ইসলামী ডেস্ক: প্রতিবেদন: আবু সুফিয়ান নোমান / দিগন্ত বাংলা নিউজ
শাহজাদপুর: আধ্যাত্মিক সাধনার পরম পুণ্যভূমি এবং ওলি-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত অঞ্চল হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর উপজেলায় এক অভূতপূর্ব ও মহাসম্মেলনমূলক আধ্যাত্মিক মিলনমেলার সূচনা ঘটেছে। ইসলামের মহান বাণী প্রচারক ও রুহানি জগতের অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক ওলি হযরত শাহ আজমত উল্লাহ ইয়ামেনী (রহঃ) মাজার শরীফের ঐতিহ্যবাহী বাৎসরিক ওরশ শরীফ ও বিশাল ইসলামী মহাসম্মেলন অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওলি এবং আধ্যাত্মিক জগতের মহান সাধকের এই মহাপুণ্যময় বার্ষিক মিলনমেলায় অংশ নিতে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম ও আশেকান ইতিমধ্যেই শাহজাদপুরে সমবেত হতে শুরু করেছেন। গত ২ ও ৩ জুলাই ২০২৬ ইংরেজি তারিখ, ১৮ ও ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ১৭ ও ১৮ মহরম ১৪৪৭ হিজরি মোতাবেক রোজ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার থেকে দুই দিনব্যাপী এই মহাসম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শুরু হয়েছে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার অন্তর্গত চুনীয়াখালীপাড়ায় অবস্থিত মাজার শরীফের সুবিশাল প্রাঙ্গণে এই মহাপবিত্র ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই পবিত্র আধ্যাত্মিক মাহফিলে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে দলে দলে যোগদান করে দুনিয়া ও আখিরাতের অশেষ রুহানি কল্যাণ, মানসিক শান্তি ও সওয়াব হাসিল করার জন্য মাজার শরীফ ওরশ উদযাপন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সনির্বন্ধ আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলেই কঠোর শাস্তি: ১ লাখ টাকা জরিমানা ও জেলের বিধান
আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে আয়োজিত এই মহাপবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ এবং ইসলামী মহাসম্মেলনের মূল আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করছেন শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মো. ইকবাল হাসান হিরু। তাঁর সুচারু পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে এই বিশাল আধ্যাত্মিক মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত মূল্যবান ও দিকনির্দেশনামূলক নীতিনির্ধারণী আলোচনা পেশ করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সম্মানিত সদস্য এবং সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ড. এম. এ. মুহিত। প্রধান অতিথির আগমনকে কেন্দ্র করে মাজার সংলগ্ন পুরো চুনীয়াখালীপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
ওরশ শরীফের ভিডিওটি সরাসরি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এই মহা-পবিত্র ইসলামী ধর্মীয় জলসায় ছদরে মাহফিল বা প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত থেকে মাহফিলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ সুসংহত রাখছেন ইলমে দ্বীনের অনন্য আলোকবর্তিকা এবং লক্ষাধিক ভক্তের পরম শ্রদ্ধেয় পীর কেবলা হযরত তারেক হুজুর। সম্মেলনে সমবেত হওয়া হাজার হাজার মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলো জ্বালিয়ে দিতে এবং গভীর রুহানি বয়ান পেশ করার জন্য প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চ আলোকিত করবেন ফুরফুরা শরীফ হতে সকল প্রসিদ্ধ সুফি তরিকায় খেলাফতপ্রাপ্ত, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ড মুফতি, যুগশ্রেষ্ঠ মোফাচ্ছিরে কুরআন হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আলহাজ্ব এম.এম.ডি. ইমাম আসরাফ আলীমুল্লাহ সিদ্দিকী (দাঃ বাঃ)। তাঁর মুখনিঃসৃত সুমধুর ও তথ্যবহুল বয়ান শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে মাজার প্রাঙ্গণে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
প্রধান বক্তার পাশাপাশি এই আধ্যাত্মিক মহাসম্মেলনে দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে মূল্যবান তাত্ত্বিক বয়ান পেশ করবেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, মোহাদ্দিস মুফতী দেলোয়ার হোসেন সিদ্দিকী। এরপর ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে সাধারণ মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন গঠনের ওপর বিশেষ আলোকপাত করে তৃতীয় বক্তা হিসেবে আলোচনা পেশ করবেন সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী হাফেজ ক্বারী মাওলানা মো. আলী আকবর। এছাড়াও পবিত্র মাহফিলের শেষ পর্যায়ে এসে চতুর্থ বক্তা হিসেবে মানবজীবনের পরকালীন মুক্তি ও ওলি-আউলিয়াদের জীবনীর ওপর অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও মূল্যবান বয়ান পেশ করবেন শাহজাদপুরের স্থানীয় কৃতি সন্তান আলহাজ্ব মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম হাবারিয়া।
আরও পড়ুন: পরীক্ষার হলের বাইরে পিতা-মাতার নীরব প্রার্থনা: সন্তানের স্বপ্ন পূরণে এক পরম আকুতি
হযরত শাহ আজমত উল্লাহ ইয়ামেনী (রহঃ) মাজার শরীফের এই ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ওরশ শরীফ যেন সম্পূর্ণ সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য মাজার শরীফ এন্তেজামিয়া কমিটি এবং শাহজাদপুর পৌর বিএনপির কৃষক দলের সম্মানিত সভাপতি জনাব মো. শহিদুল ইসলাম রাজুর বিশেষ তত্ত্বাবধানে সব ধরনের প্রশাসনিক ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনাব মো. শহিদুল ইসলাম রাজু এবং মাজার কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতাকে এই পবিত্র আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়ে ইহকাল ও পরকালের পরম কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
নিউজের সূত্র: হযরত শাহ আজমত উল্লাহ ইয়ামেনী মাজার কমিটি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।