সিরাজগঞ্জ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রায়গঞ্জ: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিশেষ ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস ও বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এক অত্যন্ত সফল অভিযান চালিয়ে আদালতের ৪টি ভিন্ন মামলার চূড়ান্ত সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) বেলা বাড়ার সাথে সাথে রায়গঞ্জ থানার একটি চৌকস টিম অত্যন্ত সুসংগঠিত উপায়ে উপজেলার ধানগড়া পূর্বপাড়া এলাকায় এই বিশেষ আকস্মিক অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনা করে।
পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া ওই অপরাধী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. নিজাম আলী (৩৬)। রায়গঞ্জ থানা পুলিশের তদন্ত শাখা থেকে প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য বিবরণী অনুযায়ী জানা গেছে যে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. নিজাম আলী হলেন রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া পূর্বপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আদালতের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপন করে চলছিলেন। পুলিশ গোপন সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পায় যে, আসামি নিজাম আলী সম্প্রতি অত্যন্ত গোপনে ধানগড়ায় অবস্থিত তার নিজ বাড়িতে এসে অবস্থান করছেন। এই সংবাদের সত্যতা যাচাই করার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ দল ওই বাড়িটি চারপাশ থেকে কর্ডন বা ঘেরাও করে ফেলে এবং ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. নিজাম আলীকে তার নিজ বাড়ি থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন: পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলেই কঠোর শাস্তি: ১ লাখ টাকা জরিমানা ও জেলের বিধান
রায়গঞ্জ থানা পুলিশের নির্ভরযোগ্য ও অফিশিয়াল রেকর্ড সূত্র থেকে আরও জানা যায় যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. নিজাম আলীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে দায়ের হওয়া সি.আর. ৪০১/২৫ নম্বর মামলার অধীনে একটি সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা পরোয়ানা জারি ছিল। তবে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, শুধুমাত্র এই একটি মামলাই নয়, বরং একই ব্যক্তির নামে বিজ্ঞ আদালত থেকে পৃথক পৃথক ফৌজদারি অপরাধে মোট চারটি ভিন্ন ভিন্ন মামলার চূড়ান্ত সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল এবং প্রতিটি মামলাতেই তিনি বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক আইনগতভাবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ঘোষিত ছিলেন। থানা হেফাজতে নিয়ে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করে আজ দুপুরের পর পুলিশ স্কোয়াড ও কঠোর নিরাপত্তা পাহারার (পুলিশ এসকর্ট) মাধ্যমে আসামিকে সিরাজগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ধানগড়া পূর্বপাড়া এলাকায় পরিচালিত এই সফল অভিযান এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীদের এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। ওসি আহসানুজ্জামান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, বিজ্ঞ আদালতের দেওয়া যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত সাজা, জরিমানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের সুশৃঙ্খল আওতায় নিয়ে আসতে রায়গঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এই ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান প্রতিনিয়ত অব্যাহত রয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো অপরাধী বা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সমাজের বুকে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। অপরাধী বা আইনের দৃষ্টিতে পলাতক ব্যক্তি চাতুরতার সাথে যতই দিন ধরে কিংবা যেখানেই আত্মগোপনে থাকুক না কেন, তাকে শেষ পর্যন্ত পুলিশের খাঁচায় বন্দি হতেই হবে এবং আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের অপরাধের মুখোমুখি হতেই হবে। রায়গঞ্জ উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রাখতে এবং বিজ্ঞ আদালতের পবিত্র নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়নে আমাদের এই ধরনের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার ও চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন: কর্ণফুলীতে নোঙর করা ফিশিং ট্রলারে বিকট বিস্ফোরণ: ৬ নাবিক দগ্ধ, ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আরও বলেন যে, উপজেলার সর্বত্র সব ধরনের অপরাধ ও অপরাধ প্রবণতা দমনে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি কঠোরভাবে বজায় রেখে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। রায়গঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ ও নিরীহ মানুষের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি অপরাধমুক্ত ও শান্তিময় সমাজ গঠন করতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামগুলোতে আত্মগোপন করে থাকা ওয়ারেন্ট ও পরোয়ানাভুক্ত অন্যান্য আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশের এই বিশেষ তৎপরতা ও অভিযান আগামী দিনগুলোতেও সমান্তরালভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
নিউজের সূত্র: রায়গঞ্জ থানা পুলিশ প্রশাসন, সিরাজগঞ্জ জেলা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।