সিরাজগঞ্জ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক শিল্প নগরী সংলগ্ন দিলরুবা অঞ্চলের রশিদ প্রসেস মিলের সামনের মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। উল্লাপাড়া অভিমুখ থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি ঘাতক নসিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি মহাসড়কের ওপর উল্টে দুমড়েমুচড়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সিএনজিচালক এবং পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী নার্সসহ মোট পাঁচজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার (২৯শে জুন, ২০২৬) দুপুরের দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘাতক নসিমনটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
দুর্ঘটনার নেপথ্য বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকালে পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সিনিয়র নার্স মোছাঃ লাবনী আক্তারসহ চারজন যাত্রী একটি সিএনজি অটোরিকশা যোগে পাবনা জেলার বেড়া থেকে শাহজাদপুরের দিলরুবা বিসিক বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। সিএনজিটি যখন শাহজাদপুরের দিলরুবা অঞ্চলের রশিদ প্রসেস মিলের ঠিক সামনে পৌঁছায়, তখনই বিপরীত দিক অর্থাৎ উল্লাপাড়া থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ও অবৈধ যান নসিমন আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটিকে সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা মারে।
ধাক্কার তীব্রতায় যাত্রীবাহী সিএনজিটি মহাসড়কের মাঝখানে কয়েকবার উল্টে গিয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সময় ভেতরে থাকা যাত্রীদের চিৎকার শুনে আশেপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা দ্রুত ছুটে আসেন। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে শাহজাদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনকে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি দক্ষ উদ্ধারকারী দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় সিএনজির ভেতর থেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় চালকসহ ৫ জনকে উদ্ধার করে। এরপর তাদের চিকিৎসার জন্য অনতিবিলম্বে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (পোতাজিয়া হাসপাতাল) নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন: পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রতারণার বিস্ফোরক অভিযোগ ‘সবাই সচেতন হোন’: পারসা ইভানা
আহতদের বিস্তারিত পরিচয় ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা
রশিদ প্রসেস মিলের সামনে সংঘটিত এই সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজিতে থাকা চালক ও সকল যাত্রীর বিস্তারিত পরিচয় এবং ঠিকানা নিচে আলাদা আলাদা লাইনে পয়েন্ট আকারে সাজানো হলো:
- মোছাঃ লাবনী আক্তার (৩৫): তিনি পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর স্বামীর নাম ইমরুল হাসান এবং বর্তমান ঠিকানা সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার শত্তিপুর গ্রামে।
মাসুদ হোসেন (২২): দুর্ঘটনায় অন্যতম গুরুতর আহত হওয়া এই তরুণের পিতার নাম আবু সাঈদ। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার বালসাবাড়ি গ্রামে।
মোঃ আজাদ (৪০): সিএনজির এই যাত্রীর পিতার নাম মোঃ মনছের আলী। তিনি পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ইদরাবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মোঃ জাহিদ হোসেন (২৫): সিএনজির চালক জাহিদ হোসেনের পিতার নাম মোঃ জামাল উদ্দিন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার রামখারুয়া গ্রামে।
মোছাঃ সাহিদা (২০): আহত এই তরুণীর পিতার নাম মোঃ শিহাব উদ্দিন। তিনি পাবনা জেলার সাথিয়া থানার বায়ড়া গ্রামের বাসিন্দা।
হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের বক্তব্য
বর্তমানে আহত পাঁচজনই শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (পোতাজিয়া হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
আরও পড়ুন: পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন: অর্থনীতিকে ৩ ধাপে সাজানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
চিকিৎসা কর্মকর্তা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য নিচে আলাদা আলাদা লাইনে উল্লেখ করা হলো:
- গুরুতর জখম: আহত ৫ জনের মধ্যে ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
- হাড় ভাঙার আঘাত: গুরুতর আহত ঐ দুইজনের পায়ে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে এবং হাড় ভেঙে মারাত্মক জখম হয়েছে, যার কারণে তাদের দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
- নিবিড় পর্যবেক্ষণ: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি ৩ জন সাধারণ যাত্রীকে প্রয়োজনীয় অন্যান্য চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।
নসিমন চালকের পালিয়ে যাওয়া ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
দুর্ঘটনার ঠিক পরপরই ঘাতক নসিমনটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা'কারী বাহিনী বা স্থানীয়দের তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় জনতা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও নসিমনের মতো অবৈধ যান চলাচলের কারণেই এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।
শাহজাদপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল এবং দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজিটি সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। পলাতক নসিমনটিকে সনাক্ত করা এবং এর চালককে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে সাময়িক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজের সূত্র: শাহজাদপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পোতাজিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।