ইরানের নতুন হিট লিস্টে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ বিশ্বরাজনীতির ১৩ শীর্ষ নেতা

ইরানের নতুন হিট লিস্টে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ বিশ্বরাজনীতির ১৩ শীর্ষ নেতা
ছবি: সংগৃহীত
 শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

​তেহরান, ইরান: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম ও নজিরবিহীন উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার সরাসরি বিশ্ব রাজনীতির ১৩ জন শীর্ষ ক্ষমতাধর নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক 'হিট লিস্ট' বা হত্যার তালিকা প্রকাশ করেছে ইরান। ইরানের সদ্য প্রয়াত সাবেক সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এই চাঞ্চল্যকর ও চরম প্রতিশোধের ঘোষণা সামনে এসেছে।

​খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাঁর সুযোগ্য পুত্র তথা ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি বিশ্বমঞ্চে এক হুংকার ছেড়ে সরাসরি প্রতিশোধের ডাক দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন—যারা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে অন্যান্য নিরপরাধ ইরানি নাগরিকদের হত্যার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে এর চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও যুক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন বা তিনি নিজে বেঁচে থাকুন আর নাই থাকুন, খুব শীঘ্রই এবং অত্যন্ত নিখুঁত উপায়ে এই চরম প্রতিশোধ সম্পন্ন করা হবে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে জুয়াড়িদের ধরতে পানিতে নামলেন ইউএনও, ১৪ জন গ্রেপ্তার

​হামশাহরি পত্রিকায় প্রকাশিত হিট লিস্ট ও বিশ্বনেতাদের তালিকা

​ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডারের এই রণহুংকারের ঠিক পরপরই দেশটির অন্যতম শীর্ষ ও রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট প্রভাবশালী গণমাধ্যম 'হামশাহরি' তাদের অনলাইন পোর্টালে এই ভয়ঙ্কর ১৩ জনের হিট লিস্টের তালিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটি সরাসরি দাবি করেছে যে—ইরানের ওপর হওয়া অন্যায়ের চরম প্রতিশোধ হিসেবে খুব দ্রুতই এই তালিকায় থাকা বিশ্বনেতাদের ওপর আঘাত হানা বা টার্গেট কিলিং মিশন পরিচালনা করা হবে।

​প্রকাশিত সেই তালিকায় থাকা ১৩ জন প্রভাবশালী বৈশ্বিক ও সামরিক নেতার তালিকা নিচে ক্রমানুসারে দেওয়া হলো:

​১. ডোনাল্ড ট্রাম্প: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

২. বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

৩. কেয়ার স্টারমার: যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) প্রধানমন্ত্রী।

৪. মার্কো রুবিও: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

৫. পিট হেগসেথ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

৬. ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ: ফ্রান্সের মহামান্য প্রেসিডেন্ট।

৭. জর্জিয়া মেলোনি: ইতালির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

৮. ফ্রেদিখ মার্জ: জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর।

৯. ইসরায়েল কাৎজ: ইসরায়েলের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

১০. ইয়াহির জামির: ইসরায়েলের বর্তমান সেনাপ্রধান।

​আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে—ইরানি সংবাদমাধ্যম হামশাহরি তাদের অনলাইন পোর্টালে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই হিট লিস্টটি প্রকাশ করলেও, আজ সকালে তেহরান থেকে তাদের যে নিয়মিত ছাপা বা প্রিন্ট সংস্করণটি বের হয়েছে, সেখানে কৌশলগত কারণে এই স্পর্শকাতর তালিকাটি রাখা হয়নি।

​উপসাগরীয় আরব অঞ্চলে হামলা ও সৌদি আরবের তীব্র প্রতিক্রিয়া

​বিশ্বনেতাদের এই তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে সামরিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে তেহরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার মোক্ষম জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মূলত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত অবকাঠামো এবং তাদের ঘাঁটিগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেট করা হয়েছে।

​রোববার রাতের এই নজিরবিহীন হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনার পর মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ সৌদি আরব ইরানের এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রিয়াদে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে—ইরান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন, জাতিসংঘের মূল সনদ এবং সর্বমোট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পবিত্র সনদ স্পষ্ট লঙ্ঘন করে এই ধরণের সামরিক উসকানি চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই বৈশ্বিক শান্তির জন্য কাম্য নয়।

আরও পড়ুন: সলঙ্গায় ভাড়া বাসায় গোপন আস্তানা: সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইকারী চক্রের ১১ সদস্য গ্রেপ্তার

​সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে:

​"ইরান আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং ইসলামিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (OIC) সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতি ও নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালাচ্ছে। তাদের এই ধরণের হঠকারী ও বিপজ্জনক হামলার কারণে সমগ্র বিশ্বের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ চেইন এবং মুক্ত জাহাজ চলাচল এখন চরম ও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।"

​যদিও সর্বশেষ রোববার রাতের এই প্রলয়ঙ্কারী হামলায় সৌদি আরবের মূল ভূখণ্ডকে সরাসরি টার্গেট করা হয়নি, তবে গত সপ্তাহে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার সময় ইরানের নৌবাহিনীর হামলায় সৌদি আরবের একটি বিশাল তেলের ট্যাংকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মূলত সৌদি আরবের সেই বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার ঘটনার জের ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইরানি ভূখণ্ডে পাল্টা সামরিক বিমান হামলা চালায়, যা এখন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

​সংবাদ সূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও হামশাহরি মিডিয়া।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন