সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার নির্দেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার নির্দেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
ছবি: সংগৃহীত
জীবনযাপন ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ঢাকা: বর্ষা মৌসুমের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশজুড়ে এডিস মশাবাহিত মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ও প্রকোপ সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রতি বছরই এই সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর একটি বিশাল বড় চাপ সৃষ্টি করে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে এবং বিশেষ করে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী ও মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। দেশের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ দ্রুত ও সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘এনএস১’ (NS1) পরীক্ষাটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের এই জনবান্ধব উদ্যোগের ফলে সাধারণ রোগীরা কোনো ধরণের ফি বা খরচ ছাড়াই ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রাথমিক সংক্রমণ পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন, যা চিকিৎসাক্ষেত্রে এক বিশাল স্বস্তি এনে দেবে।

​স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ পরিপত্র ও দাপ্তরিক নির্দেশনা

​স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৫ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি অতি জরুরি দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে জারি করা এই বিশেষ আদেশটিতে স্বাক্ষর করেছেন সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-সচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন: সাভারে এনসিপির সমাবেশে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াতের, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

​জারিকৃত সরকারি ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ রোগীদের দ্রুত রোগ নির্ণয়ের সুবিধার্থে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণের প্রধান পরীক্ষা ‘এনএস১’ (NS1 Antigen Test) আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা বিনা খরচে সম্পন্ন করার জন্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এই নির্দেশনা অবিলম্বে দেশের প্রতিটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

​দেশব্যাপী তৃণমূল স্বাস্থ্য কাঠামোতে জরুরি বার্তা প্রেরণ

​স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তটি যেন শুধুমাত্র কাগজের কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষ যেন এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে এই বিশেষ আদেশের অনুলিপি এবং অবগতিপত্র দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি স্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছে।

​মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য যাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তাদের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • ​দেশের সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সম্মানিত পরিচালকবৃন্দ।
  • ​দেশের প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সিভিল সার্জনগণ।
  • ​প্রতিটি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও)।
  • ​সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কগণ।

​এই সমস্ত কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাদের অধীনস্থ হাসপাতালগুলোতে কোনো অবস্থাতেই ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার ফি বা টাকা আদায় না করা হয়। যদি কোনো হাসপাতালে এই নিয়ম অমান্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

​চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে 'এনএস১' (NS1) পরীক্ষার গুরুত্ব এবং কার্যকারিতা

​জনসাধারণের সচেতনতার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে জানানো প্রয়োজন যে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে এবং সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়নে ‘এনএস১’ (NS1 - Non-Structural Protein 1) পরীক্ষাটি কেন এত বেশি অপরিহার্য। চিকিৎসকদের মতে, কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে জ্বর দেখা দেওয়ার প্রথম দিন থেকে শুরু করে পঞ্চম দিন পর্যন্ত এই এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষাটির মাধ্যমে রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

​প্রাথমিক অবস্থায় ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত করার প্রধান বৈজ্ঞানিক সুবিধাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  • গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ: ডেঙ্গু জ্বর প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে রোগীর শরীরে প্লাটিলেট কমে যাওয়া, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কিংবা মারাত্মক 'ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম'-এর মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকিগুলো অনেকলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
  • সঠিক তরল বা ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট: ডেঙ্গুর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক পরিমাণে স্যালাইন বা তরল খাবার দেওয়া। রোগটি আগেভাগে শনাক্ত হলে চিকিৎসকেরা প্রথম থেকেই রোগীকে সঠিক গাইডলাইন দিতে পারেন।
  • অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার রোধ: অনেক সময় সাধারণ জ্বর মনে করে রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। ডেঙ্গু নিশ্চিত হলে এই ধরণের ভুল চিকিৎসা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

​অতীতে দেখা গেছে, অনেক গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সামান্য ফির ভয়ে কিংবা অবহেলা করে সময়মতো ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতেন না। ফলস্বরূপ, রোগটি যখন অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করত এবং প্লাটিলেট আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেত, তখনই কেবল তারা হাসপাতালে আসতেন। ততক্ষণে অনেক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ত। সরকারের এই সম্পূর্ণ ফ্রি পরীক্ষার সিদ্ধান্তের ফলে এখন জ্বর আসার সাথে সাথেই মানুষ হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত হবেন, যা ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

​মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং সামাজিক নিরাপত্তা

​অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকারের এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি বড় ধরণের আর্থিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে একটি ডেঙ্গু এনএস১ পরীক্ষা করাতে সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি টাকা খরচ করতে হয়। একটি পরিবারে যদি একাধিক সদস্য একসাথে জ্বরে আক্রান্ত হন, তবে শুধুমাত্র রোগ নির্ণয় করতেই সাধারণ মানুষের হিমশিম খেতে হতো। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের দিনমজুর এবং খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল।

​এখন দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা সদর হাসপাতালে এই পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা সাশ্রয় হবে। এই সাশ্রয়কৃত টাকা রোগীরা তাদের পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার পেছনে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি দেশের সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা ও মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে একটি প্রশংসনীয় ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

​ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণের ভূরাজনৈতিক ও জলবায়ুগত যৌক্তিকতা

​স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই ফ্রি পরীক্ষার মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করার পেছনে সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। আবহাওয়াবিদ ও কীটতত্ত্ববিদদের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত জুন-জুলাই মাস থেকে শুরু করে অক্টোবর-নভেম্বর, এমনকি ডিসেম্বরের শীতের আমেজ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এডিস মশার প্রজনন ও ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। বর্ষার জমা জল এবং পরবর্তী সময়ে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হয়।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্সে অবিশ্বাস্য গতি: মাত্র ৬ দিনেই এলো ৭০ কোটি ডলার

​বিগত কয়েক বছরের ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা চূড়ান্তে পৌঁছায় এবং নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বর পর্যন্ত এর রেশ বজায় থাকে। তাই সরকার অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে পুরো ডেঙ্গু মৌসুমের চক্রটিকে এই ফ্রি সেবার আওতায় এনেছে, যেন বছরের শেষ দিন পর্যন্ত কোনো নাগরিককে চিকিৎসার বাইরে থাকতে না হয়।

​ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতার আহ্বান

​জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা বিনামূল্যে করা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের একটি অন্যতম সহায়ক পদক্ষেপ মাত্র, তবে এটিই একমাত্র চূড়ান্ত সমাধান নয়। ডেঙ্গু নামক এই মরণব্যাধিকে দেশ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে সরকারি এই মহৎ উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিককে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে।

​ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের করণীয় নাগরিক দায়িত্বগুলো হলো:

  • ​নিজের ঘরবাড়ি, বারান্দা, ছাদ কিংবা ছাদবাগানের টব, এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এবং রেফ্রিজারেটরের নিচে যেন কোনোভাবেই তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশা ডিম পাড়ে।
  • ​ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের ফুল হাতা পোশাক পরিধান করানো।
  • ​জ্বর দেখা দেওয়ার সাথে সাথে অবহেলা না করে কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে বিনামূল্যে এনএস১ পরীক্ষাটি করিয়ে নেওয়া।

​পরিশেষে বলা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্তটি দেশের চিকিৎসা সেবার ইতিহাসে একটি ইতিবাচক অধ্যায়। "দিগন্ত বাংলা নিউজ" মনে করে, সরকারের এই ফ্রি পরীক্ষার বার্তাটি দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব, যেন একটি মানুষও তথ্যের অভাবে বা অর্থের অভাবে ডেঙ্গুর সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন