খেলাধুলা ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ঢাকা: বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর উপহার নিয়ে হাজির হয়েছে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। বিশ্ব ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি এবং আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির নিজস্ব অটোগ্রাফ বা স্বাক্ষর সংবলিত আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একটি ঐতিহাসিক জার্সি এখন প্রদর্শন করা হচ্ছে জাদুঘরের বিশেষ গ্যালারিতে। কাতার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিজয়ী এই মহানায়কের সশরীরে দেওয়া স্বাক্ষরযুক্ত জার্সিটি দেখার জন্য প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত ক্রীড়ামোদী ও সাধারণ দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে: আহত ১০, নিচে আটকে আছেন এক যাত্রী
কেবল লিওনেল মেসিই নন, এই বিশেষ স্মারক জার্সিটিতে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের নেপথ্যের আরও দুই তরুণ ও উজ্জ্বল নক্ষত্রের অটোগ্রাফ রয়েছে, যা এর গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক মূল্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জার্সির বিশেষত্ব ও বিশ্বজয়ী তারকাদের স্বাক্ষর
জাদুঘর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই জার্সিটি সাধারণ কোনো স্মারক নয়, বরং এটি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত একটি অমূল্য দলিল। অত্যন্ত চমৎকার ও সুরক্ষিতভাবে একটি দৃষ্টিনন্দন কাঠের ফ্রেমে বাঁধাই করে জার্সিটি গ্যালারির দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা খুব কাছ থেকে এটি দেখার সুযোগ পান।
ফ্রেমে থাকা আকাশী-সাদা জার্সির ওপর স্পষ্ট অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে তিন বিশ্বজয়ী তারকার অটোগ্রাফ:
আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক ও রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি।
কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা উদীয়মান স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজ।
বিশ্বকাপের সেরা তরুণ ফুটবলার নির্বাচিত হওয়া মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।
একই ফ্রেমে এই তিন বিশ্বসেরা ফুটবলারের স্বাক্ষর থাকায় এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অত্যন্ত বিরল ও উচ্চ মূল্যের স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা এখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে।
তরুণ প্রজন্মের মাঝে উন্মাদনা ও সেলফির ধুম
জাতীয় জাদুঘরে এই ঐতিহাসিক জার্সিটি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই ঢাকার তরুণ সমাজ ও ফুটবল ভক্তদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনের পরিদর্শনে দেখা যাচ্ছে, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে জাদুঘরে আসছেন শুধুমাত্র এই জার্সিটি এক নজর দেখার জন্য।
বিশেষ করে যারা আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত এবং লিওনেল মেসিকে নিজেদের আদর্শ মনে করেন, তাদের আবেগ ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থীদের অনেকেই এই ঐতিহাসিক ফ্রেমের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি ও সেলফি তুলছেন। পরবর্তীতে সেই সব আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি তারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন, যার ফলে এই প্রদর্শনীর খবর দেশজুড়ে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
উপহারের উৎস ও পৃষ্ঠপোষকতার নেপথ্য
জাদুঘরের প্রদর্শনীর ফলক অনুযায়ী, দেশের সাধারণ মানুষের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এই মহামূল্যবান জার্সিটি উপহার দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পাশাপাশি প্রদর্শিত জার্সির ফ্রেমে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'ওয়ালটন' (Walton)-এর লোগো সুদৃশ্যভাবে স্থান পেয়েছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দাফন হয়ে গেছে, আর ফেরার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটন গ্রুপ বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অন্যতম 'আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন' (AFA)-এর অফিশিয়াল রিজিওনাল পার্টনার বা আঞ্চলিক সহযোগী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। মূলত এই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সূত্র ধরেই ল্যাটিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তির শীর্ষ তারকাদের মূল স্বাক্ষর সংবলিত জার্সিটি বাংলাদেশের সংগ্রহশালায় যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য
জাদুঘরে আসা বেশ কয়েকজন সাধারণ দর্শনার্থী ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বাংলাদেশের মাটিতে এমন একটি আন্তর্জাতিক স্মারক দেখতে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। তাদের মতে, লিওনেল মেসির মতো একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের ব্যবহৃত বা স্বাক্ষরিত সামগ্রীর প্রতি বিশ্বজুড়েই কোটি কোটি ভক্তের এক ধরণের মোহ কাজ করে। আন্তর্জাতিক নিলামে এই ধরণের জার্সির মূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এই জার্সিটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের একটি অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরণের প্রদর্শনী দেশের তরুণ প্রজন্মকে ফুটবলসহ সামগ্রিক ক্রীড়া চর্চায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখবে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোর তুলনায় ছুটির দিনগুলোতে এই গ্যালারিতে দর্শকদের চাপ সামলাতে জাদুঘরের নিরাপত্তা কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর জনসংযোগ শাখা।

সুন্দর নিউজ
উত্তরমুছুনএকটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।