কুয়ালালামপুর: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি এক সময় মূলত শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর কাজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গত দুই দশকে সেই সনাতন ধারায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে মালয়েশিয়ার আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতিতে তথাকথিত শ্রমিকের সংজ্ঞাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশি তরুণেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিনটেক সলিউশন, ডাটা অ্যানালিটিক্স এবং উচ্চতর উদ্যোক্তা হিসেবে। দেশটির প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণ এবং ডিজিটাল রূপান্তরে বাংলাদেশিরা এখন একটি অপরিহার্য ও আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন।
গত বছর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনারের কাছ থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করা ব্রেইন স্টেশন ২৩ টেক এসডিএন বিএইচডি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিইও আফনান আমাদের এই প্রতিবেদককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গত দুই দশকের ব্যবধানে মালয়েশিয়ানদের কাছে বাংলাদেশিদের সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক বা সীমাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক ইতিবাচক বিবর্তন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, “আগে প্রবাসীদের শুধুমাত্র কায়িক শ্রমের সাথে তুলনা করা হতো, কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের তরুণরা সেখানে উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং উচ্চতর প্রযুক্তিগত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: শয়তানের কুপ্ররোচনা ও চক্রান্ত থেকে আত্মরক্ষার সুনির্দিষ্ট ইসলামিক উপায়
মালয়েশিয়ার অনেক স্বনামধন্য ও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি পেশাজীবীরা সরাসরি ডিজিটাল রূপান্তরের নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাথে মালয়েশিয়ার শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেমের এক চমৎকার সমন্বয় গড়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের জন্যই বিশাল সাফল্যের বার্তা বয়ে আনছে।
মালয়েশিয়ার উচ্চতর ডিজিটাল ট্যালেন্টের চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশের রয়েছে মেধাবী ও প্রযুক্তিপ্রেমী বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, যারা দেশটির ডিজিটাল অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সক্ষম।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ডিং ও সম্প্রসারণের একটি কার্যকর ও লাভজনক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর সিইও আফনানের মতে, আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে কেবল সনাতন শিক্ষাগত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; বরং বিশেষায়িত দক্ষতার দিকে নজর দিতে হবে।
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাটা অ্যানালিটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল বিজনেস ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।
বিদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য ভিসা বা ইমিগ্রেশন নীতিতে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও, সুপরিকল্পিত ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা থাকলে মালয়েশিয়ার বাজার বাংলাদেশি তরুণদের জন্য অবারিত সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেয়।
আরও পড়ুন: বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ সিটিক টাওয়ারে বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনা, ১০৯ তলা ভবনে তীব্র আতঙ্ক
এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, নিজস্ব পোর্টফোলিও তৈরি এবং বিশ্বমানের পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
দুই দেশের মধ্যকার প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদার করার মাধ্যমে আগামী দিনে বাংলাদেশি কর্মীরা কেবল মালয়েশিয়া নয়, পুরো বিশ্বের প্রযুক্তি মানচিত্রে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
উদ্ভাবনী বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার এই প্রযুক্তি সহযোগিতা আগামীর স্মার্ট অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হতে যাচ্ছে।
নিউজের সূত্র: ব্রেইন স্টেশন ২৩ টেক (মালয়েশিয়া)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।