সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন ও সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী ও কল্যাণমুখী কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি সরকারি সেবা, জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং টেকসই স্বাবলম্বিতা পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় লক্ষ্য নিয়ে আজ শনিবার (১৮ জুলাই) শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ শহীদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই মহতী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এলাকার পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য উন্নত মানের সেলাই মেশিন এবং কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ঋতুকালীন সুরক্ষায় স্বয়ংক্রিয় 'ভেন্ডিং মেশিন' বিতরণ করেন সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সর্বস্তরের মানুষের আস্থাভাজন ও জনপ্রিয় জননেতা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, প্রফেসর ডক্টর এম এ মুহিত এমপি।
উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর আর্থিক বরাদ্দ ও বিশেষ কাঠামোর আওতায় এই বর্ণাঢ্য বিতরণ অনুষ্ঠানটির ডিজাইন করা হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে দেশ ছাড়ার ভাবনায় এক-চতুর্থাংশ ইসরায়েলি!
অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার: সেলাই মেশিন বিতরণ
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বাছাইকৃত দক্ষ অথচ অসচ্ছল নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ। প্রান্তিক নারীরা যেন শুধুমাত্র গৃহস্থালি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঘরে বসেই উপার্জনের একটি স্থায়ী পথ তৈরি করতে পারেন, সেই দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থেকে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেলাই মেশিন প্রাপ্তির মাধ্যমে অনেক পরিবার এখন থেকে নিজেদের পোশাকের চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে দর্জি কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। এটি তাদের পরিবারে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করবে এবং সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে এই স্বাবলম্বিতার উপহার সুবিধাভোগী নারীদের হাতে তুলে দেন।
নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন মাত্রা: ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন ও বিতরণ
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আধুনিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল নারীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত 'ভেন্ডিং মেশিন' (Vending Machine) বিতরণ ও স্থাপনের সিদ্ধান্ত। আমাদের গ্রামীণ ও মফস্বল সমাজে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য এবং বিশেষ করে ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা বা হাইজিন নিয়ে এখনো এক ধরনের সামাজিক জড়তা কাজ করে। এই জড়তা ভেঙে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে এই স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিনগুলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই আধুনিক পদক্ষেপের মূল সুবিধাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
জরুরি অ্যাক্সেস: এর মাধ্যমে খুব সহজেই এবং নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে ছাত্রীরা জরুরি সময়ে মানসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন।
ঝরে পড়া রোধ: বিদ্যালয়গুলোতে এই ব্যবস্থা থাকার ফলে পিরিয়ডকালীন দিনগুলোতে ছাত্রীদের স্কুল বা কলেজে অনুপস্থিত থাকার হার কিংবা ক্লাস থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
রোগ প্রতিরোধ: অপরিচ্ছন্নতার কারণে জরায়ুর বিভিন্ন জটিল রোগ ও ইনফেকশন থেকে গ্রামীণ কিশোরী ও নারীরা সুরক্ষিত থাকবেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত এই ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে রক্ষণশীলতা ভুলে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডক্টর এম এ মুহিত এমপি বর্তমান সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীদের বাদ দিয়ে বা পেছনে ফেলে রেখে একটি দেশের প্রকৃত ও টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত বৈপ্লবিক কাজ করে যাচ্ছে। শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের সাথে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
"শাহজাদপুর উপজেলাকে একটি আদর্শ, মডেল ও স্বাস্থ্যসম্মত সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই এডিপি প্রকল্পের আওতায় যে সেলাই ও ভেন্ডিং মেশিনগুলো বিতরণ করা হলো, তা যেন শতভাগ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার করা হয়। গ্রামীণ পর্যায়ে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের মন্ত্রণালয় নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং আগামীতেও এই ধরনের নারীবান্ধব কল্যাণমুখী প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।"
প্রশাসনের ভূমিকা ও সমাপনী প্রতিক্রিয়া
শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রীর এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মাঠপর্যায়ে এর যথাযথ বাস্তবায়ন তদারকি করার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠান শেষে সেলাই মেশিন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী পেয়ে উপস্থিত সাধারণ নারীদের মুখে আনন্দের হাসি দেখা যায়। সুবিধাভোগী কয়েকজন নারী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, এই উপহার তাদের জীবনে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে এবং এখন থেকে তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারবেন।
প্রশাসন এবং সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এই বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ শাহজাদপুরের সামাজিক উন্নয়নে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সংবাদ সূত্র: শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিচক্ষণ গণমাধ্যমকর্মী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।