অপরাধ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পাবনা: উত্তরবঙ্গের অন্যতম শান্ত জেলা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক মর্মান্তিক, বর্বরোচিত ও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করা ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আতাইকুলা থানার অন্তর্গত আর আতাইকুলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলকুলা গ্রামে এক অষ্টম শ্রেণির অসহায় স্কুলছাত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে পাশবিক ও নির্মমভাবে ধর্ষণ করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ন্যক্কারজনক ও জঘন্য ঘটনার খবরটি যখনই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তখনই সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও গ্রামবাসী চরম বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনার আকস্মিকতায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিযুক্ত আসামিদের বসতবাড়িতে একযোগে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টা শূন্য মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতার একটি বিরাট অংশ এই অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ঘটায়, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রযুক্তিকর্মীদের জয়জয়কার: তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত
ভয়াবহ ও লোমহর্ষক এই ঘটনাটি প্রথম সংঘটিত হয়েছিল গত মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) শেষ রাতে অর্থাৎ ভোর চারটা শূন্য মিনিটের দিকে। ওই সময় উপজেলার প্রত্যন্ত বিলকুলা গ্রামের এক ওত পেতে থাকা অসাধু চক্র এই ঘটনাটি ঘটায়। এই স্পর্শকাতর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে স্থানীয় আতাইকুলা থানায় ইতিমধ্যেই একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলার এজাহার ও এজাহারের বিবরণী থেকে জানা গেছে যে, বিলকুলা গ্রামের এক সৌদি আরব প্রবাসী ব্যক্তির স্ত্রী ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। প্রবাসীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী লম্পট মামুন (৩৪) এবং তার সহযোগী জুয়েল (৩৫) প্রায়শই গভীর রাতে ওই প্রবাসীর ঘরের জানলা ও ভেন্টিলেটর দিয়ে অনৈতিকভাবে উঁকিঝুঁকি মারত এবং বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করত।
গত মঙ্গলবার ভোর চারটা শূন্য মিনিটের দিকে যখন ওই প্রবাসীর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাবালিকা মেয়েটি প্রাত্যহিক ও পারিবারিক প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হয়, তখন আগে থেকেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ওত পেতে থাকা মামুন ও জুয়েল তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: নাটোরে ফরম পূরণের টাকা গায়েব: প্রবেশপত্র না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী
লম্পট মামুন ও জুয়েল প্রথমে ওই স্কুলছাত্রীর ওড়না দিয়ে তার মুখ অত্যন্ত শক্তভাবে বেঁধে ফেলে যেন সে কোনো চিৎকার বা প্রতিবেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারে।
পরবর্তীতে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তাদের বাড়ির পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পর্যায়ক্রমে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে।
পাশবিক নির্যাতনের চরম মুহূর্তে অভিযুক্ত কামুক অপরাধীরা তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোনে এই ধর্ষণের দৃশ্য ও ছবি ধারণ করে, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছে।
ধর্ষণের নির্মমতা শেষে তারা ভুক্তভোগী ছাত্রীকে এই বলে কঠোর হুমকি দেয় যে, এই জঘন্য ঘটনাটি যদি সে তার মা, পরিবার কিংবা অন্য কাউকে জানায়, তবে তাকে এবং তার পুরো পরিবারকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হবে।
অপরাধীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর মারাত্মকভাবে আহত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ওই স্কুলছাত্রী কোনো রকমে বাড়ি ফিরে এসে কান্নাভেজা কণ্ঠে পুরো ঘটনাটি তার মায়ের কাছে বিস্তারিতভাবে খুলে বলে।
মেয়ের মুখে এমন ভয়াবহ ও লোমহর্ষক নির্যাতনের কথা শোনার পর প্রবাসীর স্ত্রী আর কালক্ষেপণ না করে নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্ত মামুন ও জুয়েলকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে আতাইকুলা থানায় একটি কঠোর ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
এদিকে এই পাশবিক ও পৈশাচিক ঘটনাটি লোকমুখে জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই পুরো আর আতাইকুলা ইউনিয়নজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) রাতে অভিযুক্ত মামুনের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ এখানেই প্রশমিত হয়নি, বরং পরবর্তী দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা শূন্য মিনিটের দিকে তারা অপর অভিযুক্ত জুয়েলের বাড়ি ঘেরাও করে এবং তার পুরো ঘরবাড়ি লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে সম্পূর্ণ ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত মামুন ও জুয়েল দুজনেই বিলকুলা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, যাদের মধ্যে মামুন পেশাগত জীবনে দুই সন্তানের জনক এবং জুয়েল তিন সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও এমন জঘন্য ও সামাজিক অপরাধে লিপ্ত হয়েছে।
নিউজের সূত্র: পাবনা জেলা প্রতিনিধি ও আতাইকুলা থানা পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।