সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতি ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন মহড়া ও মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী প্রথাগত প্রটোকল ভেঙে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন কঠোর প্রশিক্ষণ এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হলেন এবং মাঠপর্যায়ের সাধারণ সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে তাদের রণকৌশল পর্যবেক্ষণ করলেন।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় সাভার সেনানিবাসের ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘৮ বীর’ (8 Veer)-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক বাহন ছাড়াই বিস্তীর্ণ গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকা পায়ে হেঁটে পরিভ্রমণ করেন।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে ৪ বছরের শিশুকে পিচ ফলের প্রলোভনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

রণকৌশল পর্যবেক্ষণ ও বাংকারে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান ‘ফার্ম বেস’ (Firm Base)-এর বিভিন্ন অংশ সশরীরে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সেনাবাহিনীর আধুনিক কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে বিস্তারিত তথ্য অবহিত হন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী একজন সুদক্ষ কমান্ডারের সরাসরি দেওয়া মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা বা ‘ভার্বল অর্ডার’ (Verbal Order) গভীর মনোযোগের সাথে শোনেন। এর পরপরই শত্রুঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য সেনাসদস্যদের দ্বারা পরিচালিত একটি অত্যাধুনিক ও গতিশীল ‘রেইড’ (Raid) মহড়া অত্যন্ত কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন তিনি।

এ ছাড়া আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের আত্মরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ, নিখুঁত রণকৌশল, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহার এবং বাস্তবভিত্তিক কঠোর প্রশিক্ষণের বিভিন্ন প্রায়োগিক দিক গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একপর্যায়ে তিনি মাটির নিচে তৈরি করা বিশেষ সেনা বাংকারে নেমে যান এবং সেখানে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পদবির অফিসার ও সাধারণ সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল ও প্রতিরক্ষামূলক পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ খোলামেলা মতবিনিময় করেন। শুধু তাই নয়, ছদ্মবেশ ধারণের (Camouflage) অংশ হিসেবে গাছের পাতার আড়ালে ও ঝোপঝাড়ে অত্যন্ত গোপনে অবস্থানরত সম্মুখসারির সেনাসদস্যদের কাছে সশরীরে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দেশরক্ষার এই মহান দায়িত্বে তাদের আন্তরিক উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রদান করেন।

সেনাদের সাথে সাধারণ খাবার ও চা চক্র

পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো প্রকার রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সাধারণ সেনাসদস্যদের জন্য ফিল্ড কিচেনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা সাধারণ দুপুরের খাবার নিজ হাতে গ্রহণ করেন এবং তাদের সাথে বসে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে চা পানে অংশ নেন। দেশের সরকারপ্রধানকে এভাবে নিজেদের একদম কাছাকাছি, বাংকারে ও ফিল্ড কিচেনে সাধারণ পোশাকে দীর্ঘ সময় কাটাতে দেখে উপস্থিত অফিসার ও সাধারণ সৈনিকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। মাঠপর্যায়ের সৈনিকরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিক ও অমায়িক ব্যবহারে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জনগণের আস্থার প্রতীক সেনাবাহিনী: প্রধানমন্ত্রী

প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সমবেত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন:

"বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ সবসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর ও অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রাখে। জাতীয় যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ও ঐতিহাসিক ভূমিকা সর্বদাই প্রশংসার দাবিদার। একটি আধুনিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।"

 আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন: বৃক্ষচারা ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ

তিনি সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক সাফল্য কামনা করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আকস্মিক পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসিসহ উচ্চপদস্থ ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের মনোবল ও কর্মস্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR)।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন