পরীমণির বাসায় টানা ১ মাস রাত কাটিয়েছিলেন সাকলায়েন: অনৈতিক সম্পর্কের দায়ে ডিবির সাবেক এডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর
বিনোদন ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশের অপরাধ জগত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিনোদন অঙ্গনের ইতিহাসে অন্যতম বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর অধ্যায় হলো চিত্রনায়িকা পরীমণি এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনের মধ্যকার অনৈতিক সম্পর্ক। দীর্ঘ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার পর অবশেষে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোরতম বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পরীমণির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া, রাত্রিযাপন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসরে’ পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এই আদেশটি কার্যকরের লক্ষ্যে তৈরি করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত এই সারসংক্ষেপটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। সেখানে রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদন ও আদেশের পর গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার কোনো প্রকার অনৈতিকতা বা পেশাগত খামখেয়ালিপনাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়।
আরও পড়ুন: রিজার্ভ চুরি: সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ৬৪ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির চার্জশিট প্রস্তুত
সম্পর্কের সূত্রপাত: ঢাকা বোট ক্লাব কাণ্ড ও তদন্তের আড়ালে অনৈতিকতা
এই ঘটনার গভীরে যেতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ২০২১ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শীর্ষ ও আলোচিত নায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে নিজের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই বিষয়ে তিনি সাভার থানায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক জনমত তৈরি হওয়ায় এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের অত্যন্ত চৌকশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত তৎকালীন এডিসি মো. গোলাম সাকলায়েনকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদেই সাকলায়েনের সঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমণির প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচয় এবং যোগাযোগ শুরু হয়। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাজ ছিল মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। কিন্তু তদন্তের আড়ালে সাকলায়েন নিজেই জড়িয়ে পড়েন এক অনৈতিক ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে। তদন্তের সূত্র ধরে শুরু হওয়া সাধারণ পেশাগত যোগাযোগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে গভীর ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সম্পর্কে রূপ নেয়। এরপর থেকেই তদন্তের অজুহাতে সাকলায়েনের সরকারি বাসভবন এবং পরীমণির নিজস্ব ফ্ল্যাটে তাদের নিয়মিত যাতায়াত ও ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে, যা পরবর্তীতে দেশের পুরো পুলিশ প্রশাসনের জন্য এক চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে।
রাজারবাগ সরকারি বাসভবনের সেই ১৭ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ
গোলাম সাকলায়েন ও পরীমণির এই অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে আসে একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ফাঁসের মাধ্যমে, যা সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন এবং সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ আগস্ট সকালে ডিবির সাবেক এই এডিসি মো. গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে যান নায়িকা পরীমণি। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছিল, কারণ সেই সময় সাকলায়েনের স্ত্রী ব্যক্তিগত কারণে বাসায় উপস্থিত ছিলেন না।
আরও পড়ুন: বিএমএতে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কুচকাওয়াজ: আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ার প্রত্যয় সেনাপ্রধানের
সিসিটিভি ফুটেজের বিবরণ: ২০২১ সালের ১ আগস্ট সকালবেলা পরীমণি নিজের ব্যক্তিগত সাদা রঙের বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টারের ভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি টানা প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তারা ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ অবস্থায় সময় কাটান। এরপর গভীর রাত পার হয়ে পরদিন অর্থাৎ ২ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে পরীমণি সেই বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁর গাড়ি নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
একজন বিবাহিত এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে নিজের স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে একজন মামলার বাদীকে নিজের সরকারি বাসভবনে নিয়ে এসে দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা সময় কাটানোর এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ আবশ্যিক আচরণবিধির পরিপন্থী এবং নৈতিক স্খলনের এক চরমতম উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।
টানা এক মাসের রাত্রিযাপন: সিডিআর ও ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কেবল রাজারবাগের সেই এক দিনের ঘটনার কথাই উল্লেখ করা হয়নি, বরং সাকলায়েন যে পরীমণির বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং রাত কাটাতেন, তার সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং বিশেষায়িত শাখা ‘এলআইসি’ (LIC) থেকে গোলাম সাকলায়েনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিডিআর (Call Detail Record) এবং টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করা হয়।
এই সিডিআর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে শুরু করে ৪ আগস্ট পর্যন্ত—অর্থাৎ টানা এক মাস ধরে গোলাম সাকলায়েন বিভিন্ন সময়ে (দিনে এবং রাতে) নায়িকা পরীমণির বনানীর বাসায় অবস্থান করেছেন। অনেক দিন তিনি ডিউটি বা পেশাগত কাজের তোয়াক্কা না করে সরাসরি পরীমণির ফ্ল্যাটে গিয়ে রাত কাটিয়েছেন।
ডিজিটাল কথোপকথনের ধরন:
তদন্ত কর্মকর্তারা সাকলায়েন ও পরীমণির মোবাইল ফোনে আদান-প্রদানকৃত সাধারণ টেক্সট মেসেজ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারের (Facebook Messenger) চ্যাট হিস্ট্রি ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করেছেন। ল্যাবের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যকার এই কথোপকথন বা চ্যাটিং কোনোভাবেই সাধারণ পরিচিতি, সৌজন্যতা কিংবা মামলার তদন্তের মতো পেশাগত প্রয়োজনে স্থাপিত কোনো সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং এটি ছিল অত্যন্ত নিবিড়, গভীর এবং একটি অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক। মেসেজগুলোতে একে অপরের প্রতি গভীর অনুরাগ, জন্মদিনের পরিকল্পনা এবং অনৈতিক মেলবন্ধনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই একজন সরকারি কর্মচারীর সাধারণ আচরণবিধির সাথে খাপ খায় না।
তদন্ত কমিটির গঠন এবং পিএসসির চূড়ান্ত মতামত
২০২১ সালে এই কেলেঙ্কারিটি ফাঁস হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সময়েই গোলাম সাকলায়েনকে ডিবি বা গোয়েন্দা বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। একই সাথে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধপ্তরের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ, সিডিআর রিপোর্ট, মেসেঞ্জার চ্যাট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনীত প্রতিটি অভিযোগের শতভাগ সত্যতা পায়।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান ঐতিহাসিক চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনীতির সমীকরণ
বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সাকলায়েনকে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যেহেতু তিনি একজন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাঁর এই শাস্তির বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের (পিএসসি) আনুষ্ঠানিক পরামর্শ ও মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সম্প্রতি পিএসসি (PSC) থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুকূলে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ পাঠানো হয়েছে। পিএসসির সেই আইনি গ্রিন সিগন্যাল বা মতামতের ওপর ভিত্তি করেই এখন সাকলায়েনের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরের চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ: সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে শাস্তি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসিতে পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনের এই কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে। চিঠির বিবরণ অনুযায়ী, সাকলায়েন পুলিশের একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে নায়িকা পরীমণির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে:
মো. গোলাম সাকলায়েন একজন বিবাহিত ব্যক্তি এবং তিনি এক সন্তানের জনক।
একজন সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারের প্রধান হয়েও তিনি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন।
সরকারি দায়িত্ব পালনের আড়ালে পরীমণির সঙ্গে জমকালোভাবে জন্মদিন উদযাপন করেছেন।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে একজন বহিরাগত নারীকে নিয়ে এসে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
এই ধরনের অনৈতিক ও অনভিপ্রেত ঘটনা কেবল পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ডকেই ধ্বংস করেনি, বরং সাধারণ জনগণের চোখে সামগ্রিকভাবে সরকারের এবং রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি অত্যন্ত মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন ও কালিমালিপ্ত করেছে। আর এই কারণেই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।
ঘটনার সামগ্রিক টাইমলাইন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের এক নজরে চিত্র
পাঠকদের সুবিধার্থে এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা সহজে বোঝার জন্য নিচে একটি বিবরণী টেবিল উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনার বিবরণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ |
| ১৪ জুন ২০২১ | ঢাকা বোট ক্লাবে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পরীমণি কর্তৃক সাভার থানায় মামলা দায়ের। |
| জুন ২০২১ | মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবি এডিসি গোলাম সাকলায়েনের দায়িত্ব গ্রহণ ও সম্পর্কের সূত্রপাত। |
| ৪ জুলাই – ৪ আগস্ট ২০২১ | টানা এক মাস ধরে সাকলায়েন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে পরীমণির বনানীর বাসায় রাত্রিযাপন ও অবস্থান। |
| ১ আগস্ট ২০২১ | স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে পরীমণির প্রবেশ এবং টানা ১৭ ঘণ্টা অবস্থান। |
| ২ আগস্ট ২০২১ (রাত ১:৩০) | রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টার থেকে পরীমণির প্রস্থান ও সিসিটিভি ফুটেজে তা ধারণ। |
| আগস্ট ২০২১ | অনৈতিক সম্পর্ক ফাঁসের পর সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি ও ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন। |
| ১৩ জুন ২০২৪ | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পিএসসির মতামত চেয়ে চিঠি প্রেরণ। |
| জুন ২০২৬ (বর্তমান) | পিএসসির মতামত প্রাপ্তি এবং প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের চূড়ান্ত স্বাক্ষর। |
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া
বহুল আলোচিত এবং স্পর্শকাতর এই বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অত্যন্ত সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন:
"বিষয়টি সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে বেশ আলোচিত এবং সংবেদনশীল হলেও, এই মুহূর্তে ফাইলটির সর্বশেষ আপডেট বা অগ্রগতির সুনির্দিষ্ট তথ্য আমার টেবিলে নেই। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলা শাখা এই বিষয়ে বিস্তারিত এবং ভালো বলতে পারবে।"
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই স্পর্শকাতর ও বিচারাধীন প্রশাসনিক বিষয়টি নিয়ে টেলিফোনে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রকার মন্তব্য বা বক্তব্য দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফাইলটি ইতিমধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে প্রেরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং যেকোনো দিন সাকলায়েনের বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপনটি সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।
উপসংহার: পুলিশ প্রশাসনের জন্য একটি সতর্কবার্তা
চিত্রনায়িকা পরীমণি এবং সাবেক ডিবি এডিসি গোলাম সাকলায়েনের এই ঘটনাটি বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশ্নে একটি বড় ধরণের ধাক্কা ছিল। একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত জীবনের অনৈতিকতার প্রভাব কীভাবে তাঁর পেশাগত জীবন এবং একটি পুরো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সুনামকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে, সাকলায়েনের এই বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য সকল সরকারি কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি কঠোর ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। আইন সবার জন্য সমান এবং পোশাকের আড়ালে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই—সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন দেশের সুশীল সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।