সিরাজগঞ্জ ডেস্ক: প্রতিবেদন: সুফিয়ান নোমান / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকায় একটি আবাসিক ভাড়া বাসায় ছদ্মবেশে গোপন আস্তানা গেড়ে সুকৌশলে ও সংঘবদ্ধভাবে পকেটমার, ছিনতাইসহ নানা ধরণের অপরাধমূলক সিন্ডিকেট পরিচালনার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে একটি শক্তিশালী নারী চক্রের ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।
গত সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সলঙ্গা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল পাঁচলিয়া বাজার সংলগ্ন একটি বিশেষ ভাড়া বাসায় আকস্মিক ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে এই অভিনব নারী অপরাধী চক্রটিকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়। পুলিশি ঘেরাওয়ের মুখে পড়ার পর চক্রটির সদস্যরা দিকবিদিক পালানোর চেষ্টা করলেও সেখানে মোতায়েন থাকা নারী পুলিশ সদস্যদের বুদ্ধিমত্তা ও তৎপরতায় তাদের সবাইকে সফলভাবে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিস্তারিত পরিচয়
পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক হওয়া এই ১১ নারী ছিনতাইকারী মূলত একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দা এবং তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে অপরাধ করে বেড়াত। পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার নথিমতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৪০)।
একই এলাকার নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী খোদেনা আক্তার দিলারা (৩৫)।
আলমগীর হোসেনের মেয়ে হামিদা আক্তার মিনা (২৪)।
আনিলের মেয়ে পারভীন (৩০)।
মৃত সাহাব উদ্দিনের মেয়ে বৃষ্টি (২৫)।
হারুন মিয়ার মেয়ে রজিনা আক্তার সায়দা (৩০)।
আরজু মিয়ার মেয়ে বিউটি খাতুন (৩৫)।
ওস্তার মিয়ার মেয়ে শেফা আক্তার (২১)।
হেলাল উদ্দিনের মেয়ে তামান্না (৩০)।
মৃত দুলাল হোসেনের মেয়ে জুমা (২০)।
এবং ফরিদ হোসেনের মেয়ে সুবিনা আক্তার লাকী (২০)।
ভাড়া বাসার আড়ালে অপরাধের নেটওয়ার্ক
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এই বিশেষ অভিযানের বিষয়টি বিস্তারিত নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাঁচলিয়া বাজার এলাকায় কিছু বহিরাগত নারীর সন্দেহজনক আনাগোনা এবং একটি গোপন আস্তানার বিষয়ে পুলিশের কাছে বেশ কিছুদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্য আসছিল। সেই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর সোমবার সন্ধ্যায় সলঙ্গা থানা পুলিশের একটি টিম সেখানে বিশেষ রেইড বা অভিযান চালায়।
আরও পড়ুন: উত্তর কোরিয়ার নতুন ৫ হাজার টনি যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা: কিম জং উনের হুঁশিয়ারি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত এই নারী অপরাধীরা পুলিশের কাছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করেছে। তারা জানায়, তারা মূলত একটি পেশাদার ও আন্তঃজেলা নারী ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে কৌশল হিসেবে জনবহুল কোনো বাজারের পাশে স্বল্প সময়ের জন্য সাময়িকভাবে বাসা ভাড়া নিত। এরপর স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে এবং ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনাকীর্ণ এলাকায় সাধারণ নারীদের টার্গেট করে চতুরতার সাথে ভ্যানিটি ব্যাগ কেটে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে দ্রুত আস্তানায় ফিরে আসত।
মামলা দায়ের ও আসামিদের কারাগারে প্রেরণ
সলঙ্গা থানার ওসি আসলাম আলী আরও জানান, এই অপরাধী চক্রের সুনির্দিষ্ট অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সলঙ্গা থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক আইনি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত ১১ নারী আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশনায় তাদের সবাইকে সরাসরি সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সংঘবদ্ধ নারী চক্রটির সঙ্গে স্থানীয় কোনো দালাল বা প্রভাবশালী চক্র জড়িত রয়েছে কি না এবং তারা সিরাজগঞ্জের আগে দেশের আর কোন কোন বড় বড় জেলা বা মহাসড়ক এলাকায় এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, তা নিশ্চিত হতে গভীর ও নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই চক্রটি ধরা পড়ায় সলঙ্গার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নারী ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ ও সলঙ্গা থানা প্রেস রিলিজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।