সারাদেশ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পাবনা: উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) এক নবীন নারী শিক্ষার্থীর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তথা ১৭তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ডিগ্রিবটলা নামক এলাকার ‘মায়ের দোয়া কুটির’ নামের একটি ছাত্রীবাস বা মেসে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ডিগ্রিবটলা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে এক স্তব্ধতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টা শূন্য মিনিটের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল ওই মেসের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
হৃদয়বিদারক ও অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার শিকার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম রাজমনি ইসলাম, যার বয়স হয়েছিল মাত্র ১৮ বছর। সে দেশের উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার অন্তর্গত নেকমরদে গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাসিন্দা মো. আকালু ইসলামের আদরের কন্যা ছিল। উচ্চশিক্ষা অর্জনের এক বুক স্বপ্ন নিয়ে সে নিজ জেলা থেকে এসে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল এবং ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকে ডিগ্রিবটলা এলাকার ওই মেসে অবস্থান করছিল। তবে কী কারণে মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই তরুণী জীবনের এমন চরম ও বেদনাদায়ক পথ বেছে নিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে মেসের অন্যান্য আবাসিক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাঁথিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর গণধোলাই: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর আগুন ও ভাঙচুর
স্থানীয় ও মেস সূত্রে নিবিড়ভাবে জানা গেছে যে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘মায়ের দোয়া কুটির’ মেসের ঠিক পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে আসা বেশ কয়েকজন রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক কক্ষে শিক্ষার্থীর এই ঝুলন্ত অবস্থা প্রথম প্রত্যক্ষ করেন।
জানলার ফাঁক দিয়ে বিষয়টি তাদের নজরে আসার সাথে সাথেই তারা অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মেসের মূল মালিককে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবন করে মেস মালিক তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা অথবা স্থানীয় থানা পুলিশকে ফোনে বিষয়টি জানান এবং ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করেন।
আত্মহত্যার খবর পেয়ে আতাইকুলা বা পাবনা সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের একটি বিশেষ দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ডিগ্রিবটলা এলাকার উক্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
নিহতের এক সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান যে, তিনি মেস থেকে খবর পেয়ে যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন পুলিশ কক্ষের মূল প্রবেশদ্বার বা দরজা খুলে ভেতরে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
পুলিশ সদস্যরা কক্ষের সিলিং ফ্যান বা আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে রাজমনি ইসলামের নিথর ও নিস্প্রাণ দেহটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিচে নামিয়ে আনে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
আরও পড়ুন: তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হচ্ছে দুদকের জাল: এবার ইউনিয়ন স্তরেও ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’
পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে।
ওসি তরিকুল ইসলাম আরও জানান যে, আইনি সুরতহাল ও প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের মর্গে এনে সুরক্ষতি রাখা হয়েছে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক, মানসিক বা পারিপার্শ্বিক প্ররোচনা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি সাধারণ ডায়েরি বা অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে পরিশেষে জানানো হয়েছে যে, যথাযথ ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং সামগ্রিক তদন্ত শেষ হলেই এই তরুণী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত ও আসল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।
নিউজের সূত্র: পাবনা সদর থানা পুলিশ ও পাবিপ্রবি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।