প্রকৃতি ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
মোংলা: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক মধু আন্তর্জাতিকভাবে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে গৌরবময় স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই এর কদর বিশ্বজুড়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে খাঁটি মধুর আকাশচুম্বী চাহিদা তৈরি হলেও ঠিক একই সময়ে এক বিপরীতমুখী ও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে সুন্দরবনের বুক থেকে। সুন্দরবনে প্রাকৃতিক মধুর উৎপাদন বিগত কয়েক বছর ধরে আশঙ্কাজনক ও নজিরবিহীনভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বনের এই ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সম্পদের উৎপাদন এতটা নিচে নেমে গেছে যে, বর্তমানে তা স্থানীয় বাজারের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতেই সম্পূর্ণ হিমশিম খাচ্ছে। আর এই তীব্র সংকটকে পুঁজি করে দেশের বাজারে একশ্রেণীর অসাধু চক্র দেদারসে ভেজাল ও কৃত্রিম মধুর বিস্তার ঘটাচ্ছে। পরিবেশবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নকল ও ভেজাল মধুর এই রমরমা ব্যবসা জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সুন্দরবনের মধুর বিশ্বস্ততা ও আন্তর্জাতিক সুনামের জন্য এক বিশাল বড় হুমকি ও অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাঁচ বছরের উৎপাদন চিত্র: এক নজিরবিহীন পতনের পরিসংখ্যান
বন বিভাগের দাপ্তরিক নথিপত্র এবং সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে সুন্দরবনের মধু আহরণ খাতের এক ভয়াবহ ও করুণ চিত্র সামনে আসে। বিগত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মধুর উৎপাদন কমে আসার হার যেকোনো পরিবেশ সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তুলবে।
নিচে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের গত পাঁচ বছরের মধু আহরণের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বছর (অর্থবছর) | মধু আহরণের পরিমাণ (মেট্রিক টন) | সামগ্রিক পরিস্থিতির রূপরেখা |
| ২০২১ | ১০৪.৪ মেট্রিক টন | উৎপাদন স্বাভাবিক ও আশাব্যঞ্জক ছিল। |
| ২০২২ | ১০৫.০ মেট্রিক টন | গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মধু সংগ্রহ। |
| ২০২৩ | ৯৫.০ মেট্রিক টন | জলবায়ুর প্রাথমিক প্রভাবে উৎপাদন সামান্য হ্রাস। |
| ২০২৪ | ১০০.০ মেট্রিক টন | সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও পূর্বের রেকর্ড স্পর্শ করেনি। |
| ২০২৫ | ৬৪.৭ মেট্রিক টন | উৎপাদনে বড় ধরণের ধস ও তীব্র সংকট শুরু। |
| ২০২৬ | ৪২.১ মেট্রিক টন | সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন আহরণ। |
এই সরকারি পরিসংখ্যানটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে বিশ্বের এই বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের মধু আহরণের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। ২০২২ সালের ১০৫ মেট্রিক টনের বিপরীতে ২০২৬ সালের সদ্য সমাপ্ত আহরণ মৌসুমে তা মাত্র ৪২ দশমিক ১ মেট্রিক টনে এসে ঠেকেছে, যা সুন্দরবনের ইতিহাসে মধুর ফলনে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের রাজস্ব খাতে বিশাল বড় ধাক্কা
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধু ও মোম কেবল স্থানীয় মৌয়ালদের জীবিকার উৎস নয়, এটি সরকারের রাজস্ব আয়েরও অন্যতম একটি বড় খাত। তবে মধু উৎপাদনের এই আকস্মিক ধসের কারণে সরকারের বন বিভাগের বার্ষিক রাজস্ব আয় আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারি নির্ধারিত নিয়ম ও ট্যারিফ চার্ট অনুযায়ী, সুন্দরবন থেকে সংগৃহীত প্রতি কুইন্টাল মধুর জন্য ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং প্রতি কুইন্টাল মোমের জন্য ২ হাজার কুইন্টাল হিসেবে ২ হাজার ২০০ টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ফুটবল উন্মাদনার নির্মম পরিণতি: আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মিশরের সমর্থক নিহত
বিগত বছরগুলোর রাজস্ব আদায়ের তুলনামূলক হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়:
২০২২ সালের চিত্র: এই বছর সুন্দরবন থেকে ৩ হাজার ৮ কুইন্টাল মধু এবং ৬৯৬ কুইন্টাল মোম আহরিত হয়েছিল। এর ফলে বন বিভাগ সরকারের কোষাগারে প্রায় ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ টাকা রাজস্ব জমা দিতে সক্ষম হয়েছিল, যা ছিল একটি বড় ধরণের অর্থনৈতিক সাফল্য।
২০২৫ সালের চিত্র: মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে মধুর সার্বিক উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে ২ হাজার ৭৬ কুইন্টালে নেমে আসে। ফলস্বরূপ, এই খাত থেকে সরকারের অর্জিত রাজস্বের পরিমাণ একধাক্কায় কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকায়।
২০২৬ সালের (চলতি বছরের) সর্বশেষ চিত্র: ২০২৬ সালের সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল-মে মাসের মধু আহরণ মৌসুমে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় আকার ধারণ করে। অনাবৃষ্টি, তীব্র দাবদাহ, জলবায়ুর আকস্মিক পরিবর্তন এবং বনের অভ্যন্তরে দস্যুদের নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার কারণে মোট মধু ও মোম আহরণ নেমে আসে মাত্র ১ হাজার ৭৩৮ কুইন্টালে। এর ফলে এই বছর সরকারের মোট রাজস্ব অর্জিত হয়েছে ৩৯ লাখ ৩১ হাজার ২৭০ টাকা। যার মধ্যে শুধুমাত্র মধু খাত থেকে আদায় সম্ভব হয়েছে ২৭ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা। বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, বিগত টানা দুটি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক রাজস্বও সরকারের পক্ষে এই খাত থেকে তুলে আনা সম্ভব হয়নি।
দস্যু আতঙ্ক ও মৌয়ালদের বুকফাটা দুর্ভোগের নেপথ্য কাহিনী
সুন্দরবনে মধুর উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বাজারে প্রতি কেজি মধুর খুচরা মূল্য গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পণ্যের দাম বাড়লে উৎপাদনকারী বা আহরণকারীরা লাভবান হওয়ার কথা থাকলেও, সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী মৌয়ালদের ভাগ্যে তার উল্টোটি ঘটেছে। জীবন বাজি রেখে বনের গভীরে যাওয়া এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর পকেটে বাড়তি আয়ের একটি টাকাও প্রবেশ করেনি। এর মূল কারণ হলো সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে নতুন করে শুরু হওয়া বনদস্যুদের নির্মম চাঁদাবাজি, শারীরিক নির্যাতন এবং অপহরণ বাণিজ্য। বনের গহীনে মৌয়ালদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তারা এখন চরম সংকটে দিনাতিপাত করছেন।
সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা এলাকার স্থানীয় অভিজ্ঞ মৌয়াল ছগির হাওলাদার তার নিজের জীবনের এক লোমহর্ষক ও বুকফাটা অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "আমরা চৈত্র-বৈশাখ মাসে ১০ জনের একটি সুসংগঠিত দল নিয়ে ধার-দেনা করে বনের গহীনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বনের ভেতরে ঢোকার পরপরই হঠাৎ করে কুখ্যাত বনদস্যু 'মেজো জাহাঙ্গীর বাহিনী' আমাদের ওপর অতর্কিত ও সশস্ত্র হামলা চালায়। তারা আমাদের মারধর করে এবং আমাদের দল থেকে দুই জন নিরীহ মৌয়ালকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গহীন জঙ্গলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপহৃত ভাইদের জীবন বাঁচাতে আমরা স্থানীয়ভাবে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হই। মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনার পর দস্যুদের ভয়ে এবং চরম আতঙ্কে আমরা মধু সংগ্রহের কাজ অসমাপ্ত রেখেই বন ছেড়ে লোকালয়ে ফিরে আসি।"
ছগির হাওলাদার আরও জানান, এই মধু কাটার মৌসুমে নৌকা মেরামত, সরকারি পাস (বিএলসি) এবং শ্রমিকদের অগ্রিম পারিশ্রমিক বাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু দস্যুদের অত্যাচার এবং মৌসুমের মাঝপথে ফিরে আসার কারণে তিনি পুরো আড়াই লাখ টাকা খরচ করে মাত্র দুই মণ মধু সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যা বিক্রি করে তার বিনিয়োগের চার ভাগের এক ভাগ টাকাও ওঠেনি। বর্তমানে দেনার দায়ে তিনি ও তার পরিবার বাড়িছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের মরণকামড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়
সুন্দরবনের পরিবেশবিদ ও গবেষকদের মতে, মধুর এই অভূতপূর্ব ফলন বিপর্যয়ের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মরণকামড়। বিগত কয়েক বছর ধরে সুন্দরবন উপকূলে পরিলক্ষিত হচ্ছে তীব্র অনাবৃষ্টি, অনিয়মিত এবং অসময়ের বৃষ্টিপাত। একই সাথে সমুদ্রের পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সুন্দরবনের ভেতরের নদী ও খালের পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এই চরম লবণাক্ততা ও দীর্ঘস্থায়ী খরা বা অনাবৃষ্টির কারণে সুন্দরবনের প্রধান মধুদায়ী উদ্ভিদ যেমন—খলিশা, গরান এবং কেওড়া গাছে এবার সময়মতো ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ফুল ফোটেনি। গাছে ফুল না থাকায় মৌমাছিরা তাদের প্রাকৃতিকভাবে তৈরি চাকে পর্যাপ্ত মধু জমা করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে পানির অভাবে মৌমাছির ঝাঁক সুন্দরবন ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে বলেও গবেষকেরা ধারণা করছেন। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দোহাই দিয়ে সুন্দরবনে অভয়ারণ্যের সীমানা দিন দিন বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মৌয়ালদের মধু সংগ্রহের প্রথাগত ঐতিহ্যবাহী উন্মুক্ত এলাকা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একই সাথে বন বিভাগ কর্তৃক মধু আহরণের নির্ধারিত সময়সীমা পূর্বের তিন মাস থেকে কমিয়ে মাত্র দুই মাস করার কারণেও মৌয়ালরা বনের গভীরে গিয়ে পর্যাপ্ত সময় ধরে মধু আহরণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা: বৈশ্বিক সম্মেলনে কো-হোস্ট বাংলাদেশ
টেকসই সমাধানের নানামুখী প্রস্তাবনা
সুন্দরবনের এই প্রাকৃতিক সংকট এবং মৌয়ালদের মানবিক বিপর্যয় থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের প্রতি জরুরি ও টেকসই নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 'সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন'-এর প্রধান সমন্বয়ক এবং বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক শুভ্র শচীন এই বিষয়ে দিগন্ত বাংলা নিউজকে বলেন, "সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধুর জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি কেবল একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়, এটি আমাদের সমগ্র বাঙালি জাতির একটি জাতীয় গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক। এই গৌরবকে টিকিয়ে রাখতে হলে সবার আগে সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান এবং এর আদিম রক্ষক অর্থাৎ মৌয়ালদের জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে।"
সংকট মোকাবিলায় তিনি সরকারের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ও যুগোপযোগী প্রস্তাবনা পেশ করেন:
গ্রিন ওয়ারিয়র স্বীকৃতি: সুন্দরবনের প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করা ঐতিহ্যবাহী মৌয়ালদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গ্রিন ওয়ারিয়র’ বা পরিবেশ যোদ্ধা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।
স্মার্ট পেট্রোলিং ও নিরাপত্তা: বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তায় বনের অভ্যন্তরে 'স্মার্ট পেট্রোলিং' ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যেন কোনো দস্যু বাহিনী মৌয়ালদের ওপর চড়াও হতে না পারে।
সহজ শর্তে ঋণ ও বীমা: মহাজন ও দস্যুদের কবল থেকে মৌয়ালদের বাঁচাতে সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণ এবং বনের ভেতরে জীবনহানি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকির বিপরীতে বাধ্যতামূলক রাষ্ট্রীয় বীমা সুবিধা চালু করতে হবে।
কিউআর কোডভিত্তিক সিলমোহর: বাজারে সুন্দরবনের মধুর নামে যে ব্যাপক ভেজাল ও নকল মধুর ব্যবসা চলছে, তা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সরকারিভাবে খাঁটি মধুর গুণগত মান পরীক্ষা করে বোতলজাতকরণ এবং কিউআর কোড (QR Code) সম্বলিত সরকারি সিলমোহর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে ক্রেতারা সহজেই আসল মধু চিনতে পারেন।
যৌথ অভিযানের কঠোর হুঁশিয়ারি ও বন বিভাগের আশার বাণী
সুন্দরবনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মধুর উৎপাদন হ্রাসের বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে, বিগত মৌসুমগুলোতে বনের অভ্যন্তরে হঠাৎ করে কিছু বিচ্ছিন্ন বনদস্যু ও চোর চক্রের চাঁদাবাজি এবং অপহরণের ঘটনার কারণে সাধারণ ও নিরীহ মৌয়ালরা প্রাণভয়ে গভীর বনের প্রধান প্রধান মধু সংগ্রহ এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতে পারেননি। মূলত বনের সিংহভাগ অংশে মৌয়ালদের প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণেই সামগ্রিক উৎপাদন এবং সরকারের বার্ষিক রাজস্ব আয়—দুটিই এবার আশঙ্কাজনকভাবে তলানিতে এসে ঠেকেছে।
ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আরও জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুন্দরবনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সুন্দরবনকে পুনরায় সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ ঘোষণা করতে বন বিভাগ, পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনীর সমন্বয়ে খুব শীঘ্রই বনের গহীনে একটি নজিরবিহীন ও চিরুনি যৌথ অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই কঠোর অভিযানের মাধ্যমে দস্যুদের চিরতরে নির্মূল করে আগামী মৌসুমে মৌয়ালদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং সুন্দরবনের মধুর উৎপাদন আবারও তার পূর্বের গৌরবময় অবস্থানে ফিরে আসবে।
নিউজ সূত্র: সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ ও মোংলা উপকূলীয় মাঠপর্যায়ের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।