাগরিক তাদের সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো একনজর দেখতে এবং তাদের প্রতি গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করতে মোসাল্লা চত্বরে ভিড় জমাচ্ছেন। এই ঘটনাটি ইরানসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে এক নজিরবিহীন শোকের আবহাওয়া সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: ডিগ্রিবটলার মেসে শোকের ছায়া

ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ও অফিশিয়াল গণমাধ্যমগুলো এই চরম স্পর্শকাতর ও ঐতিহাসিক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রদর্শিত এই ৫টি কফিনের ভেতরে ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পাশাপাশি তাঁর পরিবারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪ সদস্যের মরদেহ শায়িত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, এই কফিনগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে আলি খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত জামাতা মেসবাহ-উল-হুদা বাঘেরি, খামেনির জ্যেষ্ঠ কন্যা সাইয়্যেদেহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, তাঁর পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং খামেনির পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য তথা তাঁর মাত্র চৌদ্দ মাস বয়সী নিষ্পাপ নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়গানির নিথর দেহ। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বা মৃত্যুর ঘটনাটি বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) তাদের বিশেষ বুলেটিনে প্রকাশ করেছে যে, মোসাল্লা চত্বরে মাত্র চৌদ্দ মাস বয়সী শিশু নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়গানির কফিনের সামনে তার একটি নিষ্পাপ ও সুন্দর ছবি বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা প্রতিটি কফিনকেই অত্যন্ত রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং সবকটি কফিনের ওপরেই ইরানের জাতীয় পতাকা সুনিপুণভাবে আঁকা বা জড়ানো রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ‘ইরিব’ (IRIB) তাদের সরাসরি সম্প্রচারে জানিয়েছে যে, এই জাতীয় ট্র্যাজেডির খবর পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন।

উদ্বোধনী ও প্রথম দিকের দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা গ্র্যান্ড মোসাল্লায় গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন: ফোন নম্বর ছাড়াই মেসেজিং: হোয়াটসঅ্যাপে আসছে যুগান্তকারী ইউজারনেম ফিচার

সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া এই মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি উত্থাপন করেছে।

ইরানি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তাঁর পরিবারের এই সকল সদস্য সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক প্রথম দিকে এক ভয়াবহ হামলায় নিহত হন।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনি পরিবারের এই আকস্মিক অন্তর্ধান বা মৃত্যুর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের কান্নার রোল এবং ক্ষোভের যে বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোরতম সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই মহাসংকটময় মুহূর্তে ইরানের পরবর্তী শাসনভার এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে সারাবিশ্বের কূটনীতিবিদদের নজর এখন তেহরানের দিকে।

নিউজের সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ইরানি মিডিয়া ইরনা।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন